কিউটিভি ডেস্ক:
০৪ অক্টোবর ২০২৫: প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নিউ ইয়র্ক সফর হতে পারতো বাংলাদেশের কূটনৈতিক ইতিহাসে এক স্মরণীয় অধ্যায়। তবে সমালোচকদের মতে, এ সফর শেষ পর্যন্ত “রাষ্ট্রীয় পিকনিক”-এ পরিণত হয়েছে। ১০৪ সদস্যের বিশাল প্রতিনিধি দল নিয়ে জাতিসংঘ অধিবেশনে যোগ দেওয়াকে ঘিরে দেশ-বিদেশে এখন তীব্র আলোচনা-সমালোচনা চলছে।
গত বছর ৫৭ সদস্য নিয়ে রেকর্ড গড়েছিলেন তিনি। এবারের সফরে সেই সংখ্যাও ছাড়িয়ে গেছে। প্রতিনিধিদলে ছিলেন ৬ জন উপদেষ্টা, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট ১৩ কর্মকর্তা, নিরাপত্তা দলে ১৯ জন এবং প্রেস ও মিডিয়া টিমে সর্বোচ্চ ৪১ জন সদস্য। রাজনৈতিক নেতাদের অন্তর্ভুক্তি দিয়েও নজর কাড়তে চেয়েছিলেন তিনি, তবে বাস্তবে কোনো ইতিবাচক ফলাফল মেলেনি।
রাজনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে আমন্ত্রণ জানানো হলেও তিনি ব্যক্তিগত কারণে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। পরে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বা তার পররাষ্ট্র উপদেষ্টা হুমায়ুন কবিরকে পাঠানোর প্রস্তাব আসে। এ নিয়ে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেনের বক্তব্যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়, যা বিএনপি, জামায়াত ও এনসিপির মধ্যে বিরোধ বাড়ায়।
সফরের সময় নিউ ইয়র্কে বাংলাদেশবিরোধী বিক্ষোভ, এমনকি ডিম বৃষ্টির মতো ঘটনাও ঘটেছে, যা দেশের ভাবমূর্তিকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
অভিযোগ উঠেছে, সরকারের বিভিন্ন সংস্থার নিয়োগ, প্রশাসনিক পদে ঘুষ লেনদেন এবং দুর্নীতি নিয়েও সফরের ছায়া পড়েছে। সচিবালয় থেকে শুরু করে সংবাদমাধ্যম পর্যন্ত নানা গোপন চুক্তি ও টাকার কারসাজির খবর ছড়িয়ে পড়েছে।
কূটনৈতিক মহল বলছে, জবাবদিহিতার অভাবেই এত বড় প্রতিনিধি দল পাঠানোর যৌক্তিকতা অনিশ্চিত থেকে গেছে। ফলে সমালোচকদের মতে, প্রফেসর ইউনূসের বহুল প্রত্যাশিত নিউ ইয়র্ক সফর শেষ পর্যন্ত আলোচিতের চেয়ে বেশি সমালোচিত হয়েই রয়ে গেল।


