খুলনায় একমাত্র নারী প্রার্থী সাবিরা সুলতানা মুন্নী: স্বামীর মৃত্যু থেকে রাজনীতির শীর্ষে
নিজস্ব প্রতিবেদক | খুলনা | Qtv Bangla HD TV
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে খুলনা বিভাগের ৩৫টি আসনের মধ্যে মাত্র ২৬টিতে প্রার্থী দিয়েছে বিএনপি। এই ২৬ জনের তালিকায় একমাত্র নারী প্রার্থী হলেন যশোর-২ (ঝিকরগাছা-চৌগাছা) আসনের সাবিরা সুলতানা মুন্নী, যিনি সাবিরা নাজমুল মুন্নী নামেও পরিচিত। তিনি বর্তমানে বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য এবং ঝিকরগাছা উপজেলা বিএনপির সভাপতি।
স্বামীর মৃত্যুর পর রাজনীতিতে সক্রিয়
রাজনীতিতে সাবিরা মুন্নীর যাত্রা শুরু হয় এক ব্যক্তিগত শোকের মধ্য দিয়ে। তার স্বামী নাজমুল ইসলাম, যিনি যশোর জেলা বিএনপির কোষাধ্যক্ষ ও ঝিকরগাছা উপজেলা বিএনপির সভাপতি ছিলেন, ২০১১ সালে ঢাকা থেকে অপহরণের পর খুন হন।
এই মর্মান্তিক ঘটনার পরই সাবিরা মুন্নী রাজনীতিতে সক্রিয় হয়ে ওঠেন। দলের প্রতি আনুগত্য ও স্থানীয় পর্যায়ে শক্ত নেতৃত্বের কারণে ২০১৪ সালের উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী হিসেবে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন, প্রায় ত্রিশ হাজার ভোটের ব্যবধানে জয়লাভ করে আলোচনায় আসেন তিনি।
দলীয় নেতৃত্ব ও জনপ্রিয়তা
বর্তমানে সাবিরা নাজমুল মুন্নী শুধু রাজনৈতিক নেতা নন, বরং খুলনা অঞ্চলে নারীদের নেতৃত্বে এক প্রতীকী উপস্থিতি তৈরি করেছেন। দলের কঠিন সময়েও তিনি রাজপথে সক্রিয় ছিলেন, একাধিক হামলা ও মামলার মধ্যেও স্থানীয় সংগঠনকে ঐক্যবদ্ধ রেখেছেন।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, তার মাঠ পর্যায়ের তৎপরতা, নারীদের মধ্যে প্রভাব ও জনপ্রিয়তা বিবেচনা করেই কেন্দ্র তাকে মনোনয়ন দিয়েছে।
তিনি বলেন—
“স্বামীর মৃত্যুর পর ঝিকরগাছা ও চৌগাছার সাধারণ মানুষের ভালোবাসায় আমি এগিয়ে গেছি। মানুষের সঙ্গে জনপ্রতিনিধির আত্মার সম্পর্ক থাকতে হয়। আমি সেটি করতে পেরেছি।”
সাবিরা মুন্নীর বক্তব্যে উঠে এসেছে নারীর শক্তি ও আত্মবিশ্বাসের প্রতিচ্ছবি—
“আমার আসনে অর্ধেকের বেশি ভোটার নারী। নারীর অধিকার আদায়ে আমি অনেক কাজ করেছি। নারীরা তাদের পছন্দের প্রার্থী হিসাবে আমাকে বেছে নেবেন।”
প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াত প্রার্থী
অন্যদিকে, এই আসনে জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী শিশু হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. মোসলেহ উদ্দিন ফরিদ ইতিমধ্যে প্রচারে নেমেছেন। তিনি আগের নির্বাচনের জোট প্রার্থী আবু সাঈদ মুহাম্মদ শাহাদাৎ হুসাইনের রাজনৈতিক উত্তরসূরি হিসেবে মাঠে আছেন।
২০০১ সালে জোটের প্রার্থী হিসেবে বিজয়ী হয়েছিলেন জামায়াতের প্রার্থী। ২০০৮ ও ২০১৮ সালেও জোটের পক্ষ থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে জামানত হারান তারা। এবার সেই একই মাঠে বিএনপি ও জামায়াত প্রার্থীর মুখোমুখি লড়াই নিয়ে তৈরি হয়েছে বাড়তি আগ্রহ।
মনোনয়ন বঞ্চিতদের প্রতিক্রিয়া
দলীয় অভ্যন্তরে কিছু মনোনয়ন প্রত্যাশী থাকলেও, সাবিরা মুন্নী বলেন—
“বিএনপি একটি বৃহৎ দল। সবাইকে মনোনয়ন দেওয়া সম্ভব নয়। দল যাকে মনোনীত করবে, তার পক্ষেই সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করবে।”
তিনি আরও বলেন,
“সাময়িক মন খারাপ থাকলেও আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে ধানের শীষের বিজয় নিশ্চিত করব।”
নারী নেতৃত্বের প্রতীক
দলের অনেক নেতা সাবিরা মুন্নীকে “দলের সংকটে নারী নেতৃত্বের প্রতীক” বলে অভিহিত করছেন। খুলনা অঞ্চলে নারীদের অংশগ্রহণ বাড়াতে ও রাজনৈতিক সমীকরণে ভারসাম্য আনতে তার প্রার্থিতা বিএনপির জন্য কৌশলগত সিদ্ধান্ত বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।


