শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬, ১০:১০ অপরাহ্ন
Headline
Wellcome to our website...
ফ্যাসিস্ট হাসিনার মানবতাবিরোধী মামলার রায় আগামিকাল
প্রকাশ কাল | রবিবার, ১৬ নভেম্বর, ২০২৫, ৯:৪০ পূর্বাহ্ন
হাসিনার রায়, মানবতাবিরোধী অপরাধ, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল, জুলাই গণঅভ্যুত্থান, চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন, রায় ঘোষণা
ছবি: সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক । Qtv Bangla

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মূল নির্দেশদাতা ছিলেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা—এমন দাবি করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউশন। তাদের মতে, ছাত্র-জনতার ওপর হামলা ও হত্যার জন্য শেখ হাসিনা সরাসরি নির্দেশ দিয়েছেন এবং এ অপরাধে তিনি ছিলেন “নিউক্লিয়াস” বা কেন্দ্রীয় ব্যক্তি।

প্রসিকিউশন পাঁচটি নির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে শেখ হাসিনার সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড দাবি করেছে। অভিযোগগুলো হলো—১৪০০ আন্দোলনকারীকে হত্যা, হত্যায় উসকানি, নির্দেশদাতা হিসেবে ভূমিকা, ‘সুপিরিয়র কমান্ড রেসপনসিবিলিটি’ এবং ‘জয়েন্ট ক্রিমিনাল এন্টারপ্রাইজ’। এসব অভিযোগ প্রমাণে তারা ৮১ জন সাক্ষীর মধ্যে ৫৪ জনের সাক্ষ্য, প্রায় ৯ হাজার পৃষ্ঠার নথি, ৬৯টি অডিও, ভিডিও ক্লিপ এবং মোবাইল কল রেকর্ড আদালতে উপস্থাপন করেছে।

১০৫ দিনের শুনানি শেষে আগামীকাল রায় ঘোষণা করবেন ট্রাইব্যুনাল-১। রায়ের অপেক্ষায় আছে শহীদ পরিবার, আহত আন্দোলনকারী এবং জুলাই আন্দোলনে যুক্ত বিভিন্ন পক্ষ।

প্রসিকিউশনের দাবি, গত বছরের আন্দোলনে পুলিশ ও র‍্যাবের হেলিকপ্টার থেকে গুলি এবং প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহার করা হয়। শেখ হাসিনা হেলিকপ্টার দিয়ে বোমা হামলার কথাও বলেছিলেন, এমন বক্তব্যও আদালতে উপস্থাপন করা হয়েছে। পুলিশের সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন দোষ স্বীকার করে রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষী হয়েছেন।

অভিযোগে বলা হয়েছে—রংপুরে ছাত্র আবু সাঈদকে গুলি করে হত্যা, ঢাকার চানখাঁরপুলে ৬ জন ও আশুলিয়ায় ৬ জনকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যাসহ বিভিন্ন ঘটনায় শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এবং সাবেক আইজিপিকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।

আসামিপক্ষ বলছে, উপস্থাপিত অডিও-ভিডিও ফরেনসিকভাবে বিশ্বাসযোগ্য নয় এবং তাদের বিদেশে পরীক্ষা করা উচিত ছিল। তারা আশাবাদী যে আসামিরা খালাস পাবেন।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সরকার পতনের পরে ট্রাইব্যুনাল পুনর্গঠিত হয় এবং শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে প্রথম মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলার বিচার শুরু হয়। এরপর তার বিরুদ্ধে পাঁচটি মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। আদালত অবমাননার আরেক মামলায় তাকে ছয় মাসের দণ্ডও দেওয়া হয়েছে।

রায়কে কেন্দ্র করে সারাদেশে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে।

এই পাতার আরো খবর
Our Like Page