অর্থনীতি ডেস্ক:
০৩ অক্টোবর ২০২৫ অন্তর্বর্তী সরকার বিনিয়োগ প্রক্রিয়া সহজ করতে সব বিনিয়োগ সংস্থাকে একীভূত করার উদ্যোগ নিয়েছে। এর অংশ হিসেবে প্রতিটি সংস্থার পৃথক গভর্নিং বোর্ড বিলুপ্ত করে একটি একক বোর্ড গঠন করা হবে। সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো ইতোমধ্যেই আইন সংশোধনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। চূড়ান্ত অনুমোদনের পর অধ্যাদেশ জারির মাধ্যমে নতুন বোর্ড কার্যকর হবে।
বর্তমানে বিনিয়োগ সংস্থাগুলোর গভর্নিং বোর্ডের প্রধান হিসেবে প্রধানমন্ত্রী বা প্রধান উপদেষ্টা থাকেন। অন্যান্য সদস্যরা বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, দপ্তর বা সংস্থার প্রতিনিধি হিসেবে বোর্ডে থাকলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রে একই সদস্যরা একাধিক বোর্ডে অংশগ্রহণ করেন। সংস্থার ধরন অনুযায়ী কিছু সদস্যের ভিন্নতা থাকায় ভিন্ন ভিন্ন বোর্ড মিটিং করতে হয় এবং নিয়মিত বৈঠকের অভাবে দীর্ঘ বিরতি ঘটে। উদাহরণস্বরূপ, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) বোর্ড ২০২০ সালের ৬ আগস্ট বৈঠক করেছিল এবং পরবর্তী বৈঠক হয়েছিল ২০২৫ সালের ১৩ এপ্রিল।
বিডা কর্মকর্তারা জানাচ্ছেন, সংস্থাগুলো একীভূত হলে বোর্ড মিটিংয়ে বিরতি কমবে এবং নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ দ্রুততর হবে। নতুন বোর্ডের সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করবেন বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান। তবে একীভূতকরণ কার্যকর না হওয়া পর্যন্ত বিদ্যমান কাঠামো বজায় থাকবে।
বিনিয়োগ সংস্থাগুলোর একীভূতকরণের প্রস্তাব অনুমোদিত হয়েছে মোট ছয়টি সংস্থাকে নিয়ে—বিডা, বাংলাদেশ রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা কর্তৃপক্ষ (বেপজা), বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা), বাংলাদেশ হাইটেক পার্ক কর্তৃপক্ষ (বিএইচটিপিএ), পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপ কর্তৃপক্ষ (পিপিপিএ) এবং বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন (বিসিক)।
এই প্রক্রিয়ায় ৩০ এপ্রিল একটি আট সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছিল, যার আহ্বায়ক ছিলেন শিল্প উপদেষ্টা আদিলুর রহমান। কমিটিতে ছিলেন প্রধান উপদেষ্টার আন্তর্জাতিক বিষয়ক বিশেষ দূত লুৎফে সিদ্দিকী, প্রধান উপদেষ্টার মুখ্য সচিব এম সিরাজ উদ্দিন মিয়া, অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর, অর্থ বিভাগের সচিব ড. মো. খায়রুজ্জামান ও পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য মোখলেসুর রহমান। কমিটির সদস্য সচিব হিসেবে ছিলেন বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন।
কমিটির প্রথম বৈঠকে বিসিককে একীভূত করার বিষয়ে আপত্তি তোলেন আহ্বায়ক। তবে সাভারে অবস্থিত চামড়া শিল্পনগরীর মতো কেন্দ্রীয় বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠানগুলোর বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছে, বিসিককে একীভূতকরণের বাইরে রাখা হবে।
একাধিক প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে ইপিজেডে বিনিয়োগের সুনিশ্চিত সুবিধার কারণে একীভূতকরণে আপত্তি জানানো হলেও বিডা কর্মকর্তারা বলছেন, উদ্যোগটি বিনিয়োগ সুবিধা বাড়ানোর জন্য নেওয়া হচ্ছে। নতুন বোর্ড গঠিত হলেও বিদ্যমান জনবল ও আর্থিক কাঠামোয় কোনো ধরনের অনিশ্চয়তা থাকবে না।
সংস্থাগুলো একীভূত হলেও নতুন সংস্থার নাম এখনও নির্ধারণ করা হয়নি। একীভূতকরণের প্রক্রিয়ায় আইনগত জটিলতা নিরসন ও অর্গানোগ্রাম প্রস্তুতির জন্য বিদেশি পরামর্শক নিয়োগের সুপারিশ করা হয়েছে, তবে এখন পর্যন্ত নিয়োগ দেওয়া হয়নি।
অন্তর্বর্তী সরকার বিনিয়োগ সংস্থা একীভূত করে একক বোর্ড গঠন করছে, যা ব্যবসায় বিনিয়োগ সহজ ও দ্রুততর করবে।


