শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬, ১০:১১ অপরাহ্ন
Headline
Wellcome to our website...
কেন হিন্দুরা জামায়াতে যোগ দিচ্ছেন?
প্রকাশ কাল | শুক্রবার, ৭ নভেম্বর, ২০২৫, ১:২২ অপরাহ্ন
ফখরুল ইসলাম আলমগীর, বিএনপি, নির্বাচন ব্যাহত, অন্তর্বর্তী সরকার, জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস, নয়াপল্টন র‌্যালি
ছবি: সংগ্রহীত

হিন্দুদের জামায়াতে ইসলামী যোগদান: কারণ ও নেতৃত্বের সুযোগ নিয়ে বিশ্লেষণ

চাঁপাইনবাবগঞ্জে সাম্প্রতিক সময়ে ২৪ জন সনাতন ধর্মাবলম্বী জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দিয়েছেন। তারা প্রাথমিক সদস্য ফরম পূরণ করে জামায়াতের অমুসলিম শাখায় আনুষ্ঠানিকভাবে অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন। এ খবর প্রথম প্রকাশিত হয় ১৫ সেপ্টেম্বর, স্থানীয় প্রতিনিধি ও যুগান্তরের মাধ্যমে।


কেন হিন্দুরা জামায়াতে যোগ দিচ্ছেন?

হিন্দু সদস্যদের কাছে জামায়াতে যোগদানের মূল কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হচ্ছে:

  1. নিরাপত্তার আশ্বাস: ৫ আগস্টের পর দেশের কিছু এলাকায় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মধ্যে ভীতি ও আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে। জামায়াত নেতারা স্থানীয়ভাবে এসে তাদের নিরাপত্তা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। এক সদস্য অমল কুমার বলেন, “তারা বলেছে, কোনো বিপদে-আপদে আমরা পাশে থাকব, আমাদের মোবাইল নম্বরও আছে।”

  2. স্থানীয় সম্প্রদায়ের সহায়তা: সদস্যরা স্থানীয় কমিউনিটিতে কার্যকর ভূমিকা নিতে পারছেন। জামায়াত নেতারা জানিয়েছেন, তারা এই সদস্যদের স্থানীয় ফোরামে কমিউনিটি লিডার হিসেবে দায়িত্ব দেবেন।

শওকত আলী, উমেদপুর ইউনিয়নের জামায়াত নেতা বলেন,

“তাদের স্বাধীনভাবে ধর্ম পালন করতে দেওয়া হবে, কিন্তু নিরাপত্তা দেওয়াও আমাদের দায়িত্ব। আমরা তাদের কাছে ন্যায় ও ইনসাফ নিশ্চিত করব।”


জামায়াতের দলে নেতৃত্ব ও কার্যক্রম

জামায়াতের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, অমুসলিমদের সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্তির বিধান রয়েছে। তবে মুসলিম সদস্যদের মতো উচ্চ পর্যায়ের নেতৃত্ব বা নীতি-নির্ধারণী ক্ষমতা অমুসলিমদের নেই। মূল শর্তগুলো হলো:

  • জামায়াতের শৃঙ্খলা মেনে চলা

  • রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে সহায়তা

  • দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা

  • উপার্জনে অবৈধ পন্থা অবলম্বন না করা

কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন,

“আমাদের দলে অমুসলিমরা সহযোগী হিসেবে যোগ দিয়েছেন। তারা তাদের কমিউনিটির মধ্যে দায়িত্ব পালন করবেন। মূল জামায়াতের নেতৃত্বে আসার সুযোগ নেই।”

তাদের কার্যক্রম মূলত স্থানীয় কমিউনিটি স্তরে সীমাবদ্ধ। তারা দলের জাতীয় নীতি-নির্ধারণী কাজে অংশ নিতে পারবেন না।


সমালোচনা ও প্রশ্ন

এ নিয়ে কিছু প্রশ্ন উঠে:

  • দলটি কতটা কার্যকরভাবে “ইনক্লুসিভ” বা অন্তর্ভুক্তিমূলক?

  • অমুসলিম সদস্যরা যোগ দিলেও বাস্তব নেতৃত্ব বা নীতি-নির্ধারণে অংশগ্রহণের সুযোগ নেই।

  • দলের উচ্চ পর্যায়ে যাওয়ার সুযোগ না থাকার কারণে তাদের রাজনৈতিক প্রভাব সীমিত।

গোলাম পরওয়ার এই প্রশ্নের উত্তরে বলেছেন,

“তারা যোগ দিলেই অন্তর্ভুক্তি হয়েছে। এরপর যোগ্যতা ও দক্ষতা আলাদা বিষয়।”


বিশ্লেষণ

জামায়াতের দলে হিন্দুদের অন্তর্ভুক্তি মূলত নিরাপত্তা এবং স্থানীয় সম্প্রদায়ের সহায়তার সঙ্গে সম্পর্কিত। তবে দলটির কাঠামো ও নীতি-নির্ধারণের বাস্তবতায় তারা নেতৃত্বের আসন বা জাতীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণে অংশ নিতে পারবে না। ফলে এটি অন্তর্ভুক্তির চেয়ে সহযোগী বা প্রাথমিক সমর্থকের ভূমিকা হিসেবে সীমাবদ্ধ।

সর্বোপরি, এই পদক্ষেপ হিন্দুদের জন্য একটি নিরাপত্তা আশ্বাস হিসেবে কাজ করছে, কিন্তু রাজনৈতিক ও নীতি-নির্ধারণী ক্ষমতা দেওয়ার ক্ষেত্রে বাস্তব সুযোগ নেই।

এই পাতার আরো খবর
Our Like Page