টানা তৃতীয় মেয়াদে জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান: ‘আমরা জোট নয়, নির্বাচনী সমঝোতা চাই’
টানা তৃতীয় মেয়াদে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির নির্বাচিত হওয়ার পর বুধবার (৫ নভেম্বর) নিজ জন্মভূমি সিলেট সফরে যান ডা. শফিকুর রহমান। এ সময় তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে বলেন,
“পিআর পদ্ধতির নির্বাচনেই জনসমর্থন সবচেয়ে বেশি।”
তিনি স্পষ্ট করে জানান, জামায়াতে ইসলামী কোনো রাজনৈতিক জোট গঠনের সিদ্ধান্ত নেয়নি এবং নেবে না।
তার ভাষায়,
“আমরা জোট করব না। নির্বাচনী সমঝোতা করব। শুধু ইসলামী দল নয়, দেশপ্রেমিক ও প্রতিশ্রুতিশীল যারা আছেন, তারা সংযুক্ত হচ্ছেন। আগামীতে আরও অনেক দল এই নির্বাচনী সমঝোতায় যুক্ত হবেন। আমরা সবাইকে নিয়ে দেশ গড়তে চাই।”
আওয়ামী লীগ প্রসঙ্গে প্রতিক্রিয়া
সংবাদ সম্মেলনে এক সাংবাদিক প্রশ্ন করেন— “জামায়াত বলছে সবাইকে নিয়ে নির্বাচন করতে, এখানে সবাই বলতে আওয়ামী লীগকেও বোঝানো হচ্ছে কি?”
জবাবে ডা. শফিকুর রহমান পালটা প্রশ্ন করেন,
“আওয়ামী লীগ নিজেরাই তো নির্বাচন চায়নি। আপনারা কি তাদের ওপর জোর করে নির্বাচন চাপিয়ে দেবেন? তারা নির্বাচনে বিশ্বাসী, সেটা তারা প্রমাণ করতে পারেনি। যেটা তারা চায় না, সেটা তাদের ওপর চাপিয়ে দিলে জুলুম হবে না?”
তিনি আরও বলেন, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া পুনরুদ্ধারের জন্য জনগণের অংশগ্রহণই মূল শক্তি, এবং সেই প্রক্রিয়ায় জামায়াত সক্রিয় ভূমিকা রাখবে।
নির্বাচনী প্রস্তুতি ও জাতীয় ইস্যু
জামায়াত আমির জানান, দল ইতোমধ্যে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সাংগঠনিকভাবে প্রস্তুতি নিচ্ছে।
তিনি বলেন,
“নির্বাচন ফেব্রুয়ারির মধ্যে না হলে দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হতে পারে।”
এ সময় তিনি আরও বলেন,
“আমরা দেশের প্রবাসী নাগরিকদের স্বার্থ রক্ষায় কাজ করছি। একই সঙ্গে নতুন ভোটার তালিকা তৈরির সময়সীমা বাড়ানো দরকার, যাতে কেউ বাদ না পড়ে।”
সিলেটে উষ্ণ অভ্যর্থনা
জন্মভূমি সফরে সিলেটে পৌঁছালে জেলা ও মহানগর জামায়াতের হাজারো নেতাকর্মী মোটরসাইকেল ও গাড়ি শোডাউনের মাধ্যমে পুনর্নির্বাচিত আমিরকে বরণ করে নেন।
স্লোগানে মুখরিত এ অভ্যর্থনায় উপস্থিত নেতাকর্মীরা বলেন, ডা. শফিকুর রহমানের নেতৃত্বে জামায়াত নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতায় সংগঠনকে এগিয়ে নিয়ে যাবে।


