বরিশালের ৫টি আসনে প্রার্থী দেয়নি বিএনপি, জামায়াতের মনোনয়ন নিয়ে রহস্য
নিজস্ব প্রতিবেদক | বরিশাল | Qtv Bangla HD TV
বরিশাল বিভাগের পাঁচটি আসনে প্রার্থী ঘোষণা না করে রাজনৈতিক অঙ্গনে বড় ধরণের জল্পনা-কল্পনা তৈরি করেছে বিএনপি। এর মধ্যে তিনটি আসনেই প্রভাবশালী জামায়াত নেতাদের সক্রিয় উপস্থিতি দেখা যাচ্ছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, নির্বাচনের আগে জামায়াতকে পাশে রেখে কৌশলগত জোট গঠনের ইঙ্গিত দিচ্ছে বিএনপি।
এর মধ্যে পিরোজপুর-২ আসনে জামায়াত নেতা মরহুম দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর ছেলে শামিম সাঈদী, পিরোজপুর-১ আসনে তার ভাই মাসুদ সাঈদী এবং পটুয়াখালী-২ আসনে ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ প্রার্থী হয়েছেন জামায়াতের হয়ে। বিএনপি এসব আসনে প্রার্থী না দেওয়ায় রাজনীতিতে নতুন করে জোট ও সমঝোতার রহস্য ঘনীভূত হয়েছে।
বিএনপির ভেতরে আলোচনা ও জটিলতা
বরিশালের ২১টি নির্বাচনি এলাকার মধ্যে ১৬টিতে প্রার্থী দিয়েছে বিএনপি। বাকী ৫টি আসন ফাঁকা রেখেছে দলটি—যেখানে জামায়াত বা সমমনা দলের প্রার্থীরা আলোচনায়।
বিএনপির নেতাদের একাংশ বলছেন, জোট সমন্বয় ও আসন বণ্টনজনিত জটিলতার কারণেই ঘোষণা বিলম্বিত। তবে অনেকেই মনে করছেন, জামায়াতের সঙ্গে “অঘোষিত বোঝাপড়া” এরই মধ্যে তৈরি হয়েছে।
বরিশাল দক্ষিণ জেলা বিএনপির সদস্য সচিব অ্যাড. আবুল কালাম শাহিন বলেন,
“বরিশাল-৩ আমাদের নিশ্চিত আসন। কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় আছি। দলের স্বার্থেই সব কিছু হবে।”
অন্যদিকে, স্থানীয় নেতারা অভিযোগ করছেন, কেন্দ্রীয়ভাবে কিছু আসন “সমঝোতার অংশ” হিসেবে রাখা হয়েছে—যেখানে বিএনপি প্রার্থী না দিয়ে সমমনা প্রার্থীদের সুযোগ দিতে পারে।
জোট রাজনীতির সম্ভাব্য হিসাব
পটুয়াখালী-৩ আসনে প্রার্থী হননি বিএনপি। সেখানে প্রতিদ্বন্দ্বিতার প্রস্তুতি নিচ্ছেন গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর। স্থানীয় বিএনপি এই সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ। জেলা বিএনপি সভাপতি স্নেহাংশু সরকার কুট্টি বলেন,
“আমাদের নিশ্চিত আসন অন্য কাউকে দেওয়া মানে কর্মীদের মনোবল ভেঙে দেওয়া।”
অন্যদিকে বরিশাল-৩ আসনে প্রার্থী নিয়ে অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। সাত্তার খান, বেগম সেলিমা রহমান ও অ্যাড. জয়নাল আবেদিন—তিনজনেই শক্ত প্রার্থী দাবি করছেন আসনটি। সূত্র জানায়, সাত্তার খানকে কেন্দ্র করে দলীয় সমীকরণে বিভাজন তৈরি হয়েছে।
জামায়াতের প্রভাব ও কৌশল
পিরোজপুর-২ আসনে সুমন মঞ্জুরকে মনোনয়ন দিয়ে বিএনপি আসলে জামায়াত প্রার্থী শামিম সাঈদীকে সুবিধা দিচ্ছে—এমন অভিযোগ উঠেছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও স্থানীয়রা লিখছেন, “বিএনপি প্রার্থী দিয়েও জামায়াতকে আসন ছেড়ে দিল।”
জামায়াতের স্থানীয় নেতারা বিষয়টি নিয়ে মন্তব্য না করলেও, তাদের নির্বাচনি তৎপরতা দেখে রাজনৈতিক মহল বলছে—বরিশাল অঞ্চলে জামায়াতের পুনরুত্থানের ইঙ্গিত স্পষ্ট।
ঝালকাঠি আসন ও ভবিষ্যৎ সমীকরণ
ঝালকাঠি-১ আসনেও প্রার্থী ঘোষণা করেনি বিএনপি। শোনা যাচ্ছে, এই আসনটি লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান বা ড. জিয়াউদ্দিন হায়দারকে দেওয়া হতে পারে।
কেন্দ্রীয় সহসাংগঠনিক সম্পাদক আকন কুদ্দুসুর রহমান বলেন,
“প্রার্থী নির্বাচনে সময় নিচ্ছে কেন্দ্র। ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত হবে।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বিএনপি এখন সমমনা দলগুলোর সঙ্গে আস্থা পুনর্গঠনের পথে আছে। নির্বাচনের আগে এই আসনগুলোই হতে পারে নতুন জোট রাজনীতির পরীক্ষাগার।


