সংসদ ভবনে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, জুলাই সনদ স্বাক্ষর অনুষ্ঠানের আগে জুলাই যোদ্ধাদের অবস্থান
জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় শুক্রবার বিকেলে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া জুলাই জাতীয় সনদ স্বাক্ষর অনুষ্ঠানের আগে সংসদ ভবন এলাকা দখল করেন জুলাই যোদ্ধারা। তারা মঞ্চের সামনে তিনটি দাবি নিয়ে অবস্থান নেন।
জুলাই যোদ্ধাদের তিনটি দাবি ছিল—
জুলাই সনদ সংশোধন করতে হবে।
সনদকে স্থায়ীভাবে সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।
জুলাই সনদে জুলাই যোদ্ধাদের স্বীকৃতি দিতে হবে।
ড. আলী রীয়াজের প্রতিশ্রুতি
জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সহ-সভাপতি ড. আলী রীয়াজ জুলাই যোদ্ধাদের দাবির প্রেক্ষিতে জানান, সনদে জরুরি সংশোধন আনা হচ্ছে। তিনি বলেন, “আপনাদের সঙ্গে এইভাবে দেখা করতে হচ্ছে, আন্তরিকভাবে ক্ষমাপ্রার্থী। জুলাই যোদ্ধাদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে সনদের পঞ্চম দফার অঙ্গীকারনামায় জরুরি সংশোধন তৈরি করা হচ্ছে, যা চূড়ান্ত সনদে থাকবে। সেখানে স্বীকৃতি, মর্যাদা এবং সুরক্ষা নিশ্চিত হবে।”
তবে এই আশ্বাসে মন না গলেও, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী হস্তক্ষেপ করে জুলাই যোদ্ধাদের সংসদ ভবনের বাইরে সরিয়ে দেয়।
ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষ
সকাল থেকেই আন্দোলনরত জুলাই যোদ্ধারা সংসদ ভবনের বাইরে অবস্থান নেন। পরে তারা সংসদের ১২ নম্বর গেট ভেঙে ভেতরে ঢোকে। পুলিশের ধাওয়া ও সংঘর্ষের সময় আন্দোলনকারীরা কিছু যানবাহন ভাঙচুর করে এবং পুলিশের দিকে ইট-পাটকেল ছুঁড়ে। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার করে।
আইনগত ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট
আজকের অনুষ্ঠানে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা, জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সদস্যরা এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত থাকবেন। তবে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) আইনি ভিত্তি ছাড়া সনদে স্বাক্ষর করবে না বলে জানিয়েছে। এছাড়া চারটি বাম দলও সংবিধানের কিছু মূলনীতি না থাকায় সনদে স্বাক্ষর করবে না।
ড. আলী রীয়াজ জানান, কমিশন ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত বহাল থাকবে এবং সনদ সংক্রান্ত সুস্পষ্ট ও পূর্ণাঙ্গ সুপারিশ অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে উপস্থাপন করা হবে।
সংক্ষেপে, জাতীয় সংসদে জুলাই যোদ্ধাদের অবস্থান ও পুলিশের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা তুলে ধরে স্পষ্ট হয়েছে যে, জুলাই সনদ সংশোধন ও স্বীকৃতি নিয়ে এখনও রাজনৈতিক উত্তেজনা অব্যাহত।


