আন্তর্জাতিক ডেস্ক | Qtv Bnagla | ইসলামাবাদ, ৫ নভেম্বর ২০২৫
পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের হরিপুর জেলার তারবেলা এলাকায় বিশাল সোনার খনি আবিষ্কারের দাবি উঠেছে। পাকিস্তান ফেডারেশন অব চেম্বারস অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এফপিসিসিআই) সাবেক সিনিয়র সহসভাপতি ও এয়ার করাচির চেয়ারম্যান হানিফ গওহর জানিয়েছেন, আবিষ্কৃত খনিতে প্রায় ৬৩৬ বিলিয়ন ডলার মূল্যের সোনা মজুত রয়েছে।
পাকিস্তানি গণমাধ্যম দ্য এক্সপ্রেস ট্রিবিউন জানিয়েছে, সোমবার (৩ নভেম্বর) করাচি প্রেস ক্লাবে এক আলোচনা সভায় হানিফ গওহর এ তথ্য প্রকাশ করেন। তিনি বলেন,
“তারবেলায় পাওয়া এই বিশাল স্বর্ণ মজুত পাকিস্তানের অর্থনীতিকে পাল্টে দিতে পারে। এটি দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় প্রাকৃতিক সম্পদ আবিষ্কার হতে পারে।”
হানিফ গওহর জানান, খননকাজ শুরুর প্রস্তুতির জন্য ইতিমধ্যে অস্ট্রেলিয়া ও কানাডার দুটি ড্রিলিং কোম্পানির সঙ্গে প্রাথমিক যোগাযোগ করা হয়েছে। বর্তমানে প্রয়োজন শুধু সরকারের আনুষ্ঠানিক অনুমোদন। তিনি বলেন,
“প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ পেলেই তারবেলার মাটির নিচ থেকে সোনা উত্তোলনের কাজ শুরু হবে। এতে কয়েক লাখ মানুষের কর্মসংস্থানও সৃষ্টি হবে।”
তবে পাকিস্তান সরকারের পক্ষ থেকে এখনো এ বিষয়ে কোনো সরকারি ঘোষণা বা যাচাইকৃত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। দেশটির খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় বলছে, বিষয়টি যাচাই-বাছাইয়ের পরই আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেওয়া হবে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, তথ্যটি সত্য হলে পাকিস্তানের অর্থনীতিতে একটি বড় পরিবর্তন আনতে পারে। দেশটি বর্তমানে বৈদেশিক মুদ্রার ঘাটতি, রিজার্ভ সংকট ও ঋণচাপে ভুগছে। ফলে এত বিশাল স্বর্ণভান্ডার আবিষ্কার পাকিস্তানের অর্থনৈতিক অবস্থার জন্য “গেমচেঞ্জার” হিসেবে কাজ করতে পারে।
খাইবার পাখতুনখোয়া অঞ্চলে পূর্বেও ছোট পরিসরে তামা, লোহা ও স্বর্ণ আকরিকের উপস্থিতি পাওয়া গিয়েছিল। তবে তারবেলার এই নতুন আবিষ্কার, যদি সত্য হয়, সেটি হবে পাকিস্তানের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় স্বর্ণখনি।
স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, খনির এলাকা ঘিরে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। একই সঙ্গে এলাকাটিতে ভূতাত্ত্বিক জরিপ চালাচ্ছে সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ দল।
💬 স্থানীয় প্রতিক্রিয়া
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, কয়েক সপ্তাহ ধরেই এলাকাজুড়ে ড্রিলিং যন্ত্রপাতি বসানোর প্রস্তুতি লক্ষ্য করা গেছে। তারা আশা করছেন, প্রকল্পটি শুরু হলে স্থানীয় অর্থনীতিতে গতি আসবে এবং বেকার যুবকদের জন্য নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে।
তবে কিছু বিশেষজ্ঞ সতর্ক করে বলেছেন, সরকারি তত্ত্বাবধান ছাড়া এই ধরনের ঘোষণার মাধ্যমে অর্থনৈতিক জল্পনা বা বিনিয়োগ বিভ্রান্তি ছড়ানোর ঝুঁকি থাকে। তাই বিষয়টি নিশ্চিত করতে সরকারের আনুষ্ঠানিক geological survey জরুরি।


