ফিলিস্তিনে ন্যায় ও মানবাধিকার নিশ্চিতের আহ্বান জানালেন রাষ্ট্রদূত মুশফিকুল ফজল আনসারী
আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
ইসরাইলের নির্যাতন ও বর্বরতার হাত থেকে ফিলিস্তিনকে মুক্ত করতে ইসলামিক সহযোগিতা সংস্থা (ওআইসি) এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জোরালো ভূমিকা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানিয়েছেন মেক্সিকোতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মুশফিকুল ফজল আনসারী।
শুক্রবার মেক্সিকো সিটিতে ওআইসি রাষ্ট্রদূত গ্রুপের এক বৈঠকে তিনি বলেন, “ওআইসি পরিবারের ঐক্য যেন কেবল কথার মধ্যে সীমাবদ্ধ না থাকে। প্রতিটি ফোরামে, প্রতিটি রাজধানীতে আমাদের ফিলিস্তিনিদের অধিকারের কথা আরও জোরালোভাবে তুলতে হবে, যতক্ষণ না বিশ্ব শুনছে।”
রাষ্ট্রদূত মুশফিক গাজায় চলমান যুদ্ধবিরতির কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তিনি বলেন, “আমার বোন, ফিলিস্তিনের রাষ্ট্রদূত নাদিয়া, আমাদের স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন যে, যুদ্ধবিরতির ২৮ দিনের মধ্যে ২৩৭ জন ফিলিস্তিনি শিশু নিহত হয়েছে। এমন যুদ্ধবিরতিকে শান্তি বলা যায় না, যেখানে এখনো শিশুদের দাফন করতে হয়।”
ফিলিস্তিন ইস্যুতে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরে তিনি বলেন, “বাংলাদেশ ফিলিস্তিনের মানুষের পাশে দৃঢ়ভাবে দাঁড়িয়ে আছে। জাতিসংঘে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন— ন্যায়বিচার বাধাগ্রস্ত হলে শান্তি টেকে না; আর অত্যাচার দেখে চোখ বন্ধ রাখা মানে অত্যাচারের প্রতি সমর্থন।”
রাষ্ট্রদূত মুশফিক আরও বলেন, “গাজায় যা ঘটছে তা সমান শক্তির সংঘর্ষ নয়; এটি এক ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয় ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জন্য নৈতিক পরীক্ষা। এখনই প্রয়োজন আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের পূর্ণ জবাবদিহি, তাৎক্ষণিক মানবিক সহায়তার প্রবেশাধিকার এবং দ্বি-রাষ্ট্র সমাধানের ভিত্তিতে একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি।”
ফিলিস্তিনে নিহতদের প্রতি গভীর শোক প্রকাশ করে তিনি বলেন, “যারা প্রাণ দিয়েছেন, তাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাই— ন্যায়ের পাশে থেকে, সত্যের পক্ষে থেকে, এবং ফিলিস্তিনের মানুষের সঙ্গে সংহতি জানিয়ে।”
বৈঠকে ওআইসির সদস্য দেশসমূহের রাষ্ট্রদূতরা উপস্থিত ছিলেন, যাদের মধ্যে ছিলেন ফিলিস্তিন, মরক্কো, সৌদি আরব, তুরস্ক, কুয়েত, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ইন্দোনেশিয়া, ইরান, মালয়েশিয়া, আজারবাইজান ও আইভরি কোস্টের প্রতিনিধিরা।
মেক্সিকোস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসের সূত্র জানায়, রাষ্ট্রদূত মুশফিকের বক্তব্য বৈঠকে উপস্থিত সদস্যদের মধ্যে গভীর আলোড়ন তোলে। ওআইসি প্রতিনিধিরা গাজায় মানবিক সহায়তা জোরদার ও আন্তর্জাতিকভাবে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার আহ্বানে একমত পোষণ করেন।


