শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬, ০৬:৫৮ অপরাহ্ন
Headline
Wellcome to our website...
হামজা–শমিতদের দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে বাংলাদেশের নতুন যুগ
প্রকাশ কাল | বৃহস্পতিবার, ২০ নভেম্বর, ২০২৫, ১২:৪৮ অপরাহ্ন
হামজা চৌধুরী, শমিত সোম, বাংলাদেশ ফুটবল, ভারত বাংলাদেশ ম্যাচ, জাতীয় দল, এশিয়ান কাপ বাছাই, প্রবাসী ফুটবলার, কায়সার হামিদ, চুন্নু
ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশ ফুটবলের স্মৃতিপটে ফিরে যায় ২০০৩ সাল। ঢাকার জাতীয় স্টেডিয়ামে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের সেমিফাইনালের শেষ মুহূর্তে মতিউর মুন্নার গোল, আর সেই গোলের পরই ভারতকে ২–১ ব্যবধানে হারানোর আনন্দে ভাসে বাংলাদেশ। দীর্ঘ ২২ বছর পর ঠিক সেই একই মাঠে আবারও ভারতের বিপক্ষে ঐতিহাসিক মুহূর্তের জন্ম দিলেন মতিউর মুন্নার উত্তরসূরিরা। এশিয়ান কাপ বাছাইয়ের নিয়মরক্ষার ম্যাচে শেখ মোরসালিনের গোল এনে দেয় বহু প্রতীক্ষিত জয়। আবারও নত হলো ভারত।

তবে এবার জয়ের গল্পটা ভিন্ন। নতুন বাংলাদেশ দল—যেখানে যোগ দিয়েছেন ব্রিটিশ বংশোদ্ভূত হামজা চৌধুরী। আরেকদিকে কানাডা প্রবাসী শমিত সোম, ইতালির ফাহামিদুল ইসলাম এবং যুক্তরাজ্যের জায়ান আহমেদ—এরা সবাই মিলেই বদলে দিয়েছেন বাংলাদেশ ফুটবলের রূপ, ছন্দ এবং আত্মবিশ্বাস। মাঠে তাদের শারীরিক সক্ষমতা, পজিশনিং, দ্রুততা ও টেকনিক—সব মিলিয়ে দল এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী ও গতিময়।

বাংলাদেশের সাবেক তারকা ফুটবলার আশরাফ উদ্দিন আহমেদ চুন্নু এ পরিবর্তনকে যুগান্তকারী বলে মনে করেন। তিনি বলেন, “আমাদের সময়ে খেলা হতো একরকম। এখন হয় আরেক রকম। সত্যি বলতে, এখনকার ফুটবল অনেক কঠিন। সেই কঠিন খেলাটি সহজ করে খেলছে হামজা, শমিতরা।”

হামজার নিয়ন্ত্রণ, শমিতের সৃজনশীলতা এবং অন্যান্য প্রবাসী খেলোয়াড়দের অবদান ম্যাচে স্পষ্টভাবেই অনুভূত হয়েছে। তাদের উপস্থিতি পুরো স্কোয়াডের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দিয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।

তার সঙ্গে একমত হয়েছেন আরেক সাবেক তারকা কায়সার হামিদ, যিনি ১৯৮৪ থেকে ১৯৯৩ পর্যন্ত জাতীয় দলের রক্ষণভাগে ছিলেন। তিনি মনে করেন, আধুনিক ফুটবল এখন সংখ্যাতত্ত্ব, অ্যানালিটিক্স ও কৌশলনির্ভর। ভারতকে হারাতে ২২ বছর অপেক্ষা করতে হলেও এবারকার জয়ে তার তৃপ্তি স্পষ্ট: “অনেকদিন পর এমন একটা ম্যাচ দেখলাম। মনটা ভরে গেল। খুব ভালো লেগেছে।” তিনি আরও বলেন, “২২ বছর পর ভারতকে হারানোর সক্ষমতা আমরা অর্জন করেছি। আশা করি সামনে আরও দলকে হারাব।”

১৯৭৫ থেকে ১৯৮৫ পর্যন্ত জাতীয় দলের অন্যতম নির্ভরযোগ্য উইঙ্গার চুন্নুও একই মত প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, “দীর্ঘ ২২ বছর পর ভারতকে হারালাম। এটা আমাদের ফুটবলের জন্য দারুণ খবর। আগেই বলেছিলাম বাংলাদেশ জিতবে—আমার অনুমানই সত্যি হলো। হামজাদের এই জয়ে খুবই ভালো লাগছে।”

শুধু জয় নয়, এই ম্যাচ প্রমাণ করেছে—যদি পরিকল্পনা, পরিশ্রম ও নতুন রক্তের সঠিক ব্যবহার হয়, বাংলাদেশ ফুটবল আবারও দক্ষিণ এশিয়ায় শীর্ষে উঠতে পারে। আর সেই পথচলার সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখছেন হামজা, শমিত ও অন্যান্য প্রবাসী ফুটবলাররা, যারা কঠিন কাজটিকে সত্যিই সহজ করে দিচ্ছেন।

এই পাতার আরো খবর
Our Like Page