গোপনে দেখা থেকে ইয়টে চুম্বন—জাস্টিন ট্রুডো ও কেটি পেরির প্রেম এখন আনুষ্ঠানিক
দুই ভুবনের দুই মানুষ—একজন রাজনীতিবিদ, কানাডার সাবেক প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো; অন্যজন আন্তর্জাতিক পপসংগীতের আইকন কেটি পেরি। দীর্ঘদিনের গোপন দেখা আর গুঞ্জনের পর এবার তাঁদের প্রেমের খবর আর গুজব নয়—সম্পর্কটি এখন প্রকাশ্যে ও আনুষ্ঠানিক।
চলতি বছরের গ্রীষ্মে প্রথমবার তাঁদের একসঙ্গে দেখা যায়। শুরুতে ধারণা করা হয়, দুজন কেবল বন্ধুই। কিন্তু মন্ট্রিয়ল, লস অ্যাঞ্জেলেস ও সান্তা বারবারায় বারবার একসঙ্গে দেখা যাওয়ার পর স্পষ্ট হয়ে যায়, বিষয়টি বন্ধুত্বের চেয়ে অনেক গভীর। কেটির কনসার্টে ট্রুডোর উপস্থিতি, নৈশভোজ, এমনকি ছুটির মুহূর্তে ইয়টে একান্ত সময়—সবই এখন বিনোদনজগতের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।
সম্পর্কের সূচনা
২০২৩ সালে স্ত্রী সোফি গ্রেগোয়ারের সঙ্গে ১৮ বছরের দাম্পত্য জীবনের ইতি টানেন জাস্টিন ট্রুডো। অন্যদিকে, কেটি পেরি আলাদা হন অভিনেতা অরল্যান্ডো ব্লুমের কাছ থেকে, যাঁর সঙ্গে তাঁর রয়েছে এক কন্যাসন্তান—ডেইজি। দুজনেরই জীবনে সেই সময় একাকিত্ব, এবং ঠিক তখনই শুরু হয় তাঁদের পরিচয় ও বন্ধুত্ব। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই বন্ধুত্ব গড়ায় ভালোবাসায়।
প্রথম প্রকাশ্য দেখা
২০২৫ সালের ২৮ জুলাই মন্ট্রিয়লে এক রোমান্টিক ডিনারে দেখা যায় ট্রুডো ও পেরিকে। উপস্থিত অতিথিরা তখনই বুঝেছিলেন—দুজনের মধ্যে বিশেষ এক রসায়ন কাজ করছে। এরপর ৩০ জুলাই কেটি পেরির কনসার্টে হাজির হন ট্রুডো। ‘ফায়ারওয়ার্ক’ গান গাওয়ার সময় মঞ্চের সামনে দাঁড়িয়ে পেরির দিকে তাকিয়ে থাকা ট্রুডোর সেই দৃশ্য ভাইরাল হয়। ভক্তরা বলেছিলেন, “এটাই তাঁদের প্রেমের প্রথম প্রকাশ।”
আলোচিত মুহূর্ত ও প্রতিক্রিয়া
গুজব আরও ঘনিয়ে আসে ৩ আগস্ট, যখন কেটির সাবেক সঙ্গী অরল্যান্ডো ব্লুম এক ব্যঙ্গাত্মক পোস্টে রসবোধ দেখান। এর পর ১১ অক্টোবর সান্তা বারবারা উপকূলে ইয়টে কেটি ও ট্রুডোর ঘনিষ্ঠ মুহূর্তের ছবি প্রকাশিত হয়। ক্যামেরায় ধরা পড়ে তাঁদের রোমান্টিক চুম্বনের দৃশ্য, যা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে সোশ্যাল মিডিয়ায়।
আনুষ্ঠানিক ঘোষণা
২৫ অক্টোবর ২০২৫-এ প্যারিসে কেটি পেরির জন্মদিন উপলক্ষে ক্রেজি হর্স ক্যাবারে অনুষ্ঠানে হাত ধরে উপস্থিত হন দুজন। তখনই প্রথমবারের মতো প্রকাশ্যে তাঁদের সম্পর্কের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসে। কেটি লাল পোশাকে, ট্রুডো কালো স্যুটে—হাসিমুখে বের হয়ে আসা সেই মুহূর্তেই বিশ্বের সামনে তাঁদের প্রেমের স্বীকৃতি সম্পন্ন হয়।
বিশ্বজুড়ে সংবাদমাধ্যম এখন সরগরম ট্রুডো-কেটি প্রেম নিয়ে। কেউ বলছেন—“রাজনীতি ও পপসংগীতের মিলন”, আবার কেউ বলছেন—“দুই দুনিয়ার ভালোবাসার গল্প”।
এমনিতেই কেটি পেরি তাঁর ক্যারিয়ারে একের পর এক হিট গান দিয়ে বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয়, আর ট্রুডো ছিলেন আধুনিক ও উদার মানসিকতার নেতা হিসেবে পরিচিত। এখন এই জুটি যেন হয়ে উঠেছেন প্রেম ও আলোচনার নতুন প্রতীক।


