সোমবার, ২৬ জানুয়ারী ২০২৬, ০১:৫২ অপরাহ্ন
ব্রেকিংনিউজ-
Headline
Wellcome to our website...
আটক ও গুমকক্ষের ভয়াবহ বর্ণনা দিলেন সাবেক সেনা কর্মকর্তা হাসিনুর
প্রকাশ কাল | সোমবার, ২৬ জানুয়ারী, ২০২৬, ১২:০৪ অপরাহ্ন
গুম মামলা, আয়নাঘর, সাবেক সেনা কর্মকর্তা, জেআইসি, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল
ফাইল ছবি । Qtv Bangla

নিজস্ব প্রতিকবেদক । জাতীয় । Qtv Bangla

আটক ও গুমকক্ষের বর্ণনা দিলেন সাবেক সেনা কর্মকর্তা হাসিনুর
সেনানিবাসে কর্মরত অবস্থায়ই গুমঘরে নেওয়া হয়

শেখ হাসিনার শাসনামলে জয়েন্ট ইন্টারোগেশন সেলে (জেআইসি) সংঘটিত গুমের ঘটনায় দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় দ্বিতীয় সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দিয়েছেন সাবেক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. হাসিনুর রহমান। তিনি সেনানিবাসে কর্মরত অবস্থায় গুম হওয়ার পাশাপাশি আয়নাঘরে ভয়াবহ নির্যাতনের শিকার হওয়ার লোমহর্ষক বর্ণনা দেন।

রোববার (২৫ জানুয়ারি) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ ছিল মামলার দ্বিতীয় দিনের সাক্ষ্যগ্রহণ। ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তুজা মজুমদার-এর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল তার জবানবন্দি রেকর্ড করেন। অপর দুই সদস্য হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।

জবানবন্দিতে হাসিনুর রহমান জানান, ২০১১ সালের ৯ জুলাই ময়মনসিংহ সেনানিবাসে কর্মরত অবস্থায় তাকে গুম করা হয়। পরে ৪৩ দিন গুম থাকার পর সেনা আদালতে মিথ্যা অভিযোগে চার বছরের সাজা দেওয়া হয়। তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ সাজানো ছিল বলে তিনি ট্রাইব্যুনালকে জানান।

তিনি আরও বলেন, ২০১৮ সালের ৮ আগস্ট দ্বিতীয় দফায় তাকে গুম করা হয়। দীর্ঘ দেড় বছর পর ২০২০ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি তিনি মুক্তি পান। দ্বিতীয় দফায় গুমের দিন মিরপুর ডিওএইচএসে নিজের বাসা থেকে বন্ধু লেফটেন্যান্ট কর্নেল যায়িদ আবদুল্লাহর সঙ্গে বের হয়ে তিনি অপহরণের শিকার হন।

ঘটনার বর্ণনায় তিনি জানান, একপর্যায়ে ৮-১০ জন ব্যক্তি তাকে ঘিরে ধরে। পরিস্থিতি আঁচ করতে পেরে তিনি লাইসেন্স করা অস্ত্র বের করলেও শেষ পর্যন্ত একাধিক মাইক্রোবাসে করে জোরপূর্বক তুলে নেওয়া হয়। চোখ বেঁধে, হাতকড়া পরিয়ে অজ্ঞাত স্থানে নেওয়ার পর নির্মম মারধর করা হয়।

গুমকক্ষের বিবরণ দিতে গিয়ে হাসিনুর রহমান বলেন, ৮ থেকে ১০ ফুটের একটি স্যাঁতসেঁতে কক্ষে তাকে আটকে রাখা হয়, যেখানে সারাক্ষণ উচ্চক্ষমতার আলো জ্বলত। কক্ষটি ছিল নোংরা ও ভয়াবহ। বিছানার চাদর ও দেয়াল ছিল রক্তমাখা। দেয়ালে রক্ত দিয়ে লেখা ছিল মোবাইল নম্বর।

তিনি জানান, একপর্যায়ে তাকে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কক্ষে নিয়ে চেয়ারের সঙ্গে বেঁধে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। সেখানে ঊর্ধ্বতন এক সেনা কর্মকর্তা তাকে হুমকি দেন এবং সেনাপ্রধান আজিজ আহমেদের বিরুদ্ধে লেখালেখির বিষয়ে প্রশ্ন তোলেন। তাকে হত্যার পর লাশ গুম করার হুমকিও দেওয়া হয় বলে জবানবন্দিতে উল্লেখ করেন তিনি।

জিজ্ঞাসাবাদের সময় তাকে বলা হয় তিনি ‘আয়নাঘরে’ আছেন। এরপর বৈদ্যুতিক শকসহ শারীরিক নির্যাতন চালানো হয়। দ্বিতীয় দিনের জিজ্ঞাসাবাদে ২০১৪ সালের নির্বাচন, আওয়ামী লীগ ও ভারতের সমালোচনামূলক লেখালেখি নিয়েও প্রশ্ন করা হয়।

মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের পক্ষে শুনানি করেন প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম, তার সঙ্গে ছিলেন প্রসিকিউটর শাইখ মাহদীসহ অন্যান্যরা।

এই মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ১৩ জনকে আসামি করা হয়েছে। এর মধ্যে গ্রেফতার রয়েছেন ডিজিএফআইয়ের সাবেক পরিচালক মেজর জেনারেল শেখ মো. সরওয়ার হোসেন, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মাহবুবুর রহমান সিদ্দিকী ও ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আহমেদ তানভির মাজাহার সিদ্দিকী।

পলাতক আসামিদের মধ্যে রয়েছেন ডিজিএফআইয়ের একাধিক সাবেক মহাপরিচালক ও উচ্চপদস্থ সেনা কর্মকর্তা।

রাষ্ট্রপক্ষের মতে, এই মামলার সাক্ষ্যগুলো গুম ও নির্যাতনের প্রাতিষ্ঠানিক চরিত্র উন্মোচনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

এই পাতার আরো খবর
Our Like Page