শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬, ১১:৫৮ অপরাহ্ন
Headline
Wellcome to our website...
সংবিধানে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা ফেরাতে আপিল বিভাগে বিএনপির আর্জি
প্রকাশ কাল | বুধবার, ৫ নভেম্বর, ২০২৫, ৯:৫৬ পূর্বাহ্ন
তত্ত্বাবধায়ক সরকার, বিএনপি, আপিল বিভাগ, সংবিধান, ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল, প্রধান বিচারপতি, ত্রয়োদশ সংশোধনী, পঞ্চদশ সংশোধনী, বাংলাদেশ রাজনীতি
ছবি: সংগৃহীত

সংবিধানে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা ফেরাতে আপিল বিভাগে বিএনপির আর্জি

নির্বাচনে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা পুনর্বহালের দাবিতে আপিলের শুনানি শেষে সংবিধানে পুনরায় এ ব্যবস্থা অন্তর্ভুক্ত করার আর্জি জানিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)।
বুধবার (৫ নভেম্বর) সকাল ৯টা ৫০ মিনিট থেকে প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বে সাত বিচারপতির পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে এ শুনানি অনুষ্ঠিত হয়।

বিএনপির পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল, যিনি যুক্তি তুলে ধরে বলেন,

“তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাতিল করায় জাতির ভাগ্যে অমানিশা নেমে এসেছিল। এই ব্যবস্থা সংবিধানের মৌলিক কাঠামোর অংশ এবং জনগণের ভোটাধিকার সুরক্ষার ভিত্তি।”


রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি ও আদালতের পরবর্তী পদক্ষেপ

বিএনপির যুক্তি উপস্থাপন শেষে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি শুরু করেন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল অনীক আর হক
এর আগে টানা কয়েকদিন— ২১, ২২, ২৩, ২৮, ২৯ অক্টোবর, ২ ও ৪ নভেম্বর— তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা ফেরাতে আপিলের শুনানি অনুষ্ঠিত হয়।

গত ২৭ আগস্ট, তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিলের রায় পুনর্বিবেচনার (রিভিউ) আবেদন শুনানি শেষে আপিলের অনুমতি দেন আদালত
এরপর বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, জামায়াতে ইসলামী সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার এবং নাগরিক সংগঠন সুজনের সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদারসহ পাঁচ বিশিষ্ট ব্যক্তি এই বিষয়ে আলাদা আপিল করেন।


তত্ত্বাবধায়ক সরকারের পটভূমি

বাংলাদেশের সংবিধানে ত্রয়োদশ সংশোধনীর মাধ্যমে ১৯৯৬ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা অন্তর্ভুক্ত করা হয়, যা নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ প্রশাসনের নিশ্চয়তা দেয়।
কিন্তু ২০১১ সালের ১০ মে, আপিল বিভাগের সাত বিচারপতির পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ সংখ্যাগরিষ্ঠ মতের ভিত্তিতে এই সংশোধনীকে অসাংবিধানিক ঘোষণা করে বাতিল করেন।
পরবর্তীতে একই বছরের ৩০ জুন, জাতীয় সংসদে পঞ্চদশ সংশোধনী আইন পাস করে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা পুরোপুরি বিলোপ করা হয়।

রায়ের পর ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সরকার পরিবর্তনের পর এ রায় পুনর্বিবেচনার আবেদন করেন বদিউল আলম মজুমদার, তোফায়েল আহমেদ, এম হাফিজউদ্দিন খান, জোবাইরুল হক ভূঁইয়া ও জাহরা রহমানসহ পাঁচ বিশিষ্ট নাগরিক।


রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে গুরুত্ব

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা পুনর্বহালের দাবি এখনো দেশের নির্বাচনী রাজনীতিতে কেন্দ্রীয় ইস্যু হিসেবে বিদ্যমান।
বিএনপি মনে করে, এই ব্যবস্থা ফিরলে জনগণ আবারও অবাধ ও নিরপেক্ষভাবে ভোট দিতে পারবে।
তবে সরকারপক্ষ বলছে, সংবিধান সংশোধনীর মাধ্যমে বিলোপ হওয়ায় এটি পুনর্বহাল করা সম্ভব নয়।

এই পাতার আরো খবর
Our Like Page