‘জয় বাংলা ব্রিগেড’-এর অনলাইন বৈঠকে অংশ নিয়ে রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে দায়ের করা রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় স্বৈরাচার শেখ হাসিনাসহ ২৬১ জন পলাতক আসামিকে আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দিয়েছে ঢাকা মহানগর হাকিম আদালত।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) আদালত পুলিশের প্রতিবেদন পর্যালোচনা শেষে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ দেন মহানগর হাকিম জুয়েল রানা। এর আগে আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হলেও পুলিশ আদালতকে জানায়, তাদের গ্রেফতার সম্ভব হয়নি।
আদালতের নির্দেশ ও পরবর্তী তারিখ
আদালত নিয়ম অনুসারে পলাতক আসামিদের বিরুদ্ধে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের আদেশ দেন এবং আগামী ১১ নভেম্বর মামলার পরবর্তী শুনানির তারিখ ধার্য করেন।
বেঞ্চ সহকারী মো. সালাহউদ্দিন বলেন, “আসামিদের হাজির হতে চূড়ান্ত সুযোগ দিচ্ছে আদালত। এরপর প্রয়োজনীয় পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
নতুন করে ২৪ জন গ্রেপ্তার
এদিকে মামলায় সাবেক সংসদ সদস্য সাবিনা আক্তার তুহিনসহ ২৪ জনকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।
তাদের মধ্যে রয়েছেন—
মো. ইব্রাহীম খলিল বিপুল, মো. আব্দুস সবুর, মোছা. ছানোয়ারা খাতুন, মেহেদী হাসান আকাশ, এ কে এম আকতারুজ্জামান, কে এম রাশেদ, মোছা. মেরিনা খাতুন মেরি, সুশান্ত ভৌমিক, নিজাম বারী, জাহাঙ্গীর আলম, শেখ আনিচুজ্জামান আনিচ, মো. আকরামুল আলম, মো. নুর উন নবী মন্ডল দুলাল মাস্টার্স, মো. সাইফুল ইসলাম সর্দার, কাজী আবুল কালাম, মোছা. ফেন্সী, কে এম শাহ নেওয়াজ ওরফে শিবলু, রফিকুল ইসলাম, জিন্নাত সুলতানা ঝুমা, মেহেদী হাসান ঈশান ওজনি চন্দ্র সূত্রধর প্রমুখ।
আদালত জামিন নামঞ্জুর করে সবাইকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
মামলার পটভূমি
২০২৪ সালের ২৭ মার্চ, সিআইডির সহকারী পুলিশ সুপার মো. এনামুল হক শেখ হাসিনাসহ ৭৩ জনের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা করেন।
পরে তদন্ত শেষে ৩০ জুলাই শেখ হাসিনাসহ ২৮৬ জনকে আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়।
১৪ আগস্ট আদালত অভিযোগপত্র গ্রহণ করে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে এবং ১১ সেপ্টেম্বর আসামিদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দেয়।
অভিযোগের সারসংক্ষেপ
মামলার অভিযোগে বলা হয়, ২০২৩ সালের ১৯ ডিসেম্বর যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি রাব্বী আলমের নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত “জয় বাংলা ব্রিগেড” এর এক অনলাইন বৈঠকে শেখ হাসিনা রাষ্ট্রবিরোধী বক্তব্য দেন এবং অন্তর্বর্তীকালীন সরকার উৎখাতের নির্দেশ দেন।
এই বক্তব্য দ্রুতই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে, যা রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্র হিসেবে চিহ্নিত করে সিআইডি মামলা দায়ের করে।
সূত্র: আদালত নথি ও সিআইডি প্রতিবেদন


