রবিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৬, ০১:৪০ পূর্বাহ্ন
Headline
Wellcome to our website...
স্বর্ণের ঐতিহাসিক উত্থান: প্রথমবারের মতো প্রতি আউন্সের দাম ৪ হাজার ডলার ছাড়াল
প্রকাশ কাল | বুধবার, ৮ অক্টোবর, ২০২৫, ৬:১৮ পূর্বাহ্ন
স্বর্ণের দাম, গোল্ড প্রাইস, ফেডারেল রিজার্ভ, বৈশ্বিক অর্থনীতি, ফ্রিডম ফ্লোটিলা, মুদ্রাস্ফীতি, সুদের হার, গোল্ড ফিউচার্স, বিনিয়োগ
ছবি সংগৃহীত

স্বর্ণের দামের রেকর্ড ভাঙা উত্থান অব্যাহত রয়েছে। প্রথমবারের মতো প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম ৪ হাজার ডলার ছাড়িয়েছে, যা বিশ্ববাজারে এক ঐতিহাসিক মাইলফলক।

বিনিয়োগকারীরা বৈশ্বিক অর্থনৈতিক ও ভূরাজনৈতিক অনিশ্চয়তার মধ্যে নিরাপদ সম্পদে আশ্রয় খুঁজছেন। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের সুদের হার কমানোর সম্ভাবনা বাজারে নতুন আশাবাদ তৈরি করেছে।

বুধবার (৮ অক্টোবর) স্পট গোল্ডের দাম ০.৭ শতাংশ বেড়ে দাঁড়ায় ৪,০১১.১৮ ডলারে, আর ডিসেম্বরে সরবরাহের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের গোল্ড ফিউচার্সের দাম হয় ৪,০৩৩.৪০ ডলার প্রতি আউন্স।

চলতি বছর এখন পর্যন্ত স্বর্ণের দাম বেড়েছে প্রায় ৫২ শতাংশ; ২০২৪ সালে যা বেড়েছিল ২৭ শতাংশ। ঐতিহ্যগতভাবে অনিশ্চিত সময়ের নিরাপদ সম্পদ হিসেবে স্বর্ণের চাহিদা বৃদ্ধি পায়।

স্বাধীন ধাতুবাজার বিশ্লেষক তাই ওয়ং বলেন, “বাজারে এখন স্বর্ণ ট্রেডে বিপুল আস্থা তৈরি হয়েছে। ফেড আরও সুদের হার কমাবে বলে বাজার এখন ৫,০০০ ডলারের পরবর্তী লক্ষ্য ধরেছে।”

তিনি আরও যোগ করেন, “মধ্যপ্রাচ্য বা ইউক্রেনে যুদ্ধবিরতি স্বল্পমেয়াদে কিছু প্রভাব ফেলতে পারে, তবে বিশাল ঋণের বোঝা, রিজার্ভ বৈচিত্র্যকরণ ও দুর্বল ডলার—এসব মৌলিক কারণ পরিবর্তন হবে না।”

বিশ্লেষকদের মতে, সুদের হার কমার প্রত্যাশা, বৈশ্বিক রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা, কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর স্বর্ণ ক্রয়, ইটিএফে বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং দুর্বল ডলার—এই সব কারণ মিলেই স্বর্ণের দামে উত্থান ঘটেছে।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রে সরকারি কার্যক্রম স্থগিত (শাটডাউন) সপ্তম দিনে গড়িয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক সূচক প্রকাশ বিলম্বিত হওয়ায় বিনিয়োগকারীরা বিকল্প উৎসের ওপর নির্ভর করছেন ফেডের পরবর্তী পদক্ষেপ অনুমান করতে। বাজারে এখন প্রত্যাশা করা হচ্ছে, ফেড এই মাসেই ২৫ বেসিস পয়েন্ট সুদ কমাবে এবং ডিসেম্বরে আরও একটি ২৫ বেসিস পয়েন্ট হ্রাস করতে পারে।

কেসিএম ট্রেডের প্রধান বিশ্লেষক টিম ওয়াটারার বলেন, “অনিশ্চয়তা বাড়লে স্বর্ণের দামও বাড়ে—এটা আবারও প্রমাণিত হলো। ফেডের পদক্ষেপ ও সরকারি শাটডাউন দুটোই এখন স্বর্ণের পক্ষে কাজ করছে।”

তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, “৪,০০০ ডলার সীমায় কিছু বিনিয়োগকারী মুনাফা তোলার প্রবণতা দেখাতে পারেন।”

বিশ্লেষকদের মতে, বাজারে এখন ‘ফিয়ার অব মিসিং আউট’ (FOMO) থেকেও ক্রেতাদের আগ্রহ বাড়ছে। পাশাপাশি ফ্রান্স ও জাপানের রাজনৈতিক অস্থিরতাও স্বর্ণের চাহিদা আরও বাড়িয়েছে।

ক্যাপিটাল ডটকমের বিশ্লেষক কাইল রোডা বলেন, “জাপানে নির্বাচনের পর ব্যয় বাড়ানোর সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে, যা ‘রান ইট হট’ ট্রেড প্রবণতাকে আরও জোরদার করেছে।”

বাজারবিশ্লেষকদের ধারণা, স্বর্ণ-সমর্থিত ইটিএফে প্রবাহ, কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর ক্রয় এবং ফেডের নীতিগত পরিবর্তন ২০২৬ সাল পর্যন্ত স্বর্ণের দামকে শক্তিশালী রাখবে।

ইতিমধ্যে গোল্ডম্যান স্যাকস ও ইউবিএস তাদের স্বর্ণমূল্যের পূর্বাভাস আরও বাড়িয়েছে।

অন্য মূল্যবান ধাতুতেও ঊর্ধ্বগতি দেখা গেছে—
স্পট সিলভার ১.৩% বেড়ে ৪৮.৪২ ডলার, প্লাটিনাম ২.৫% বেড়ে ১,৬৫৮.৪০ ডলার, আর প্যালাডিয়াম ১.৮% বেড়ে ১,৩৬১.৮৯ ডলার প্রতি আউন্সে পৌঁছেছে।

এই পাতার আরো খবর
Our Like Page