জুলাই অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে পলাতক সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলার রায় আগামী ১৭ নভেম্বর ঘোষণা করা হবে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের এই রায় ঘোষণাকে ঘিরে সম্ভাব্য পরিস্থিতি নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
তিনি মনে করিয়ে দেন, রায় ঘোষণার দিন কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হলে তা মোকাবিলার দায়িত্ব রাজনৈতিক কোনো দলের নয়; এটি সম্পূর্ণভাবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দায়িত্ব। শুক্রবার (১৪ নভেম্বর) চট্টগ্রামের হোটেল পেনিনসুলায় ‘মেডিকেল ভ্যালু ট্রাভেল সামিট’ উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ মন্তব্য করেন।
সাংবাদিকরা জানতে চান—শেখ হাসিনার মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলার রায় ঘোষণার দিন যদি কোনো বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়, বিএনপির অবস্থান কী হবে?
জবাবে সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন,
“বিশৃঙ্খলা তো ঠেকাবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এই দায়িত্ব কোনো রাজনৈতিক দলের নয়। আমাদের এই কালচার থেকে বের হয়ে আসতে হবে। দেশে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আছে, তাদের দায়িত্বই হলো আইনশৃঙ্খলা ঠিক রাখা।”
তিনি আরও বলেন, বিচার বিভাগের কাজ বিচার করা। রায় ঘোষণা আদালতের এখতিয়ার। বিএনপি সবসময়ই একটি নিরপেক্ষ বিচার বিভাগের দাবি করেছে বলেই জানান তিনি।
তার ভাষায়,
“আমরা নিরপেক্ষ বিচার বিভাগের পক্ষেই ছিলাম। আশা করি, বাংলাদেশে একটি নিরপেক্ষ বিচার বিভাগ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। ভবিষ্যতে এটি আরও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পাবে।”
দেশ এখন রাজনৈতিক ‘ট্রানজিশন’ পর্যায়ে রয়েছে উল্লেখ করে আমির খসরু বলেন, বাংলাদেশ একটি গণতান্ত্রিক নির্বাচনের দিকে এগোচ্ছে এবং বিএনপির মূল ফোকাস এখন নির্বাচনী প্রক্রিয়ার প্রতি।
তিনি বলেন,
“আমরা গণতন্ত্রায়নের দিকে যাচ্ছি। নির্বাচনের দিকে যাচ্ছি—এটাই এখন প্রধান বিষয়।”
এর আগে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ঘোষণা দেয়, পলাতক সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার রায় ১৭ নভেম্বর ঘোষণা করা হবে। জুলাই অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ের একাধিক ঘটনাকে কেন্দ্র করে এই মামলা দায়ের হয়। রায়কে ঘিরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে দেশের বিভিন্ন মহলে আলোচনা চলছে।
বিএনপির পক্ষ থেকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দায়িত্বের প্রতি স্পষ্ট ইঙ্গিত দেওয়াকে রাজনৈতিক মহল গুরুত্ব সহকারে দেখছে। বিশেষ করে অভিযুক্ত একজন সাবেক প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে রায় ঘোষণার দিনে নিরাপত্তা পরিস্থিতি বজায় রাখা স্বাভাবিকভাবেই বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে।


