রবিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৬, ০৫:১১ পূর্বাহ্ন
Headline
Wellcome to our website...
দ্য টেলিগ্রাফের প্রতিবেদন: মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলায় মৃত্যুদণ্ডের মুখোমুখি শেখ হাসিনা
প্রকাশ কাল | শনিবার, ১৮ অক্টোবর, ২০২৫, ৭:৩৬ পূর্বাহ্ন
শেখ হাসিনা, দ্য টেলিগ্রাফ, মৃত্যুদণ্ড, মানবতাবিরোধী অপরাধ, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল, বাংলাদেশ বিচার, ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান
সংগৃহীত ছবি

ক্তরাজ্যভিত্তিক শীর্ষস্থানীয় দৈনিক দ্য টেলিগ্রাফ এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, চলমান মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় দোষী সাব্যস্ত হলে মৃত্যুদণ্ডের মুখোমুখি হতে পারেন বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। শুক্রবার (১৭ অক্টোবর) প্রকাশিত প্রতিবেদনে এমন দাবি করা হয়।

দ্য টেলিগ্রাফের প্রতিবেদনে বলা হয়, ৭৮ বছর বয়সী শেখ হাসিনা বর্তমানে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে, তিনি রাষ্ট্রীয় বাহিনীকে বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহারের নির্দেশ দিয়েছিলেন, যার ফলে ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে প্রায় ১,৪০০ জন নিহত হন।

প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, প্রসিকিউশন অভিযোগ করেছে—দমন-পীড়নের সময় নিহতদের লাশ পুড়িয়ে ফেলা হয় এবং আহতদের চিকিৎসা বাধাগ্রস্ত করা হয়, যা ছিল সুপরিকল্পিত রাষ্ট্রীয় নিপীড়ন। তবে শেখ হাসিনা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

জাতিসংঘ মানবাধিকার কার্যালয়ের তথ্য উদ্ধৃত করে প্রতিবেদনে বলা হয়, তার ১৫ বছরের শাসনামলের অবসান ঘটে ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে। সে সময় ঢাকায় নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে একদিনেই অন্তত ৫২ জন নিহত হয়—যা বাংলাদেশের ইতিহাসে অন্যতম রক্তক্ষয়ী ঘটনা।

দ্য টেলিগ্রাফ আরও জানায়—

প্রধান প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম আদালতে বলেছেন, “শেখ হাসিনা ১,৪০০ বার মৃত্যুদণ্ডের যোগ্য। যেহেতু তা মানবিকভাবে সম্ভব নয়, আমরা অন্তত একটি মৃত্যুদণ্ড দাবি করছি।”

প্রসিকিউটর ময়নুল করিম দাবি করেন, ফোন রেকর্ড, অডিও, ভিডিও প্রমাণ ও সাক্ষ্য—সবই শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে।

আদালত ইতোমধ্যে শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছে।

ধারণা করা হচ্ছে, তারা বর্তমানে ভারতে অবস্থান করছেন।

এদিকে মামলার অন্যতম সাক্ষী ও অভিযুক্ত সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন আদালতে স্বীকার করেছেন যে, “শেখ হাসিনার নির্দেশেই হেলিকপ্টার ও ড্রোন থেকে আক্রমণ চালানো হয়।”

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রবিবার থেকে শেখ হাসিনার পক্ষে আইনজীবীরা যুক্তি উপস্থাপন শুরু করবেন এবং চূড়ান্ত রায় নভেম্বরের মধ্যভাগে ঘোষণা হতে পারে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে তার সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত ও নিলাম হতে পারে বলে দ্য টেলিগ্রাফ উল্লেখ বলেছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়:

শেখ হাসিনা ইতোমধ্যে আদালত অবমাননার দায়ে ছয় মাসের সাজাপ্রাপ্ত।

তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির মামলাও চলমান।

যুক্তরাজ্যের সাবেক মন্ত্রী ও লেবার পার্টির এমপি টিউলিপ সিদ্দিক, যিনি শেখ হাসিনার বোনপতি, তিনিও বাংলাদেশে অনুপস্থিত অবস্থায় বিচারাধীন।

অন্যদিকে, বাংলাদেশে আগামী ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা জানিয়ে দ্য টেলিগ্রাফ মন্তব্য করে—বিএনপি এখন ফেভারিট, তবে আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে নিষিদ্ধ।

এই পাতার আরো খবর
Our Like Page