রবিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৬, ১২:৩৬ অপরাহ্ন
Headline
Wellcome to our website...
শেষ সাক্ষীকে আজ জেরা করবেন হাসিনার আইনজীবী
প্রকাশ কাল | সোমবার, ৬ অক্টোবর, ২০২৫, ৬:৫৩ পূর্বাহ্ন
শেখ হাসিনা, জুলাই আন্দোলন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল, ফোনালাপ, মানবতাবিরোধী অপরাধ, বাংলাদেশ প্রকাশের তারিখ/বিভাগ:
ছবি সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক:

জুলাই-আগস্টে সংঘটিত গণহত্যার দায়ে দায়ের হওয়া মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাক্ষ্য দেওয়া মূল তদন্ত কর্মকর্তা মো. আলমগীরকে আজ (সোমবার, ৬ অক্টোবর) জেরা করবেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মো. আমির হোসেন।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেলে এ জেরা অনুষ্ঠিত হবে।

এর আগে, গত ৩০ সেপ্টেম্বর শেখ হাসিনাসহ তিনজনের বিরুদ্ধে তৃতীয় দিনের মতো সাক্ষ্য দেন তদন্ত কর্মকর্তা আলমগীর। তিনি এ মামলার ৫৪তম ও সর্বশেষ সাক্ষী। জবানবন্দিতে তিনি উল্লেখ করেন, গত বছরের জুলাই আন্দোলনের সময় ৪১টি জেলার ৪৩৮টি স্থানে হত্যাকাণ্ড ঘটে এবং ৫০টিরও বেশি জেলায় প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহার করা হয়।

সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে জেরার জন্য আজকের দিন ধার্য করেন ট্রাইব্যুনাল।

ট্রাইব্যুনালে ওইদিন প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানি করেন প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম ও গাজী এমএইচ তামিম। সঙ্গে ছিলেন প্রসিকিউটর ফারুক আহাম্মদ, আবদুস সাত্তার পালোয়ানসহ অন্যরা।

এর আগে, ২৯ সেপ্টেম্বর দ্বিতীয় দিনের সাক্ষ্য দেন আলমগীর। সেদিনও তিনি নিজের জব্দ করা ভিডিও প্রমাণের অংশ হিসেবে যমুনা টেলিভিশনের একটি প্রতিবেদন ও গত বছরের ৫ আগস্ট যাত্রাবাড়ীর পুলিশের হত্যাযজ্ঞের দৃশ্য ট্রাইব্যুনালে উপস্থাপন করেন। তার জবানবন্দিতে উঠে আসে, জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার ওপর তিন লাখ পাঁচ হাজার গুলি ছোড়া হয়েছিল।

২৮ সেপ্টেম্বর প্রথম দিনের সাক্ষ্যে আলমগীর তার জব্দকৃত ১৭টি ভিডিও ট্রাইব্যুনালে উপস্থাপন করেন, যাতে জুলাই-আগস্টের নৃশংস চিত্র ফুটে ওঠে।

সবমিলিয়ে ২৫ কার্যদিবসে শেখ হাসিনার মামলায় মোট ৫৪ জন সাক্ষী সাক্ষ্য দিয়েছেন। শেষ সাক্ষীর জেরা শেষ হলে মামলাটি যুক্তিতর্ক ও রায় ঘোষণার দিকে এগোবে বলে জানা গেছে।

এ মামলার ২৪ সেপ্টেম্বরের শুনানিতে বিশেষ তদন্ত কর্মকর্তা ও প্রসিকিউটর তানভীর হাসান জোহা সাক্ষ্য দেন, পরে তাকেও জেরা করেন আমির হোসেন।

মামলার অন্যতম আসামি সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনও ৩৬ নম্বর সাক্ষী হিসেবে সাক্ষ্য দিয়েছেন এবং নিজের দায় স্বীকার করে রাজসাক্ষী হয়েছেন।

সাক্ষীদের জবানবন্দিতে গত বছরের জুলাই-আগস্ট আন্দোলনে দেশব্যাপী হত্যাযজ্ঞের ভয়াবহ বর্ণনা উঠে এসেছে। শহীদ পরিবার ও প্রত্যক্ষদর্শীরা শেখ হাসিনা, কামালসহ জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন।

গত ১০ জুলাই শেখ হাসিনা, আসাদুজ্জামান খান কামাল ও চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল। এ মামলায় মানবতাবিরোধী অপরাধের পাঁচটি অভিযোগ আনা হয়েছে।

আনুষ্ঠানিক অভিযোগের পৃষ্ঠাসংখ্যা মোট ৮,৭৪৭; যার মধ্যে তথ্যসূত্র ২,০১৮ পৃষ্ঠা, জব্দতালিকা ও দালিলিক প্রমাণাদি ৪,০০৫ পৃষ্ঠা এবং শহীদদের তালিকার বিবরণ ২,৭২৪ পৃষ্ঠা। সাক্ষী করা হয়েছে মোট ৮১ জনকে। গত ১২ মে ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা চিফ প্রসিকিউটরের কাছে প্রতিবেদনটি জমা দেয়।

এই পাতার আরো খবর
Our Like Page