রবিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৬, ০৬:৪৩ পূর্বাহ্ন
Headline
Wellcome to our website...
HSC পাশ ও GPA–৫ কম কেন, ব্যাখ্যা দিলেন শিক্ষা উপদেষ্টা সি আর আবরার
প্রকাশ কাল | বৃহস্পতিবার, ১৬ অক্টোবর, ২০২৫, ৯:০৪ পূর্বাহ্ন
এইচএসসি রেজাল্ট ২০২৫, শিক্ষা উপদেষ্টা, সি আর আবরার, জিপিএ ৫, পাশের হার, শিক্ষা মন্ত্রণালয়, শেখার সংকট, শিক্ষা সংস্কার
ছবি সংগৃহীত

এইচএসসিতে পাশ ও জিপিএ–৫ কম কেন, ব্যাখ্যা দিলেন শিক্ষা উপদেষ্টা সি আর আবরার

২০২৫ সালের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশের পর পাসের হার এবং জিপিএ–৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাওয়ার বিষয়টি নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক সি আর আবরার।

বৃহস্পতিবার (১৬ অক্টোবর) সকালে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন,

“ফলাফল মানে শুধু একটি পরিসংখ্যান নয়; এটি পরিবার, আশা, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যতের গল্প।”

তিনি বলেন, “আজকের দিনটি সহজ নয়—না শিক্ষার্থীদের জন্য, না অভিভাবকদের জন্য, না শিক্ষা প্রশাসনের জন্য। যাদের ফল প্রত্যাশামতো হয়নি, আমি জানি হতাশা আছে, কিন্তু এই মুহূর্তও শেখার অংশ। পরিশ্রম কখনোই বৃথা যায় না।”

ফলাফলের পতনের কারণ ব্যাখ্যা

পাসের হার ও জিপিএ–৫ কেন কমেছে—এমন প্রশ্নে শিক্ষা উপদেষ্টা বলেন,

“এর উত্তর জটিল নয়, বরং অস্বস্তিকর। শেখার সংকট বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় বহু আগেই শুরু হয়েছে। প্রাথমিক স্তর থেকেই শেখার ঘাটতি তৈরি হয় এবং বছর বছর তা সঞ্চিত হয়, কিন্তু আমরা সেই বাস্তবতার মুখোমুখি হতে চাইনি।”

তিনি যোগ করেন,

“আমরা এমন এক সংস্কৃতি তৈরি করেছিলাম যেখানে সংখ্যাই সত্য হয়ে উঠেছিল—পাসের হারই ছিল সাফল্যের প্রতীক, জিপিএ–৫–এর সংখ্যা ছিল তৃপ্তির মানদণ্ড। ফলে প্রকৃত শেখার সংকট আড়াল হয়। আজ আমি সেই সংস্কৃতির পরিবর্তন চাই।”

মূল্যায়নের সততা বনাম নম্বরের তৃপ্তি

সি আর আবরার বলেন,

“আমরা অতিরিক্ত নম্বর দিয়ে সন্তুষ্টি নয়, বরং ন্যায্য নম্বর দিয়ে সততাকে বেছে নিয়েছি। এ সিদ্ধান্ত সহজ নয়, কিন্তু প্রয়োজনীয়। যদি আজ বাস্তবতা স্বীকার না করি, তাহলে আগামী প্রজন্মের প্রতি আমরা অন্যায় করব।”

তিনি আরও জানান, শিক্ষা মন্ত্রণালয় ফলাফলকে ব্যর্থতা নয়, বরং আত্মসমালোচনার সুযোগ হিসেবে দেখছে।

“আমাদের প্রথম দায়িত্ব হলো নিজেদের ও পুরো ব্যবস্থাকে মূল্যায়নের আওতায় আনা। এখনই সময় শিক্ষাবোর্ড, শিক্ষক, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মিলিতভাবে শেখার ভবিষ্যৎ নিয়ে সততার সঙ্গে কথা বলার।”

স্ব-মূল্যায়ন ও বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন

শিক্ষা উপদেষ্টা জানিয়েছেন, প্রতিটি শিক্ষা বোর্ডকে তাদের মূল্যায়ন প্রক্রিয়া নিয়ে স্বতন্ত্র পর্যালোচনা প্রতিবেদন তৈরি করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি শিক্ষাবিদ, গবেষক ও নীতিনির্ধারকদের সমন্বয়ে একটি বিশেষজ্ঞ প্যানেল গঠন করা হচ্ছে।

এই কমিটি ডেটা বিশ্লেষণ করে শেখার মূল ঘাটতি চিহ্নিত করবে এবং প্রয়োজনীয় সংস্কারের সুপারিশ দেবে।

“আমাদের উদ্দেশ্য অভিযোগ নয়, সমাধান খোঁজা,”—জানান তিনি।

ফলাফলের সারসংক্ষেপ

এবারে গড় পাসের হার ৫৮.৮৩%

জিপিএ–৫ পেয়েছেন ৬৯,০৯৭ জন শিক্ষার্থী

গত বছর পাসের হার ছিল ৭৭.৭৮%, জিপিএ–৫ পেয়েছিলেন ১,৪৫,৯১১ জন

অর্থাৎ পাসের হার কমেছে প্রায় ১৯ শতাংশ, আর জিপিএ–৫ প্রায় অর্ধেকে নেমে গেছে

এই পাতার আরো খবর
Our Like Page