রবিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৬, ০৯:৩৭ পূর্বাহ্ন
Headline
Wellcome to our website...
দেশে প্রতি দুজনের একজন বাল্যবিবাহের শিকার: দুই শতাব্দী লাগতে পারে বন্ধ হতে
প্রকাশ কাল | সোমবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৫, ৬:২৩ পূর্বাহ্ন
ল্যবিবাহ, বাংলাদেশ, নারী ও শিশু মন্ত্রণালয়, ইউএনএফপিএ, কিশোরী, মেয়েদের শিক্ষা, বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন, সমাজকল্যাণ, লিঙ্গ সমতা
সংগৃহীত ছবি

দেশে প্রতি দুজনের একজন বাল্যবিবাহের শিকার: দুই শতাব্দী লাগতে পারে বন্ধ হতে

বাংলাদেশে এখন প্রতি দুজন মেয়ের একজন, অর্থাৎ ৫১ শতাংশ কিশোরী বাল্যবিবাহের শিকার। এই উদ্বেগজনক বাস্তবতা থেকে উত্তরণে সরকার বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে নতুন কর্মপরিকল্পনা গ্রহণে এগিয়ে এসেছে।

বর্তমানে বছরে মাত্র ২ শতাংশ হারে বাল্যবিবাহ কমছে। বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, এই গতিতে চললে দেশে বাল্যবিবাহ পুরোপুরি বন্ধ হতে দুই শতাব্দীরও বেশি সময় লাগবে।

উচ্চপর্যায়ের আন্তঃমন্ত্রণালয় সংলাপ

এই প্রেক্ষাপটে নারী ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের নেতৃত্বে এবং জাতিসংঘ জনসংখ্যা তহবিলের (ইউএনএফপিএ) সহায়তায় রাজধানীতে রবিবার (১২ অক্টোবর) এক উচ্চ পর্যায়ের আন্তঃমন্ত্রণালয় সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়।

এতে শিক্ষা, আইন ও বিচার, সমাজকল্যাণ, তথ্য ও সম্প্রচার, স্থানীয় সরকার বিভাগ ও মন্ত্রিপরিষদ বিভাগসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিব ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অংশগ্রহণ করেন।

সংলাপে বাল্যবিবাহ নির্মূলে একটি প্রমাণভিত্তিক ও সময়সীমা নির্ধারিত সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নে ঐকমত্য হয়। প্রতিটি মন্ত্রণালয় নিজ নিজ ভূমিকা ও করণীয় নির্ধারণ করে।

আইন ও ডিজিটাল সুরক্ষা জোরদারের প্রস্তাব

আইন ও বিচার মন্ত্রণালয় প্রস্তাব দিয়েছে, বিয়ের বয়স সংক্রান্ত জালিয়াতি রোধে বিবাহ নিবন্ধন ব্যবস্থা ডিজিটালাইজ করার। পাশাপাশি, আইনি ফাঁকফোকর বন্ধে বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়ার কথাও জানানো হয়।

শিক্ষাই সবচেয়ে কার্যকর প্রতিষেধক

শিক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, তারা ছাত্রীদের শিক্ষায় ধরে রাখার কর্মসূচি আরও জোরদার করবে।
স্কুল পর্যায়ে জীবন দক্ষতা, স্বাস্থ্য ও সুস্থতা বিষয়ক শিক্ষা অন্তর্ভুক্ত করা হবে এবং বিদ্যালয়গুলোকে মেয়েদের জন্য আরও নিরাপদ করা হবে।

সভায় বলা হয়, “শিক্ষাই বাল্যবিবাহ প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর প্রতিষেধক।”

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ খাতে পদক্ষেপ

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে আহ্বান জানানো হয় কিশোরী মাতৃত্ব রোধে অধিকারভিত্তিক প্রজনন ও যৌন স্বাস্থ্যসেবা জাতীয় স্বাস্থ্যসুরক্ষা কাঠামোর আওতায় আনার জন্য।
একই সঙ্গে বিবাহিত কিশোরী ও তরুণ অভিভাবকদের জন্য বিশেষ স্বাস্থ্যসেবা প্যাকেজ চালুর প্রস্তাবও আসে।

স্থানীয় পর্যায়ে বাস্তবায়ন জোরদার

স্থানীয় সরকার বিভাগ ও মন্ত্রিপরিষদ বিভাগকে নির্দেশ দেওয়া হয় জেলা পর্যায়ে নীতিমালার কার্যকর বাস্তবায়ন ও নিয়মিত মনিটরিং নিশ্চিত করতে।
এছাড়া সার্বজনীন জন্ম ও বিবাহ নিবন্ধন বাধ্যতামূলকভাবে বাস্তবায়ন এবং স্থানীয় পর্যায়ের কর্মীদের সক্ষমতা ও জবাবদিহিতা বাড়ানোর ওপরও জোর দেওয়া হয়।

ইউএনএফপিএ’র বার্তা

ইউএনএফপিএ প্রতিনিধি ক্যাথরিন ব্রিন কামকং বলেন,

“বাল্যবিবাহ রোধে শুধু আইন নয়, শিক্ষা, সুরক্ষা ও বাস্তবায়নের সমন্বয় দরকার। প্রতিটি মেয়েকে এমন সুরক্ষা নেটওয়ার্কের মধ্যে আনতে হবে, যাতে কেউ বাদ না পড়ে।”

এই পাতার আরো খবর
Our Like Page