নিজস্ব প্রতিবেদক
বাংলাদেশকে কেন্দ্র করে গভীর ষড়যন্ত্র ও আগামী জাতীয় নির্বাচনকে ঘিরে নানা ধরনের গোপন সমীকরণ চলছে বলে অভিযোগ করেছেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির ও সাবেক সংসদ সদস্য ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের। শুক্রবার সন্ধ্যায় কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার শ্রীপুর ইউনিয়নে আয়োজিত এক জনসভায় তিনি এসব মন্তব্য করেন।
ডা. তাহের বলেন, সরকারের নিরাপত্তা উপদেষ্টা সম্প্রতি ভারতের সঙ্গে আলোচনার জন্য গিয়েছেন। সেখানে কী বিষয়ে কথা হয়েছে তা সরকারকে খোলাখুলিভাবে জাতির সামনে তুলে ধরতে হবে। তিনি অভিযোগ করে বলেন, “বাংলার মানুষ জীবন ও রক্ত দিয়ে ভারতের আধিপত্যবাদকে প্রতিহত করেছে। এই অঞ্চলে কোনো ধরনের আধিপত্য বা বশ্যতা জনগণ আর মেনে নেবে না।”
তিনি আরও বলেন, “যদি সরকার ভারতের অন্যায় চাপ ও সিদ্ধান্তের কাছে নতিস্বীকার করে, তবে এর ফল শুভ হবে না। সরকার জনগণের স্বার্থ ও দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় ব্যর্থ হচ্ছে।”
গণভোট ও নির্বাচন নিয়ে সংশয়
জনসভায় ডা. তাহের বর্তমান রাজনৈতিক প্রক্রিয়া ও নির্বাচনী ব্যবস্থায় কাঙ্ক্ষিত সংস্কার না হওয়ার সমালোচনা করেন। তার দাবি, একটি উল্লেখযোগ্য রাজনৈতিক দল সংস্কার চাইছে না এবং পুরোনো ‘বস্তাপচা’ নিয়মে নির্বাচন আয়োজনের চেষ্টা চলছে। এ অবস্থায় অন্তর্বর্তী সরকারও তাদের ‘ফাঁদে’ পা দিয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি বলেন, “গণভোটের দাবির কথা আমরা তুলেছি। সরকার গণভোটের কথা বললেও সেটিকে জাতীয় নির্বাচনের সঙ্গে বাঁধাই করা হয়েছে। কিন্তু গণভোট ও জাতীয় নির্বাচন এক নয়। আলাদা গণভোট না হলে জনগণের প্রকৃত মতামত জানা যাবে না।”
তার মতে, নির্বাচনের আগে যদি ‘সংস্কারের পক্ষে’ ভোটগ্রহণ হয়, তাহলে দেশের বেশি মানুষ ওই প্রক্রিয়ার পক্ষে মত দেবে। কিন্তু সরকার জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করছে এবং তাদের রায়ের প্রতিফলন ঘটাতে ব্যর্থ হচ্ছে।
জনসভায় অন্যান্য নেতাদের বক্তব্য
এ সময় জনসভায় আরও বক্তব্য দেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আবদুল হালিম, কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা জামায়াতের আমির অ্যাডভোকেট মুহাম্মদ শাহজাহান, নিউইয়র্কের মুনা কনভেনশন সেন্টারের ন্যাশনাল প্রেসিডেন্ট ও ইমাম মাওলানা দেলোয়ার হোসাইনসহ দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা।
সভাপতিত্ব করেন শ্রীপুর ইউনিয়ন জামায়াতের আমির মাওলানা আবদুল হাকিম। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন মনির হোসাইন ও রবিউল হোসেন মিলন।
উপস্থিতি
জনসভায় স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় পর্যায়ের অসংখ্য নেতা–কর্মী উপস্থিত ছিলেন। তারা দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, নির্বাচন এবং সংস্কার ইস্যুতে বিভিন্ন মতামত তুলে ধরেন।


