নিজস্ব প্রতিবেদক । জাতীয় । Qtv Bangla
এশিয়াটিক থ্রি সিক্সটি ইস্যুতে হাইকোর্টে যাচ্ছে আইনজীবীদের সংগঠন
আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে অনুষ্ঠিত ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালের জাতীয় নির্বাচনে বহুজাতিক কোম্পানির অর্থ রাজনৈতিক প্রচারণায় অপব্যবহারের অভিযোগ এনে বিষয়টি হাইকোর্টে তোলার ঘোষণা দিয়েছে আইনজীবীদের সংগঠন লইয়ার্স অ্যাগেইনস্ট করাপশন অ্যান্ড অ্যাবিউজ (LACA)।
রোববার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে সংগঠনটি জানায়, চলমান একটি রিট পিটিশনের আওতায় তারা এশিয়াটিক থ্রি সিক্সটি গ্রুপ এবং তাদের সঙ্গে ব্যবসায়িক সম্পর্ক বজায় রাখা দেশি ও বিদেশি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা আদালতের নজরে আনবে।
বিবৃতিতে বলা হয়, সুপ্রিম কোর্টে প্র্যাকটিসরত একাধিক করপোরেট আইনজীবী এই সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। সংগঠনটির দাবি, তারা নৈতিক ব্যবসায়িক চর্চা, স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে কাজ করে যাচ্ছে।
LACA অভিযোগ করে, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় কিছু ব্যবসায়িক গোষ্ঠী রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতায় অবৈধ সুবিধা পেয়েছে এবং এশিয়াটিক থ্রি সিক্সটি গ্রুপ সেই তালিকায় রয়েছে। সংগঠনটির বিবৃতিতে দাবি করা হয়, গ্রুপটির বিরুদ্ধে দুর্নীতি, কর ফাঁকি, অর্থপাচার এবং সহিংস অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে।
বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়, এশিয়াটিক থ্রি সিক্সটি গ্রুপের চেয়ারম্যান ও সাবেক মন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর এমপি সেপ্টেম্বর ২০২৪ থেকে কারাবন্দি এবং তার বিরুদ্ধে একাধিক ফৌজদারি ও দুর্নীতির মামলা বিচারাধীন রয়েছে। একই সঙ্গে গ্রুপটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইরেশ যাকেরসহ কয়েকজন পরিচালক দেশত্যাগ করেছেন বলেও অভিযোগ করেছে সংগঠনটি।
LACA দাবি করে, আদালতের বিভিন্ন নথিতে এশিয়াটিক গ্রুপের বিরুদ্ধে গণমাধ্যম প্রভাবিতকরণ, বিজ্ঞাপন বাজারে একচেটিয়া আধিপত্য প্রতিষ্ঠা এবং রাজনৈতিক প্রোপাগান্ডা পরিচালনার অভিযোগ উঠে এসেছে। সংগঠনটির ভাষ্য অনুযায়ী, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও বিভিন্ন আদালতে গ্রুপটির বিরুদ্ধে একাধিক মামলা বিচারাধীন রয়েছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এশিয়াটিক থ্রি সিক্সটি গ্রুপের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কিছু ব্যাংক হিসাব জব্দ করেছে বলেও তারা জানতে পেরেছে।
আইনজীবীদের সংগঠনটির অভিযোগ, এতসব মামলা ও অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও এশিয়াটিক থ্রি সিক্সটি গ্রুপ এখনও গ্রামীণফোন, নেসলে বাংলাদেশ, এসিআই, ইউনিলিভার, আরলা ফুডস, মারিকো, রেকিট বেনকিজারসহ বিভিন্ন দেশি ও আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন ও বিপণন কার্যক্রম পরিচালনায় যুক্ত রয়েছে।
LACA মনে করে, এসব প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব সাপ্লায়ার কোড অব কন্ডাক্ট, দুর্নীতিবিরোধী নীতি এবং আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংক্রান্ত অঙ্গীকারের সঙ্গে এ ধরনের সম্পর্ক সাংঘর্ষিক হতে পারে।
সংগঠনটি আরও দাবি করেছে, যুক্তরাজ্যভিত্তিক বহুজাতিক যোগাযোগ প্রতিষ্ঠান WPP plc ইতোমধ্যে এশিয়াটিক থ্রি সিক্সটি গ্রুপের সঙ্গে তাদের ব্যবসায়িক সম্পর্ক ছিন্ন করেছে। একটি স্বাধীন আইনি পর্যালোচনার পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।
LACA’র অভিযোগ অনুযায়ী, অতীত সরকারের বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় প্রকল্প বাস্তবায়নের পাশাপাশি এশিয়াটিক থ্রি সিক্সটি গ্রুপ আওয়ামী লীগের পক্ষে রাজনৈতিক প্রচারণা পরিচালনা করেছে। পাশাপাশি বিদেশি পিআর ফার্ম ও লবিস্ট নিয়োগের মাধ্যমে সরকারের আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তি প্রচারেও তারা ভূমিকা রেখেছে বলে দাবি করা হয়।
সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যের উদ্ধৃতি দিয়ে সংগঠনটি আরও দাবি করে, এশিয়াটিক থ্রি সিক্সটি গ্রুপ কয়েক বিলিয়ন ডলারের তহবিল তদারকি করেছে, যার একটি অংশ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হয়ে থাকতে পারে।
লইয়ার্স অ্যাগেইনস্ট করাপশন অ্যান্ড অ্যাবিউজ জানায়, এসব অভিযোগের বিষয়ে তারা সংশ্লিষ্ট দেশি ও বহুজাতিক কোম্পানিগুলোর কাছে লিখিত নোটিশ পাঠালেও সন্তোষজনক কোনো সাড়া পায়নি। এ অবস্থায় বিষয়টি বিচারিক পর্যালোচনার জন্য হাইকোর্ট বিভাগের সামনে উপস্থাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এদিকে এসব অভিযোগের বিষয়ে এশিয়াটিক থ্রি সিক্সটি গ্রুপ এবং বিবৃতিতে উল্লেখিত কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তাৎক্ষণিকভাবে তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রকাশ করা হবে বলে জানানো হয়েছে।


