শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬, ১০:১১ অপরাহ্ন
Headline
Wellcome to our website...
সরকারি ছুটি নির্ধারণ হয় কীভাবে ও কত প্রকার
প্রকাশ কাল | সোমবার, ১০ নভেম্বর, ২০২৫, ৮:০৮ পূর্বাহ্ন
সরকারি ছুটি, ছুটি বিধিমালা ১৯৫৯, সরকারি চাকরি আইন ২০১৮, ঐচ্ছিক ছুটি, নির্বাহী আদেশে ছুটি, সাধারণ ছুটি, চাকরিজীবী ছুটি
ফাইল ছবি । সংগৃহীত

সরকারি ছুটি নির্ধারণ হয় কীভাবে

নিজস্ব প্রতিবেদক | কিউটিভি বাংলা

সরকারি ছুটি নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে সবসময়ই কৌতূহল থাকে—এই ছুটি কাদের জন্য, কীভাবে নির্ধারণ হয়, এবং সবাই কি সমানভাবে উপভোগ করতে পারেন? বাংলাদেশে সরকারি ছুটি নির্ধারণের একটি পূর্ণাঙ্গ আইন ও বিধিমালা রয়েছে, যা অনুসারে প্রতি বছর সরকারের পক্ষ থেকে গেজেট আকারে ছুটির তালিকা প্রকাশ করা হয়।

ছুটি নির্ধারণের নিয়ম ও আইন

বাংলাদেশে সরকারি ছুটি নির্ধারিত হয় সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮ এবং ছুটি বিধিমালা, ১৯৫৯ অনুযায়ী।
সরকারি চাকরি আইনের আওতায় কর্মচারীরা প্রযোজ্য বিধি ও সরকারি আদেশ অনুযায়ী বিভিন্ন ধরনের ছুটি পাওয়ার অধিকার রাখেন।

ছুটি বিধিমালা ১৯৫৯-এ বলা আছে, একজন সরকারি কর্মচারী অর্জিত ছুটি, অসাধারণ ছুটি, প্রসূতি ছুটি, অধ্যয়ন ছুটি, নৈমিত্তিক ছুটিসহ মোট ১৭ ধরনের ছুটি ভোগ করতে পারেন।

গেজেটের মাধ্যমে ঘোষণা করা হয় সাধারণ ছুটি

প্রতি বছরই বছরের শুরুতে সরকার একটি গেজেট বিজ্ঞপ্তি জারি করে, যেখানে সাধারণ ছুটি (Public Holiday) ঘোষণা করা হয়। এই ছুটিগুলো সাধারণত ২১ ফেব্রুয়ারি, ২৬ মার্চ, ১৬ ডিসেম্বর, পহেলা মে প্রভৃতি জাতীয় দিবসকে কেন্দ্র করে দেওয়া হয়।

২০২৬ সালের জন্য উপদেষ্টা পরিষদ ইতোমধ্যে সরকারি ছুটির তালিকা অনুমোদন দিয়েছে। সেই তালিকা অনুযায়ী আগামী বছর সরকারি ছুটি থাকবে ২৮ দিন, এর মধ্যে ১১ দিন শুক্র ও শনিবার হওয়ায় কার্যকর ছুটি থাকবে ১৭ দিন।

এছাড়া ২০২৬ সালের ছুটির তালিকায় প্রথমবারের মতো ৫ আগস্টকে সাধারণ ছুটি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

নির্বাহী আদেশে ছুটি

গেজেট ঘোষিত সাধারণ ছুটির বাইরে সরকার নির্বাহী আদেশে কিছু অতিরিক্ত ছুটি ঘোষণা করতে পারে। এগুলো সাধারণত বিশেষ উপলক্ষ, ধর্মীয় অনুষ্ঠান, বা প্রশাসনিক প্রয়োজনে দেওয়া হয়।

তবে এই ছুটি সাধারণত সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা এবং সংবিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের জন্য প্রযোজ্য। বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে এটি বাধ্যতামূলক নয়।

ঐচ্ছিক ছুটি: ধর্মীয় ও ব্যক্তিগত পর্ব

ছুটি বিধিমালা অনুযায়ী, সরকারি চাকরিজীবীরা বছরে তিন দিনের ঐচ্ছিক ছুটি নিতে পারেন, যা ধর্মীয় পর্বের ভিত্তিতে নির্ধারিত হয়।
এই ছুটি সাধারণত কর্মীর আবেদন এবং কর্তৃপক্ষের অনুমতির ভিত্তিতে মঞ্জুর হয়।

ঐচ্ছিক ছুটি সাধারণ ছুটি বা সাপ্তাহিক ছুটির সঙ্গে যুক্ত করে নেওয়ার অনুমতিও বিধিমালায় রয়েছে। ফলে অনেক সময় কর্মীরা দীর্ঘ ছুটি ভোগ করতে পারেন।

বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ছুটি

বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে ছুটির ধরন ও সংখ্যা নির্ধারণ করে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান নিজস্ব নীতিমালায়।
তবে সাধারণত তারা সরকার ঘোষিত সাধারণ ছুটি অনুসরণ করে। বেতনসহ বা বেতন ছাড়া ছুটি, অসুস্থতাজনিত ছুটি ইত্যাদি বিষয়গুলো প্রতিষ্ঠানভেদে ভিন্ন হতে পারে।

অপরিহার্য সেবা ও বিশেষ পেশায় ছুটি ব্যতিক্রম

ছুটি বিধিমালায় ব্যাংক, রেলওয়ে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, হাসপাতাল, কলকারখানার মতো অত্যাবশ্যক সেবাখাতের কর্মীদের জন্য আলাদা নিয়ম রয়েছে।
এই খাতগুলো জনস্বার্থে নিজেদের কাজের সময়সূচি ও ছুটি নিয়ন্ত্রণ করতে পারে, ফলে তাদের ছুটি অন্যান্য অফিসের সঙ্গে নাও মিলতে পারে।

ছুটির সামাজিক ও প্রশাসনিক গুরুত্ব

সরকারি ছুটি শুধু বিশ্রামের বিষয় নয়, বরং এটি সামাজিক, ধর্মীয় ও জাতীয় ঐক্যেরও প্রতীক।
একইসঙ্গে প্রশাসনিক কাঠামোয় এটি মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ, যা কর্মীদের মানসিক পুনর্গঠনে ভূমিকা রাখে।


সূত্র: সরকারি চাকরি আইন ২০১৮, ছুটি বিধিমালা ১৯৫৯, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়

এই পাতার আরো খবর
Our Like Page