শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬, ১০:১০ অপরাহ্ন
Headline
Wellcome to our website...
সরকারি প্লট-ফ্ল্যাট হস্তান্তরে ঘুষ সিন্ডিকেটের অবসান
প্রকাশ কাল | সোমবার, ১০ নভেম্বর, ২০২৫, ৫:৪১ পূর্বাহ্ন
সরকারি প্লট, ফ্ল্যাট হস্তান্তর, রাজউক দুর্নীতি, গৃহায়ন মন্ত্রণালয় প্রজ্ঞাপন, নামজারি, সাবরেজিস্ট্রি অফিস, সেবা সহজীকরণ
ফাইল ছবি । সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক | কিউটিভি বাংলা

বছরের পর বছর ধরে চলা ঘুষ, হয়রানি ও দালালচক্রের কবল থেকে অবশেষে মুক্তি পেতে যাচ্ছেন সরকারি প্লট ও ফ্ল্যাটের মালিকরা। এখন থেকে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক), জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ বা গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন ছাড়াই প্লট ও ফ্ল্যাট বিক্রি, হস্তান্তর এবং নামজারি করা যাবে।

নতুন প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, যেভাবে রেজিস্ট্রি অফিসে জমির দলিল সম্পাদন হয়, ঠিক সেইভাবেই হবে সরকারি প্লট ও ফ্ল্যাটের মালিকানা হস্তান্তর। এজন্য সেবাপ্রার্থীদের আর কোনো দপ্তরে ঘুরতে হবে না, বা কোনো কর্মকর্তাকে ঘুষ দিতে হবে না।

রোববার (৯ নভেম্বর) সন্ধ্যায় গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রশাসন অনুবিভাগ-১-এর উপসচিব ড. মো. নুরুল আমিন স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনটি বিজি প্রেসে পাঠানো হয়েছে গেজেট আকারে প্রকাশের জন্য। এটি বাস্তবায়িত হলে দীর্ঘদিনের ভোগান্তি থেকে নাগরিকরা মুক্তি পাবেন।

ঘুষের অবসান ও সরাসরি নিবন্ধন পদ্ধতি

এখন থেকে প্লট বা ফ্ল্যাট ক্রয়-বিক্রয়, দান, হেবা, বা বণ্টনের ক্ষেত্রে কোনো লিজদাতা সংস্থার অনুমোদন লাগবে না। বরং সাবরেজিস্ট্রি অফিসে সরাসরি দলিল সম্পাদনের মাধ্যমেই মালিকানা হস্তান্তর করা যাবে।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে,

“গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় এবং এর আওতাধীন বিভিন্ন কর্তৃপক্ষ কর্তৃক উন্নয়নকৃত প্লট বা ফ্ল্যাটের ক্ষেত্রে হস্তান্তর-পরবর্তী ব্যবস্থাপনা সহজীকরণ ও দুর্নীতি দূরীকরণের লক্ষ্যে বিদ্যমান প্রথা পরিবর্তন করা হলো।”

অর্থনৈতিক শর্ত ও ফি নির্ধারণ

দলিল সম্পাদনের সময় সাবরেজিস্ট্রি অফিসের মাধ্যমে নির্ধারিত ফি জমা দিতে হবে—

  • ফ্ল্যাট বা ভবনসহ জমির ক্ষেত্রে দলিল মূল্যের ২% হারে,

  • শুধু প্লট বা ভূমির ক্ষেত্রে ৩% হারে অর্থ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুকূলে জমা দিতে হবে।

এই অর্থ নন-ট্যাক্স রেভিনিউ (NTR) হিসেবে সরকারী রাজস্বে যাবে।

রেকর্ড হালনাগাদ ও শাস্তির বিধান

নতুন মালিককে দলিল সম্পাদনের ৯০ দিনের মধ্যে সার্টিফাইড কপি লিজদাতা প্রতিষ্ঠানে জমা দিতে হবে। দেরি হলে প্রতিদিন ৫০ টাকা করে সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হবে।

লিজদাতা প্রতিষ্ঠানকে ৩০ দিনের মধ্যে রেকর্ড হালনাগাদ করতে হবে। দেরি হলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

লিজ নবায়ন ও ব্যতিক্রম

লিজের মেয়াদ ৯৯ বছর পর স্বয়ংক্রিয়ভাবে নবায়নযোগ্য হিসেবে গণ্য হবে। তবে প্লট বিভাজন, একত্রীকরণ বা মাস্টারপ্ল্যান পরিবর্তনের ক্ষেত্রে আগের মতো অনুমতি লাগবে।

শুধু আবাসিক নয়, প্রাতিষ্ঠানিক ও বাণিজ্যিক প্লটের ক্ষেত্রে পুরনো প্রথা বহাল থাকবে। এছাড়া ২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত বিশেষ বিবেচনায় দেওয়া বরাদ্দগুলোতে সরকারের অনুমোদন বাধ্যতামূলক থাকবে।

ভবিষ্যতের সুরক্ষা

মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, ভবিষ্যতে কোনো প্রভাবশালী চক্র যেন এই সিদ্ধান্ত বাতিল করাতে না পারে, সে জন্য প্রয়োজনে আইন ও বিধিবিধান সংশোধন করা হবে।

এই উদ্যোগকে নাগরিক সেবা সহজীকরণে এক “ঐতিহাসিক পদক্ষেপ” হিসেবে দেখছেন প্রশাসনিক সংস্কার বিশ্লেষকরা। তারা বলছেন, এটি বাস্তবায়িত হলে রাজউক ও গৃহায়ন মন্ত্রণালয়ের “দুর্নীতির সবচেয়ে বড় ঘাঁটি” কার্যত বন্ধ হয়ে যাবে।

সূত্র: গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়, বিজি প্রেস, সরকারি কর্মকর্তাদের সাক্ষাৎকার

এই পাতার আরো খবর
Our Like Page