রবিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৬, ১২:০৪ পূর্বাহ্ন
Headline
Wellcome to our website...
ইসরাইলের বিতর্কিত উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী শ্যারন হাসকেল কে?
প্রকাশ কাল | বৃহস্পতিবার, ৯ অক্টোবর, ২০২৫, ১১:৩৭ পূর্বাহ্ন
শ্যারন হাসকেল, ইসরাইল উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী, ফিলিস্তিন ইস্যু, ইসলামবিদ্বেষ, ব্রিটেন, নেতানিয়াহু, নিউ হোপ পার্টি, গাজা যুদ্ধ, মধ্যপ্রাচ্য, ইসরাইল রাজনীতি
সংগৃহীত ছবি

ইসরাইলের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী শ্যারন হাসকেল সাম্প্রতিক সময়ে ইসলামবিদ্বেষী ও উসকানিমূলক মন্তব্যের কারণে আন্তর্জাতিক বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে।
প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর দল থেকে বের হয়ে গঠিত নিউ হোপ পার্টির সদস্য এই রাজনীতিককে এখন অনেকেই “ইসরাইলি সরকারের সবচেয়ে বিতর্কিত মুখ” হিসেবে আখ্যায়িত করছেন।

ব্রিটেনে ইসলামবিদ্বেষী মন্তব্য ও আচরণ

মিডলইস্ট আইয়ের প্রতিবেদনে বলা হয়, সম্প্রতি ব্রিটেনের ম্যানচেস্টারে এক ইহুদি উপাসনালয়ে হামলার ঘটনায় নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে গিয়ে হাসকেল বলেন,

“একজন ইহুদি হিসেবে আমি রাস্তায় নিরাপদ নই। আমার অস্তিত্বের কারণেই আমাকে হত্যার হুমকি দেওয়া হচ্ছে।”

পরদিন কনজারভেটিভ পার্টির সম্মেলনে অংশ নিয়ে তিনি যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারকে সমালোচনা করে বলেন,

“অতিরিক্ত ও নিয়ন্ত্রণহীন অভিবাসন, বিশেষ করে ইসলামপন্থী সম্প্রদায় থেকে আসা অভিবাসীরা ব্রিটিশ সমাজের মূল্যবোধ ক্ষতিগ্রস্ত করছে।”

তার এই বক্তব্যকে যুক্তরাজ্যের মুসলিম সংগঠন ও মানবাধিকার কর্মীরা “ইসলামবিদ্বেষী ও বিভাজনমূলক” বলে নিন্দা জানিয়েছেন।

গোপনে ভিডিও ধারণ করে কূটনৈতিক বিতর্ক

বছরের শুরুর দিকে হাসকেল ব্রিটিশ সংসদ সদস্যদের সফরকালে গোপনে ভিডিও ধারণ করে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দেন।
ভিডিওতে তিনি ব্রিটিশ এমপি এমিলি থর্নবেরিকে প্রশ্ন করেন,

“যদি কালই পশ্চিম তীরে নির্বাচন হয়, আপনি কি যেতে রাজি?”

থর্নবেরি উত্তর শুরু করতেই হাসকেল বাধা দিয়ে বলেন,

“নির্বাচন না হওয়ার কারণ হলো, পরদিন হামাস নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেবে।”

এই ভিডিও প্রকাশের পর ব্রিটিশ পররাষ্ট্র কমিটি একে “কূটনৈতিক শিষ্টাচার লঙ্ঘন” বলে কঠোর সমালোচনা করে।

ফিলিস্তিন ইস্যুতে উগ্র অবস্থান

ফিলিস্তিন বিষয়ে হাসকেল বহুবার বিতর্কিত মন্তব্য করেছেন। তিনি একবার বলেন,

“শান্তি তখনই সম্ভব, যখন ফিলিস্তিনিরা আমাদের ঘৃণা করার চেয়ে নিজেদের সন্তানদের ভালোবাসতে শিখবে।”

গাজার যুদ্ধে শিশু নিহতের ঘটনায় তিনি মন্তব্য করেন,

“এটা হামাসের প্রচারণা। পৃথিবীর কোনো যুদ্ধেই শিশু নিহত হওয়া অস্বাভাবিক নয়।”

আগস্টে দক্ষিণ সুদান সফরে গাজা উপত্যকার ফিলিস্তিনিদের জোরপূর্বক স্থানান্তরের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা চলছে বলে সংবাদ প্রকাশিত হয়। যদিও হাসকেল দাবি করেন, তার সফর ছিল “মানবিক সহায়তা বৃদ্ধির লক্ষ্যে”।

চরম ডানপন্থার সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা

হাসকেল ও তার সহযোগী কয়েকজন ইসরাইলি মন্ত্রী সাম্প্রতিক সময়ে ইউরোপীয় ডানপন্থী ও অভিবাসনবিরোধী গোষ্ঠীর প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করেছেন।

সম্প্রতি প্রবাসবিষয়ক মন্ত্রী আমিখাই চিকলি উগ্র-ডানপন্থী কর্মী টমি রবিনসনকে ইসরাইল সফরে আমন্ত্রণ জানান, যা নিয়ে তীব্র সমালোচনা হয়।

ব্রিটিশ ইহুদি সংগঠনগুলো—বোর্ড অব ডেপুটিজ অব ব্রিটিশ জিউস এবং জিউইশ লিডারশিপ কাউন্সিল—বিবৃতিতে বলে,

“দোষী সাব্যস্ত উগ্রবাদী টমি রবিনসনকে আমন্ত্রণ জানানো আমাদের সামাজিক সম্প্রীতির প্রচেষ্টাকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।”

এই অবস্থায়, শ্যারন হাসকেল এখন শুধু ফিলিস্তিন ইস্যুতেই নয়, বরং আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও ইসরাইলের উগ্র জাতীয়তাবাদী ও ইসলামবিদ্বেষী অবস্থানের প্রতীক হয়ে উঠছেন।

সূত্র: মিডলইস্ট আই, অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস

এই পাতার আরো খবর
Our Like Page