রবিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৬, ০৯:৩৯ পূর্বাহ্ন
Headline
Wellcome to our website...
চট্টগ্রামের সমস্যার নেপথ্যে ভারত: আবদুল হাই শিকদার ও মাহমুদুর রহমানের মন্তব্য
প্রকাশ কাল | বুধবার, ৮ অক্টোবর, ২০২৫, ১১:৪৯ অপরাহ্ন
পার্বত্য চট্টগ্রাম, ভারত, শান্তিচুক্তি, আবদুল হাই শিকদার, মাহমুদুর রহমান, রাওয়া ক্লাব, সেনাবাহিনী, ইউপিডিএফ, সন্তু লারমা, পাহাড়ি সমস্যা
সংগৃহীত ছবি

রাজধানীর মহাখালীর রিটায়ার্ড আর্মড ফোর্সেস অফিসার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন (রাওয়া) ক্লাবে অনুষ্ঠিত “সমস্যা সংকুল পার্বত্য চট্টগ্রাম: শান্তির অন্বেষণ” শীর্ষক মুক্ত আলোচনায় বক্তারা বলেছেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের অশান্তির নেপথ্যে ভারতের ভূমিকা রয়েছে। তারা অভিযোগ করেন, ভারত এই অঞ্চলকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করছে এবং শান্তিচুক্তির মাধ্যমে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে বিভাজন সৃষ্টি করেছে।

সভায় প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দৈনিক যুগান্তর সম্পাদক কবি আবদুল হাই শিকদার, আমার দেশ সম্পাদক মাহমুদুর রহমান, মেজর জেনারেল (অব.) মোহাম্মদ কামরুজ্জামান, এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) মাহমুদ হোসেন, রাওয়া চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) মোহাম্মদ আবদুল হক, মেজর জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর কবির তালুকদার এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মাহফুজ পারভেজসহ বিভিন্ন সামরিক কর্মকর্তা ও বিশিষ্ট নাগরিক।

সভায় যুগান্তর সম্পাদক আবদুল হাই শিকদার বলেন,

“পার্বত্য চট্টগ্রামের মূল সমস্যার কেন্দ্রে ভারত। এই অঞ্চলকে অশান্ত রাখার জন্য ভারত দীর্ঘদিন ধরে নেপথ্যে কাজ করছে। গুচ্ছগ্রাম নীতির মাধ্যমে বাঙালিদের স্থানচ্যুত করে ভারত এই অঞ্চলকে নিয়ন্ত্রণের সুযোগ পেয়েছে। এখনো আন্তর্জাতিক সহায়তা ও মানবাধিকারের নামে চাকমা ও মারমা গোষ্ঠীর প্রভাব বাড়ানো হচ্ছে, অথচ বাঙালিদের পাশে কেউ দাঁড়ায়নি।”

তিনি আরও বলেন,

“সেনাবাহিনীর জন্য যেমন জনসমর্থন দরকার, তেমনি জাতীয় ঐক্য দরকার। ভারতবিরোধী অবস্থান নিতে আমাদের ভয় পাওয়া উচিত নয়। গণমাধ্যমের একটি অংশ ও তথাকথিত বুদ্ধিজীবীরা ভারতের হয়ে কাজ করছে—এটাই আমাদের সবচেয়ে বড় সংকট।”

আমার দেশ সম্পাদক মাহমুদুর রহমান বলেন,

“শান্তিবাহিনী ভারতের তৈরি একটি অস্ত্র, যা বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ব্যবহার করা হয়। যখন ভারতের পছন্দের সরকার ক্ষমতায় থাকে না, তখনই এই অস্ত্র সক্রিয় হয়। শেখ হাসিনার আমলে এই সহযোগিতা সবচেয়ে বেশি দেখা গেছে।”

মূল প্রবন্ধে মেজর জেনারেল (অব.) মোহাম্মদ কামরুজ্জামান বলেন,

“ভারত এই অঞ্চলে রাজনৈতিক ও সামরিকভাবে জড়িত। সমস্যার সমাধান হবে কেবল দেশপ্রেম ও আত্মনির্ভরতার মাধ্যমে।”

রাওয়া চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) আবদুল হক জানান,

“পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য ৪০০ সেনা সদস্য জীবন দিয়েছেন। এই অঞ্চলের অখণ্ডতা রক্ষা আমাদের জাতীয় দায়িত্ব। আন্তর্জাতিক চক্রান্ত থেকে রক্ষার একমাত্র উপায় জাতীয় ঐক্য।”

আলোচনায় বক্তারা আরও বলেন, শান্তিচুক্তি সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। তাই চুক্তিটি পুনর্মূল্যায়ন ও প্রয়োজনে সংস্কার করা দরকার। পার্বত্য চট্টগ্রামে আদিবাসী, নৃগোষ্ঠী, সেটেলার বা সেটেলার বাঙালি — এসব বিভাজনমূলক শব্দ পরিহার করে “বাংলাদেশি নাগরিক” পরিচয়ে সবাইকে এক ছাতার নিচে আনতে হবে।

অধ্যাপক মাহফুজ পারভেজ বলেন,

“পাহাড়ের সংঘাতের মূল ইন্ধন আসে ভারতের দিক থেকে। ইউপিডিএফসহ স্থানীয় সশস্ত্র গ্রুপগুলো ভারতের ইঙ্গিতেই গুজব ছড়ায়। বাঙালি নেতৃত্বের ঘাটতির কারণে পাহাড়ের স্থায়ী সমাধান সম্ভব হয়নি।”

সভায় বক্তারা সেনাবাহিনীর উপস্থিতি বাড়ানো, চুক্তির পুনর্মূল্যায়ন, এবং দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় নীতি নির্ধারণে সমন্বিত উদ্যোগের আহ্বান জানান।

এই পাতার আরো খবর
Our Like Page