ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আর মাত্র তিন মাস বাকি। প্রধান উপদেষ্টা একাধিকবার জানিয়েছেন, আগামী বছরের ফেব্রুয়ারির মধ্যেই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ফলে রাজনীতির মাঠ এখন পুরোপুরি নির্বাচনী উত্তাপে গরম। ঠিক এমন সময় রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছে ‘সেফ এক্সিট’ ইস্যু।
সম্প্রতি জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) আহ্বায়ক ও সাবেক তথ্য উপদেষ্টা নাহিদ ইসলাম মন্তব্য করেন, “উপদেষ্টাদের অনেকে এখন নিজেদের ‘সেফ এক্সিট’ বা নিরাপদ প্রস্থান নিয়ে ভাবছেন।” তার এই বক্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক মহলে তীব্র আলোচনা শুরু হয়।
এই প্রেক্ষাপটে শনিবার (১১ অক্টোবর) রাজধানীর ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলে অনুষ্ঠিত ‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ, ২০২৫’ বিষয়ক জাতীয় আলোচনা সভায় অন্তর্বর্তী সরকারের আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল বলেন—
“বর্তমানে ‘সেফ এক্সিট’ নিয়ে অনেক কথা হচ্ছে। কিন্তু আমরা উপদেষ্টারা ভালোভাবেই জানি, আমাদের কোনো প্রকার ‘সেফ এক্সিট’-এর প্রয়োজন নেই। বরং জাতি হিসেবে আমাদের এই ভয়াবহ রাষ্ট্র কাঠামো থেকে ‘সেফ এক্সিট’-এর প্রয়োজন আছে।”
তিনি বলেন,
“গত ৫৫ বছরে আমরা যে দুঃশাসন, গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, এবং সাধারণ মানুষের ব্যাংক আমানত লুট হতে দেখেছি— সেই আত্মবিধ্বংসী রাষ্ট্র কাঠামো থেকেই জাতির মুক্তি প্রয়োজন।”
আসিফ নজরুল আরও বলেন,
“রাষ্ট্রপতি কখনোই স্বাধীনভাবে বিচারপতি নিয়োগ করতে পারেননি। প্রধানমন্ত্রীর ইচ্ছায় বিচারপতি নিয়োগ হয়েছে। এমনকি মানবাধিকার লঙ্ঘনের নেতৃত্ব দেওয়া বিচারপতিও পেয়েছি আমরা।”
তিনি দুঃখ প্রকাশ করে বলেন,
“আমরা ভালো আইন করি, কিন্তু প্রতিষ্ঠান গড়তে ব্যর্থ। ভালো প্রতিষ্ঠান গড়া একটি নিরন্তর প্রক্রিয়া। উচ্চ আদালত, সংসদীয় কমিটি এবং মানবাধিকার কমিশনকে শক্তিশালী না করলে এই দেশের মানুষ যে কোনো সময় মানবাধিকার লঙ্ঘনের শিকার হতে পারেন।”
আইন উপদেষ্টা আশা প্রকাশ করেন যে, নতুন মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ কমিশনের স্বাধীনতা ও দক্ষতা আরও শক্তিশালী করবে।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন—
গৃহায়ন ও গণপূর্ত উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান, পরিবেশ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান, অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান, সচিব ড. হাফিজ আহমেদ চৌধুরী, সুইস রাষ্ট্রদূত রেতো সিগফ্রেড রেংগলি, ড্যানিশ দূতাবাসের প্রতিনিধি এন্ডার্স বি. কার্লসেন, ও ইউএনডিপি প্রতিনিধি স্টেফান লিলার।
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন ইউএনডিপি বাংলাদেশের আইন ও নিরাপত্তা উপদেষ্টা রোমানা শোয়েগার। উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, মানবাধিকার সংগঠনের প্রতিনিধি এবং সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবীরা।


