‘জুলাই সনদ’ স্বাক্ষরকে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ঐক্য ও সংস্কারের পথে বড় ধরনের অগ্রগতি হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার। তিনি বলেছেন, এই সনদ দেশের রাজনৈতিক পালাবদলের একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত এবং ২০২৬ সালের জাতীয় নির্বাচনকে সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক করতে নতুন সম্ভাবনার পথ খুলে দিয়েছে।
শুক্রবার (১৮ অক্টোবর) নিজের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে মাইকেল মিলার লিখেছেন, “জুলাই সনদ স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে যোগ দিতে পেরে আমি আনন্দিত। এই দলিল মৌলিক সংস্কার বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে গড়ে ওঠা ব্যাপক ঐকমত্যের প্রতিফলন।” তিনি আরও বলেন, “এটি বাংলাদেশের রাজনৈতিক পালাবদলের গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। ২০২৬ সালের নির্বাচনের পথে দেশটি ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে যাচ্ছে—এটি তারই প্রমাণ।”
‘জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫’–এ স্বাক্ষর করেছে বিএনপি ও জামায়াতসহ মোট ২৫টি রাজনৈতিক দল। এ সনদে সংবিধান সংস্কার, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের পুনঃপ্রতিষ্ঠা, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, সুশাসন এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার অঙ্গীকার করা হয়েছে। দলগুলোর মধ্যে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক মতপার্থক্য সত্ত্বেও এই ঐকমত্য বাংলাদেশে সংলাপ ও সংস্কৃতির নতুন ধারা সূচনা করেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে সমর্থন জানানোর মাধ্যমে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক উন্নয়ন প্রক্রিয়ায় পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন। মাইকেল মিলার বলেন, নির্বাচনপ্রক্রিয়া সহায়তায় ইইউ কারিগরি সহযোগিতা দিতে প্রস্তুত এবং প্রয়োজনে নির্বাচন পর্যবেক্ষক দল পাঠানো যেতে পারে।
গত এক দশকের বেশি সময় ধরে বাংলাদেশে সুশাসন ও প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহিতা বৃদ্ধিতে কাজ করছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন। অবাধ, নিরপেক্ষ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন নিশ্চিত করতে তারা বারবার রাজনৈতিক সংলাপ ও শান্তিপূর্ণ সমাধানের আহ্বান জানিয়ে এসেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, জুলাই সনদ কেবল একটি রাজনৈতিক চুক্তি নয়, বরং এটি বাংলাদেশের জন্য স্থিতিশীল রাজনৈতিক সংস্কৃতি গঠনের ভিত্তি হয়ে উঠতে পারে।


