শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬, ১০:১১ অপরাহ্ন
Headline
Wellcome to our website...
দেশীয় গরুর জাত সংরক্ষণে উৎপাদনশীলতা বাড়ানোর আহ্বান উপদেষ্টার
প্রকাশ কাল | বৃহস্পতিবার, ৬ নভেম্বর, ২০২৫, ৩:১৯ পূর্বাহ্ন
দেশীয় গরু, গরু জাত সংরক্ষণ, প্রাণিসম্পদ উন্নয়ন, ফরিদা আখতার, এলডিডিপি, এফএও, জলবায়ু সহনশীলতা, বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ
ছবি: সংগৃহীত

দেশীয় গরুর জাত সংরক্ষণে গুরুত্ব — উৎপাদনশীলতা বাড়াতে স্থানীয় জাত রক্ষা জরুরি

ঢাকা, ৬ নভেম্বর: মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার দেশের দেশীয় গরুর বিভিন্ন স্থানীয় জাতের সংরক্ষণ ও উন্নয়ন করে উৎপাদনশীলতা বাড়াতে সরকারি ও বেসরকারি স্তরে ধ্রুবক উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, স্থানীয় গরু প্রজাতিগুলো বহু প্রজন্ম ধরে বাংলাদেশি পরিবেশে খাপ খাইয়ে এসেছে এবং এগুলোতে থাকা অনন্য জেনেটিক বৈশিষ্ট্য ভবিষ্যতের টেকসই প্রাণিসম্পদ উন্নয়নে অমূল্য সম্পদ হিসেবে বিবেচিত হওয়া উচিত।

এই আহ্বান তিনি দিয়েছেন বুধবার দুপুরে রাজধানীর এক হোটেলে অনুষ্ঠিত জাতীয় স্টেকহোল্ডারদের ভ্যালিডেশন কর্মশালা—‘স্কেলিং-আপ লাইভস্টক ক্লাইমেট অ্যাকশন্স টু এনহান্স ন্যাশনালি ডিটারমাইন্ড কন্ট্রিবিউশন্স (ফেজ-২)’ অনুষ্ঠানে। অনুষ্ঠানে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. আবু সুফিয়ান সভাপতিত্ব করেন।

উপদেষ্টা ফরিদা আখতার কর্মশালায় বলেন, গত কয়েক দশকে উন্নত ও সংকর প্রজাতির দিকে একতরফা ঝোঁক প্রাণিসম্পদ খাতকে দ্রুত আধুনিক করলেও এতে জেনেটিক বৈচিত্র্য হ্রাস পেয়েছে। যদি দেশীয় জাতের সংরক্ষণ না করা হয় তাহলে জলবায়ু পরিবর্তন ও রোগ-জীবাণু মোকাবেলায় ভবিষ্যতে ঝুঁকি বাড়বে। তিনি আরও বলেন, “আমরা শুধু সংকর জাতের ওপর নির্ভর করলে দীর্ঘমেয়াদি ঝুঁকি গ্রহণ করছি — তাই দেশীয় জাতের জিন-ব্যাংক সৃষ্টি, প্রজননকৌশল ও সম্প্রসারণ কর্মসূচি জরুরি।”

কর্মশালায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (FAO) প্রতিনিধি জিয়াওকুন শি ও বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক ড. শাকিলা ফারুক। FAO-এর প্রাণিসম্পদ ও জলবায়ু পরিবর্তন বিশেষজ্ঞ জ্যাঁ দে দ্যু আয়াবাগাবোও ভার্চুয়ালি বক্তব্যে অংশ নেন। তারা জানান, গবাদিপশু খাতকে জলবায়ু সহনশীল করতে স্থানীয় প্রজাতির সংরক্ষণ ও ক্ষুদ্র ও মাঝারি খামারিদের সক্ষমতা বৃদ্ধি কার্যকর উপায় হবে।

এলডিডিপি (LDLD Project) প্রকল্পের উপ-পরিচালক ড. শাকিফ-উল-আজম ‘দুগ্ধ ও গরুর মাংস উৎপাদন ব্যবস্থায় গ্রিনহাউজ গ্যাস নির্গমন হ্রাস’ বিষয়ে প্রকল্পের অর্জন এবং পরবর্তী পদক্ষেপ উপস্থাপন করেন। বক্তারা একমত পোষণ করেন যে, গবাদিপশু উৎপাদনে পরিবেশগত প্রভাব কমাতে টেকসই প্রযুক্তি, সঠিক আহার ব্যবস্থাপনা ও স্থানীয় জাতের ওপর গবেষণা জরুরি।

কর্মশালায় সরকারি ও বেসরকারি সংস্থা, গবেষক, উন্নয়ন সহযোগী ও বিভিন্ন এনজিওর প্রতিনিধিরা অংশ নেন। তারা স্থানীয় খামারিদের মধ্যে জ্ঞান-ভিত্তিক প্রশিক্ষণ, প্রজনন ব্যবস্থার মানোন্নয়ন, এবং স্থানীয় জাত সংরক্ষণের জন্য নীতি-সমর্থনসহ আর্থিক অনুদান ও বেফায়দা প্রণোদনার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে।

উপদেষ্টা ফরিদা আখতার বক্তৃতার শেষে বলেন, “দেশীয় গরু সংরক্ষণ মানে কেবল প্রাণিসম্পদ রক্ষা নয়—এটি খাদ্য নিরাপত্তা, ছোট খামারিদের জীবিকা ও জাতীয় অর্থনীতির টেকসই উন্নয়নের সঙ্গে সরাসরি জড়িত। সরকারি নীতি, গবেষণা ও খামারি অংশীদারিত্ব মিলিয়ে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া উচিত।”

কর্মশালার ফলাফল ও সুপারিশগুলো মন্ত্রণালয় এবং সংশ্লিষ্ট অংশীদারদের কাছে প্রস্তাবনা হিসেবে পাঠানো হবে, যাতে নীতিতে তা প্রতিফলিত করতে দ্রুত কার্যক্রম শুরু করা যায়।

এই পাতার আরো খবর
Our Like Page