রবিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৬, ০৬:৪৭ পূর্বাহ্ন
Headline
Wellcome to our website...
গণঅভ্যুত্থানে হতাহতদের নিয়ে বিতর্ক, আসলে জুলাই যোদ্ধা কারা?
প্রকাশ কাল | শুক্রবার, ১৭ অক্টোবর, ২০২৫, ১২:১১ অপরাহ্ন
জুলাই যোদ্ধা, জুলাই শহীদ, জুলাই গণঅভ্যুত্থান, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়, অধ্যাপক ফারুক ই আজম, শহীদ তালিকা যাচাই, যশোর অগ্নিকাণ্ড, অন্তর্বর্তী সরকার, শহীদদের গেজেট, আহত তালিকা, রাজনৈতিক আন্দোলন, বাংলাদেশ রাজনীতি
সংগৃহীত ছবি

গণঅভ্যুত্থানে হতাহতদের তালিকা নিয়ে দেশে চলছে নতুন বিতর্ক। প্রশ্ন উঠেছে—আসলে কে সত্যিকারের জুলাই যোদ্ধা আর কে নয়?

মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা অধ্যাপক ফারুক ই আজম বলেন,

“স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে শহীদদের তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। জুলাই যোদ্ধা ও শহীদদের তালিকা যাচাই-বাছাইয়ের কাজ এখনো চলছে।”

গত বছরের ৫ আগস্ট, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশ ত্যাগের পর যশোরে সংঘটিত হামলা, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগে অন্তত ২৬ জন নিহত হন, যার মধ্যে একজন ছিলেন বিদেশি নাগরিক।

অভিযোগ রয়েছে, নিহতদের মধ্যে অনেকে হামলায় অংশ নিতে গিয়েই প্রাণ হারান। নিহত ২৪ জনের নাম অন্তর্বর্তী সরকারের ঘোষিত জুলাই শহীদদের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়। পরবর্তীতে একজনের নাম বাতিল করে প্রশাসন যাচাই শুরু করে।

একজন স্থানীয় সাংবাদিক জানান,

“দড়াটানা থেকে গাড়িখানা মোড়ে আসা একটি মিছিলে কয়েকজন মোটরবাইকে ছিলেন। হোটেলের সামনে ঢুকে পড়ে ভাঙচুর শুরু হয়। পরে আগুন লাগলে প্রথমে ফায়ার সার্ভিসকে ঢুকতে দেওয়া হয়নি।”

এর ফলে ‘জুলাই যোদ্ধা’ ও ‘শহীদ’ পরিচয়ের যথার্থতা নিয়ে দেশজুড়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

শুধু যশোর নয়, দেশের বিভিন্ন জেলা থেকেও অভিযোগ উঠেছে—আন্দোলনে অংশ না নিয়েও অনেকে শহীদ বা আহত তালিকায় যুক্ত হয়ে সরকারি সুযোগ-সুবিধা পাচ্ছেন।

যশোরের জেলা প্রশাসক মো. আজহারুল ইসলাম জানান,

“হোটেল অগ্নিকাণ্ডে নিহতদের বিষয়ে নতুন করে যাচাই চলছে। সঠিক তথ্য যাচাই নিশ্চিত করতে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে।”

নানা সমালোচনার মুখে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় জেলা প্রশাসকদের চিঠি পাঠিয়ে তালিকা পুনরায় যাচাইয়ের নির্দেশ দিয়েছে। সরকার জানিয়েছে, আন্দোলনে অংশ না নিয়েও যারা নাম অন্তর্ভুক্ত করেছেন, তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পরপরই আহত ও নিহতদের তালিকা তৈরির কাজ শুরু হয়।
চলতি বছরের জানুয়ারিতে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় ৮৩৪ জনের নাম শহীদের তালিকায় গেজেট করে, পরে আরও ১০ জনের নাম যুক্ত হয়।
৩০ জুন প্রকাশিত সর্বশেষ গেজেটে শহীদের সংখ্যা দাঁড়ায় ৮৪৪ জন। কিন্তু আন্দোলনে সরাসরি যুক্ত না থাকা এবং নামের পুনরাবৃত্তির কারণে ৮ জনের নাম বাতিল করা হয়—ফলে বর্তমানে শহীদের সংখ্যা ৮৩৬ জন।

অন্যদিকে আহতদের প্রথম তালিকায় ছিল ১২,০৪৩ জনের নাম, পরে আরও ১,৭৫৭ জন যুক্ত হয়ে মোট সংখ্যা দাঁড়ায় ১৩,৮০০ জনে।

অধ্যাপক ফারুক ই আজম আরও বলেন,

“জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ পরিবার ও জুলাই যোদ্ধাদের কল্যাণ ও পুনর্বাসন অধ্যাদেশ, ২০২৫–এ স্পষ্টভাবে বলা আছে—জুলাই যোদ্ধা বলতে বোঝায় তৎকালীন সরকারের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বা ক্ষমতাসীন দলের হামলায় আহত ছাত্র-জনতাকে। আর শহীদ বলতে বোঝায় সেই হামলায় নিহতদের। এর বাইরে কারো তালিকায় থাকার সুযোগ নেই।”

এই পাতার আরো খবর
Our Like Page