মুহাম্মদ তাহের নঈম: কক্সবাজার জেলা প্রতিনিধি
দেশের আলোচিত টেকনাফ সীমান্তে মিয়ানমারের সশস্ত্র গোষ্ঠী আরকান আর্মির ছোড়া গুলিতে গুরুতর আহত হয়ে লাইফ সাপোর্টে থাকা শিশু হুজাইফা অবশেষে মারা গেছে। বৃহস্পতিবার (তারিখ উল্লেখযোগ্য) সকাল ৯টা ৫০ মিনিটে ঢাকার ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস অ্যান্ড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
শিশু হুজাইফার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তার মা সাবেকুন্নাহার। সন্তানের মৃত্যুর খবরে পরিবারে নেমে এসেছে শোকের মাতম।
জানা যায়, গত ১১ জানুয়ারি রোববার সকাল ৯টার দিকে টেকনাফ উপজেলার হোয়াইক্যং ইউনিয়নের তেচ্ছিব্রিজ সীমান্ত এলাকায় নিজ বাড়ির কাছে অবস্থানকালে বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে ছোড়া একটি গুলি এসে সরাসরি শিশু হুজাইফার গায়ে লাগে। এতে সে গুরুতরভাবে আহত হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে।
স্থানীয়রা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে উখিয়া উপজেলার কুতুপালংয়ে অবস্থিত এমএসএফ পরিচালিত হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তার অবস্থার অবনতি হওয়ায় চিকিৎসকরা তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল (চমেক)-এ রেফার করেন।
চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিকেল বোর্ড শিশুটির অবস্থা আশঙ্কাজনক বিবেচনা করে উন্নত চিকিৎসার সিদ্ধান্ত নেয়। এর পর ১৩ জানুয়ারি বিকেলে বিজিবি ও চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সহযোগিতায় একটি বিশেষায়িত লাইফ সাপোর্ট অ্যাম্বুলেন্সে করে হুজাইফাকে ঢাকার ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস অ্যান্ড হাসপাতালে (নিনস) ভর্তি করা হয়।
দীর্ঘদিন লাইফ সাপোর্টে থাকার পর অবশেষে বৃহস্পতিবার সকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
এদিকে সীমান্তে গোলাগুলিতে শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় টেকনাফ ও আশপাশের এলাকায় গভীর শোক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা সীমান্তে নিরাপত্তা জোরদার ও বেসামরিক মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।


