রবিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৬, ০৮:১২ পূর্বাহ্ন
Headline
Wellcome to our website...
মিরপুরের অগ্নিকাণ্ডে নিহতদের মুখ ঝলসে গেছে, পরিচয় শনাক্ত হবে ডিএনএ পরীক্ষায়
প্রকাশ কাল | মঙ্গলবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৫, ৩:৫৭ অপরাহ্ন
মিরপুর অগ্নিকাণ্ড, রূপনগর আগুন, ঢাকায় অগ্নিকাণ্ড, ফায়ার সার্ভিস, কেমিক্যাল গুদাম, গার্মেন্টস ফ্যাক্টরি আগুন, ডিএনএ পরীক্ষা, নিহতের পরিচয়
ছবি সংগৃহীত

মিরপুরের অগ্নিকাণ্ডে নিহতদের মুখ ঝলসে গেছে, পরিচয় শনাক্ত হবে ডিএনএ পরীক্ষায়

রাজধানীর মিরপুরের রূপনগর এলাকায় গার্মেন্টস ও রাসায়নিক গুদামে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ১৬ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের পরিচয় এখন পর্যন্ত শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি, কারণ আগুনে তাদের মুখ ও শরীর সম্পূর্ণ পুড়ে গেছে।

ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে, নিহতদের শনাক্ত করতে ডিএনএ পরীক্ষার প্রয়োজন হবে।

আগুন লাগার সময় ও উদ্ধার অভিযান

ফায়ার সার্ভিস জানায়, মঙ্গলবার (১৪ অক্টোবর) সকাল ১১টা ৪০ মিনিটের দিকে রূপনগরের শিয়ালবাড়ি এলাকার গার্মেন্টস কারখানা ও পাশের রাসায়নিক গুদামে আগুন লাগে।

খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের ১২টি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে।
সন্ধ্যা নাগাদ গার্মেন্টস অংশের আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হলেও, রাসায়নিক গুদামের আগুন তখনও জ্বলছিল।

ফায়ার সার্ভিসের বক্তব্য

ফায়ার সার্ভিসের পরিচালক (অপারেশন) লেফটেন্যান্ট কর্নেল তাজুল ইসলাম চৌধুরী সন্ধ্যায় এক ব্রিফিংয়ে বলেন—

“চারতলা ভবনের দ্বিতীয় ও তৃতীয় তলা থেকে ১৬টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। প্রচণ্ড তাপে তাদের মুখ সম্পূর্ণ ঝলসে গেছে, তাই পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব নয়। শুধুমাত্র ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমেই তাদের পরিচয় নিশ্চিত করা যাবে।”

তিনি আরও জানান, নিহতরা ভবনের দ্বিতীয় ও তৃতীয় তলার মাঝখানে আটকা পড়েছিলেন।
রাসায়নিক বিস্ফোরণ থেকে সৃষ্ট বিষাক্ত গ্যাসে তারা অচেতন হয়ে মারা যান।

রাসায়নিক গুদামে বিপদ রয়ে গেছে

লেফটেন্যান্ট কর্নেল তাজুল বলেন—

“গুদামে এখনো প্রবেশ করা বিপজ্জনক। আমরা লুপ মনিটর ও ড্রোনের মাধ্যমে ভেতরের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি। ভেতরে বিভিন্ন ধরনের রাসায়নিক থাকায় আগুন সম্পূর্ণ নেভাতে সময় লাগছে।”

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ওই গুদামে ৬–৭ প্রকার রাসায়নিক রাখা ছিল, এর মধ্যে—
ব্লিচিং পাউডার, পটাশ, এনজাইম, লবণ ও হাইড্রোজেন পারঅক্সাইডসহ আরও কয়েকটি রাসায়নিক রয়েছে।

অনুমোদন ছাড়াই চলছিল দুই প্রতিষ্ঠান

ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পোশাক কারখানা ও রাসায়নিক গুদাম—দুটিরই অগ্নিনিরাপত্তা লাইসেন্স বা অনুমোদন ছিল না।
ফলে আগুন লাগার পর দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং নিয়ন্ত্রণে আনতে বিলম্ব হয়।

মরদেহ পাঠানো হয়েছে ঢাকা মেডিকেলে

গার্মেন্টস অংশ থেকে উদ্ধার করা ১৬টি মরদেহ শনাক্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এলাকাটি ঘিরে রেখেছে এবং তদন্তের জন্য ঘটনাস্থলে নমুনা সংগ্রহ চলছে।

সূত্র: ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স, রূপনগর থানা পুলিশ, স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী।

এই পাতার আরো খবর
Our Like Page