‘জুলাই সনদ’ স্বাক্ষর অনুষ্ঠানের মঞ্চের সামনে থেকে অবস্থানরত জুলাই যোদ্ধাদের সরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী। তা না হলে বলপ্রয়োগ করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।
শুক্রবার (১৭ অক্টোবর) সকালে তিন দফা দাবিতে সংসদ ভবনের ফটক টপকে মঞ্চের সামনে অবস্থান নেন জুলাই যোদ্ধারা। তারা জুলাই সনদ সংশোধন, সনদকে সংবিধানে স্থায়ী অন্তর্ভুক্তি এবং জুলাই যোদ্ধাদের আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতির দাবি জানান।
একপর্যায়ে তারা মঞ্চের সামনে সাজানো চেয়ারগুলোতে বসে পড়েন। মাইক হাতে নিয়ে তাদের শান্ত থাকার অনুরোধ করেন অনুষ্ঠানের এক প্রতিনিধি। পরে ঘটনাস্থলে পুলিশের একাধিক টিম পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে।
প্রসঙ্গত, শুক্রবারই সংসদ ভবন এলাকায় অনুষ্ঠিত হচ্ছে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা, জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সদস্য ও ৩০টি রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদের নিয়ে ‘জুলাই সনদ’ স্বাক্ষর অনুষ্ঠান।
তবে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ও চারটি বাম দল অনুষ্ঠানে অংশ না নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। এনসিপি জানিয়েছে, আইনি ভিত্তি ছাড়া সনদে স্বাক্ষর মূল্যহীন হবে। অন্যদিকে চারটি বাম দল—বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি), বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ), বাসদ (মার্ক্সবাদী) ও বাংলাদেশ জাসদ—বলেছে, সংবিধানের চার মূলনীতি অনুপস্থিত থাকায় তারা সনদে স্বাক্ষর করবে না।
অন্যদিকে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন জানিয়েছে, সনদে আজকের পরও স্বাক্ষরের সুযোগ থাকবে এবং কমিশনের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই (৩১ অক্টোবর) জুলাই সনদ বাস্তবায়নের সুস্পষ্ট ও পূর্ণাঙ্গ সুপারিশ অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে উপস্থাপন করা হবে।
সংসদ ভবনের আশপাশে বাড়ানো হয়েছে নিরাপত্তা, আর ডিএমপি কমিশনারের হুঁশিয়ারির পর পরিস্থিতি উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে উঠেছে।


