শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬, ০৬:৫৮ অপরাহ্ন
Headline
Wellcome to our website...
তত্ত্বাবধায়ক সরকার গণতন্ত্রের সহায়ক: অ্যাটর্নি জেনারেল
প্রকাশ কাল | বৃহস্পতিবার, ২০ নভেম্বর, ২০২৫, ১২:৪২ অপরাহ্ন
তত্ত্বাবধায়ক সরকার, অ্যাটর্নি জেনারেল, আপিল বিভাগ রায়, সংবিধান, নির্বাচনকালীন সরকার, গণতন্ত্র
ছবি: সংগৃহীত

তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা পুনর্বহালের রায়কে বাংলাদেশের গণতন্ত্রের জন্য ‘সহায়ক ও যুগোপযোগী সিদ্ধান্ত’ বলে মন্তব্য করেছেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান। আপিল বিভাগের ঐতিহাসিক রায়ের পর বৃহস্পতিবার (২০ নভেম্বর) সাংবাদিকদের তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন—“এখন থেকে আর দিনের ভোট রাতে হবে না, কিংবা মৃতমানুষ এসে ভোট দিয়ে যাবে না। তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা গণতন্ত্রকে সুরক্ষা দেবে।”

তিনি জানান, রায়ের পূর্ণাঙ্গ কপি প্রকাশ হলে বিস্তারিত জানা যাবে—পরবর্তী তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা কে হবেন এবং গঠনপদ্ধতি হবে পূর্বের ধারায় নাকি জুলাই সনদের ভিত্তিতে। অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, “পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের পর নতুন সংবিধান ছাপানো জরুরি। আপিল বিভাগের রায় অনুযায়ী নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার সংবিধানে ফিরে এসেছে। তবে এর গঠন এবং কাঠামো কী হবে তা নির্ধারণ করবে পরবর্তী সংসদ।”

এদিন নির্বাচনকালীন নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিলের অতীতের রায়কে অবৈধ ও ত্রুটিপূর্ণ ঘোষণা করে নতুন রায় দেয় দেশের সর্বোচ্চ আদালত। একই সঙ্গে ত্রয়োদশ সংশোধনীকে বৈধ ঘোষণা করে সংবিধানে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা পুনর্বহাল করেন আপিল বিভাগের সাত বিচারপতির পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ।

বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা ৪০ মিনিটে প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বে বিচারপতি মো. আশফাকুল ইসলাম, বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী, বিচারপতি মো. রেজাউল হক, বিচারপতি এস. এম. ইমদাদুল হক, বিচারপতি এ. কে. এম. আসাদুজ্জামান ও বিচারপতি ফারাহ মাহবুব সর্বসম্মতিক্রমে এ রায় ঘোষণা করেন।

রায়ে বলা হয়—সংবিধানের চতুর্থ ভাগের পরিচ্ছেদ ২(ক)-এ নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারসংক্রান্ত বিধানাবলী পুনরুজ্জীবিত হলো এবং ভবিষ্যৎ নির্বাচনগুলোতে তা প্রযোজ্য হবে। যদিও এ রায় স্বয়ংক্রিয়ভাবে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা ফিরিয়ে আনছে, তবুও এর গঠন ও প্রয়োগ পদ্ধতি নির্ধারণ করবে আগামী সংসদ।

আদালত স্পষ্ট করে বলেন—আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে। তবে চতুর্দশ সংসদ নির্বাচন থেকে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা কার্যকর হবে।

আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, এই রায় বাংলাদেশের নির্বাচন প্রক্রিয়ায় নতুন অধ্যায় যোগ করবে। রায়ের ফলে নির্বাচনের স্বচ্ছতা, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও গণবিশ্বাস পুনরুদ্ধারে বড় ভূমিকা রাখবে বলে তারা মনে করছেন।

অ্যাটর্নি জেনারেলও একই মত প্রকাশ করে বলেন, “গণতন্ত্রের প্রতি সবার আস্থা ফিরিয়ে আনবে এই ঐতিহাসিক রায়।”

এই পাতার আরো খবর
Our Like Page