নিজস্ব প্রতিবেদক । জাতীয় । Qtv Bangla
নির্বাচনকে অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ করতে ভোটকেন্দ্রে কোনো ধরনের জটলা বরদাশত করা হবে না বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার (ইসি) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ। তিনি বলেন, কোনটি ভোটের উৎসব আর কোনটি ভোট ঠেকানোর উদ্দেশ্যে তৈরি জটলা—তা সংশ্লিষ্ট দায়িত্বপ্রাপ্তদের বুঝতে হবে এবং পরিস্থিতি অনুযায়ী তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিতে হবে।
শনিবার (৩১ জানুয়ারি) সকালে ভোলা জেলা প্রশাসক সম্মেলন কক্ষে জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে আয়োজিত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সেল এবং ভিজিলেন্স ও অবজারভেশন টিমের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন তিনি।
ইসি সানাউল্লাহ বলেন, “নির্বাচনের দিন ভোটকেন্দ্রের সীমানার মধ্যে কোনো ধরনের জটলা সহ্য করা হবে না। ভোট হবে উৎসবমুখর পরিবেশে। কিন্তু সেই উৎসবের আড়ালে কেউ যদি ভোটকেন্দ্রে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি বা ভোটগ্রহণে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করে, তা কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না।”
ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা জোরদারের বিষয়ে তিনি বলেন, নির্বাচনকে অবাধ ও নিরপেক্ষ করতে প্রতিটি ভোটকেন্দ্রকে শতভাগ সিসি ক্যামেরার আওতায় আনার চেষ্টা করতে হবে। এতে ভোটকেন্দ্র আরও নিরাপদ থাকবে এবং কেউ অসৎ কাজ করার সুযোগ পাবে না। সিসি ক্যামেরা থাকলে ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বাড়বে এবং যেকোনো অনিয়ম সহজেই শনাক্ত করা সম্ভব হবে।
তিনি আরও বলেন, “আমরা সবাই আমাদের সাধ্যমতো চেষ্টা করছি যেন একটি সুষ্ঠু, সুন্দর ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন উপহার দিতে পারি। এ ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশন একা নয়—প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট সবার সমন্বিত দায়িত্ব পালন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”
নির্বাচনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দায়িত্বপ্রাপ্তদের উদ্দেশে ইসি সানাউল্লাহ বলেন, ভোটগ্রহণের দিন সবাইকে একে অপরের সঙ্গে সমন্বয় রেখে দায়িত্ব পালন করতে হবে। কোনো পরিস্থিতিতেই দায়িত্বে অবহেলা করা যাবে না। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ করলে নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব হবে।
তিনি আরও বলেন, ভোটারদের নির্বিঘ্নে ভোটাধিকার প্রয়োগ নিশ্চিত করাই নির্বাচন কমিশনের মূল লক্ষ্য। ভোটাররা যেন ভয়ভীতি বা চাপ ছাড়াই ভোট দিতে পারেন, সে জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে হবে।
সভায় উপস্থিত কর্মকর্তাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালনের সময় বিচক্ষণতা ও পেশাদারিত্বের পরিচয় দিতে হবে। ছোট কোনো ঘটনা বড় আকার ধারণ করার আগেই তা নিয়ন্ত্রণে আনতে হবে।
মতবিনিময় সভায় জেলা প্রশাসন, পুলিশ, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং নির্বাচনী দায়িত্বপ্রাপ্ত বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। তারা নির্বাচন ও গণভোটকে কেন্দ্র করে গৃহীত প্রস্তুতি, নিরাপত্তা পরিকল্পনা এবং সম্ভাব্য চ্যালেঞ্জ নিয়ে আলোচনা করেন।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, ইসি সানাউল্লাহর এই বক্তব্য মাঠপর্যায়ে নির্বাচন ব্যবস্থাপনায় দায়িত্বপ্রাপ্তদের জন্য স্পষ্ট দিকনির্দেশনা হিসেবে কাজ করবে। ভোটকেন্দ্রে শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং যেকোনো ধরনের অনিয়ম বা বিশৃঙ্খলা প্রতিরোধে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।


