দেশজুড়ে ভেজাল খাদ্য এখন নীরব ঘাতকে পরিণত হয়েছে।
চাল, ডাল, মসলা, ফল, দুধ, এমনকি শিশুখাদ্য—সবখানেই মেশানো হচ্ছে বিষাক্ত কেমিক্যাল ও ক্ষতিকর রং।
বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের এক গবেষণায় দেখা গেছে, সংগৃহীত খাদ্য নমুনার ৫২ শতাংশ দূষিত।
এগুলোর অনেকগুলোতেই পাওয়া গেছে ইউরোপীয় মানের চেয়ে তিন থেকে বিশ গুণ বেশি ডিডিটি ও বিষাক্ত উপাদান।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ফল পাকাতে ব্যবহৃত হচ্ছে কার্বাইড ও ফরমালিন, মাছ ও মুরগিতে ব্যবহার হচ্ছে নিষিদ্ধ অ্যান্টিবায়োটিক।
মাঠপর্যায়ের কৃষিপণ্যেও দেওয়া হচ্ছে বিষাক্ত কীটনাশক—যা সরাসরি মানুষের শরীরে প্রবেশ করছে।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. শামীম আহমেদ বলেন—
“ভেজাল ও অস্বাস্থ্যকর খাবার এখন নীরব ঘাতকে পরিণত হয়েছে। সবকিছু চোখের সামনেই হচ্ছে, অথচ প্রতিকার নেই।
শিশুদের বৃদ্ধি ব্যাহত হচ্ছে, বাড়ছে ক্যানসার, কিডনি ও লিভারের জটিল রোগ। এভাবে চলতে থাকলে মানুষের জীবন বিপন্ন হয়ে পড়বে।”
কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) ভাইস প্রেসিডেন্ট এসএম নাজের হোসাইন জানান,
সরকার একাধিক আইন করলেও কার্যকর প্রয়োগের অভাবে সাধারণ মানুষ সুফল পাচ্ছে না।
আইন অনুযায়ী মৃত্যুদণ্ড পর্যন্ত শাস্তি থাকলেও ভেজালকারীরা বেশিরভাগ ক্ষেত্রে রেহাই পাচ্ছে।
বিএসটিআই’র পরীক্ষায় দেখা গেছে, বাজারে পাওয়া ৭৪টি জনপ্রিয় ব্র্যান্ডের পণ্য নিম্নমানের বা ভেজালযুক্ত।
আদালত এসব পণ্য বাজার থেকে প্রত্যাহারের নির্দেশ দিলেও বাস্তবে তা কার্যকর হয়নি।
বিএসটিআইয়ের পরিচালক মো. সাইফুল ইসলাম বলেন,
“অসাধু ব্যবসায়ীদের নতুন কৌশলের কারণে ভেজাল প্রতিরোধ কঠিন হয়ে পড়ছে। এ অবস্থা কাটাতে সবাইকে সচেতন হতে হবে।”
এদিকে, জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক আব্দুল জব্বার মণ্ডল জানিয়েছেন—
প্রতিদিন সারা দেশে অভিযান চলছে, অসাধু ব্যবসায়ীদের জরিমানা করা হচ্ছে, তবে জনস্বার্থে এই অভিযান আরও জোরদার করতে হবে।
বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের সদস্যরা মনে করেন, শুধু আইন নয়—জনসচেতনতা ও সামাজিক জবাবদিহিতাই পারে এই ভয়াবহ সংকট থেকে দেশকে রক্ষা করতে।
দেশজুড়ে ভেজাল খাদ্যের ছড়াছড়ি—বিপন্ন হচ্ছে জনস্বাস্থ্য, উদ্বেগ বাড়ছে সাধারণ মানুষের মধ্যে।


