রবিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৬, ০৯:৪০ পূর্বাহ্ন
Headline
Wellcome to our website...
কাঠামোগত ইসলামবিদ্বেষই কোরআন অবমাননার জন্ম দিয়েছে: ৩২৫ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকের বিবৃতি
প্রকাশ কাল | বুধবার, ৮ অক্টোবর, ২০২৫, ৩:৩৭ অপরাহ্ন
নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়, কোরআন অবমাননা, ইসলামোফোবিয়া, বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক, নাহিদ ইসলাম, মূল্যবোধ, ইউজিসি, ধর্মীয় স্বাধীনতা, ইসলামবিদ্বেষ
সংগৃহীত ছবি

নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ে কুরআন অবমাননার ঘটনাকে ‘বিচ্ছিন্ন অপরাধ নয়, বরং কাঠামোগত ইসলামবিদ্বেষের ফল’ বলে অভিহিত করেছেন দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও মেডিকেল কলেজের ৩২৫ জন শিক্ষক। বুধবার (৮ অক্টোবর) এক যৌথ বিবৃতিতে তারা এই অবস্থান জানান।

বিবৃতিতে বলা হয়,

“নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী অপূর্ব পাল সচেতনভাবে ও আত্মতৃপ্তির ভঙ্গিতে কোরআন পদদলিত করেছে এবং ভিডিও ধারণ করে প্রচার করেছে। এটি শুধু ধর্মীয় অবমাননা নয়, বরং একাডেমিক ও নৈতিকতার সীমা অতিক্রম করা এক জঘন্য অপরাধ।”

শিক্ষকেরা অভিযোগ করেন, দেশের অনেক বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে পরোক্ষভাবে ইসলাম চর্চাকে নিরুৎসাহিত করা হয়। সেখানে খেলাধুলা, যোগব্যায়াম বা মনোপরামর্শের বিশেষজ্ঞ থাকলেও মুসলিম শিক্ষার্থীদের জন্য ইমাম বা ইসলামিক স্কলার নিয়োগ প্রায় অসম্ভব। এমনকি ‘প্রেয়ার রুম’ নামে সাধারণ কক্ষ থাকলেও ইসলামী আচার পালনে শিক্ষার্থীরা নানা প্রতিবন্ধকতার মুখে পড়েন।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়,

“একদিকে ইসলামী চিন্তা বা হাদীসের উদাহরণ আনার কারণে শিক্ষককে চাকরিচ্যুত করা হয়, অন্যদিকে এলজিবিটি ও জেন্ডার আইডেন্টিটির মতো সমাজবিধ্বংসী ধারণা পাঠ্যসূচিতে অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে।”

সংগঠন ‘মূল্যবোধ’ কর্তৃক প্রকাশিত এ বিবৃতিতে বলা হয়, কুরআন অবমাননার সময় শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত থাকলেও কেউ বাধা দেননি—যা প্রশাসনিক ও নৈতিক ব্যর্থতার স্পষ্ট প্রমাণ।

সরকারের নিষ্ক্রিয়তা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয় বিবৃতিতে। এতে বলা হয়,

“রাখাল রাহা কর্তৃক ইসলাম অবমাননার পরও সরকার কার্যকর ব্যবস্থা নেয়নি, বরং ২০২৫ সালের সাইবার নিরাপত্তা অধ্যাদেশে ধর্ম অবমাননার শাস্তি হ্রাস করা হয়েছে।”

শিক্ষকেরা আরও অভিযোগ করেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘রেবিল’ নামের এক চরমপন্থী ট্রান্সজেন্ডার দুইজন শিক্ষককে হত্যার হুমকি দিলেও তার বিরুদ্ধে কোনো আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। সরকারের এই নীরবতা ইসলামবিদ্বেষীদের আরও উৎসাহিত করছে বলে তারা মনে করেন।

তারা বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনকে (ইউজিসি) ইসলামোফোবিয়ার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানান। বিবৃতিতে বলা হয়,

“নর্থ সাউথসহ সব বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ও একাডেমিক কাঠামোয় বিদ্যমান ইসলামবিদ্বেষী প্রবণতা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে চিহ্নিত ও সংস্কার করতে হবে। যেমন যৌন হয়রানির বিরুদ্ধে নীতিমালা আছে, তেমনি ইসলামোফোবিয়ার বিরুদ্ধেও নীতিমালা প্রণয়ন করতে হবে।”

শিক্ষকেরা আরও দাবি করেন, মুসলিম শিক্ষার্থীদের ধর্মীয় স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে প্রতিটি ক্যাম্পাসে ইমামসহ স্বতন্ত্র নামাজঘর বা মসজিদ স্থাপন করতে হবে। পাশাপাশি কুরআন অবমাননার দায়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সর্বোচ্চ আইনানুগ শাস্তি নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তারা।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়,

“রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে ইসলামবিদ্বেষ ও মুসলমানদের প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণের বিরুদ্ধে শূন্য সহনশীলতার নীতি গ্রহণ করতে হবে।”

৩২৫ জন স্বাক্ষরকারী শিক্ষকের মধ্যে রয়েছেন ৭৬ জন অধ্যাপক, ৫২ জন সহযোগী অধ্যাপক, ৮৩ জন সহকারী অধ্যাপক, ১০৯ জন প্রভাষক এবং ৫ জন অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক।

স্বাক্ষরকারীদের মধ্যে আছেন—ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. সৈয়দা লাসনা কবির ও ড. এম ওলিউর রহমান, বুয়েটের অধ্যাপক ড. এম এম কারিম, বুটেক্সের অধ্যাপক ড. মো. মাসুম, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. এনায়েত উল্যা পাটওয়ারী, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. শামীমা তাসনীম, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. তারেক মুহাম্মদ তওফিকুর রহমান এবং ঢাকা মেডিকেল কলেজের অধ্যাপক ডা. মো. আসাদুর রহমানসহ আরও অনেকে।

এই পাতার আরো খবর
Our Like Page