জাতীয় সংসদ ভবন এলাকায় সোমবার (১৭ অক্টোবর) বিতর্কিত ‘জুলাই সনদ’ স্বাক্ষর অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি চলাকালে পুলিশের লাঠিচার্জে উত্তপ্ত পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষে একজন আহত জুনিয়র আন্দোলনকারীকে দেখা যায় কৃত্রিম হাত রাস্তায় পড়ে থাকতে — পরে তিনি হাতকে ঝুঁকি রেখে পালিয়েছেন। ঘটনায় বেশ কিছু যানবাহন ভাঙচুর ও আগুন ধরানোর ঘটনা ঘটেছে; পুলিশ টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে।
জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় দিনের প্রথম ভাগ থেকেই অবস্থান নেন ‘জুলাই যোদ্ধা’–রা, তারা দাবি তুলেছেন— (১) জুলাই সনদ সংশোধন, (২) সনদকে সংবিধানে স্থায়ীকরণ, (৩) নিহত ও আহত মার্চেন্টদের স্বীকৃতি ও মর্যাদা প্রদান।
দুপুরে আন্দোলনকারীদের হয়ে ওঠা উত্তেজনার সময় পুলিশ লাঠিচার্জ করে; ধাওয়া–পাল্টা ধাওয়ায় এক আন্দোলনকারীর শরীরে লাগানো কৃত্রিম হাত খুলে পড়ে রাস্তায় পড়ে থাকতে দেখা যায়। ওই ব্যক্তি হাত রেখেই ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।
আন্দোলনকারীরা কয়েকটি ট্রাক-বাস ভাঙচুর ও ব্যারিকেড জ্বালিয়ে দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। পুলিশের পক্ষ থেকে টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড প্রয়োগ করা হয়; পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এপিবিএনসহ মোতায়েন ছিল।
জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সহ-সভাপতি ড. আলী রীয়াজ আন্দোলনকারীদের আশ্বস্ত করে বলেছিলেন—সনদে জরুরি সংশোধন আনা হচ্ছে এবং স্বীকৃতি-সংবিধান সংক্রান্ত বিষয়ে ব্যবস্থা থাকবে; তবু আন্দোলনকারীরা সরে যেতে অস্বীকৃত ছিলেন।
এবিষয়ে পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তরফে বিবৃতি অপেক্ষা করা হচ্ছে; ঘটনাস্থল থেকে আহতদের হাসপাতালে নেওয়ার খবর আছে।
ঘটনাপ্রবাহ এবং ভুক্তভোগীর অবস্থা
সূত্রসূত্র মিলিয়ে জানা যায়, দুপুরে কয়েক দফায় বাহিরের গ্রুপ ও ভেতরের যোদ্ধাদের সংঘাতের মধ্যেই ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। পুলিশের লাঠিচার্জে কয়েকজন গুলিবিন্যাসে আহত হয়েছেন বলে আন্দোলনকারী সূত্রে দাবি থাকলেও, পুলিশ তা খণ্ডন করেছে। আহত একটি ব্যক্তির কৃত্রিম হাত রাস্তায় পড়ে থাকতে জানাদের ছবিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়ায়—ইতিমধ্যে তা ভাইরাল হয়েছে। আহত ব্যক্তি পরে হাতটি ধরে দ্রুত কাছাকাছি গলিতে দৌড়ে প্রান্তে চলে যান।
প্রশাসন ও রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া
ডিএমপি কমিশনার ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা কর্মকর্তা ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন; পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করা হয়।
জাতীয় ঐকমত্য কমিশন জানিয়েছে, সনদ–বিষয়ক বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যেতে হবে এবং ৩১ অক্টোবর কমিশন মেয়াদকে ধরে রেখে পরবর্তী পদক্ষেপ নেয়া হবে।
জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ও কিছু বাম দল ইতিমধ্যেই সনদে স্বাক্ষর না করার সিদ্ধান্ত জানিয়েছে—আইনি ভিত্তি না থাকলে অংশগ্রহণ করা হবে না বলে ঘোষণা আছে।
প্রভাব ও পরবর্তী করণীয়
রাজনৈতিক মানচিত্রে এই সংঘর্ষে উত্তেজনা বৃদ্ধি ও সনদ প্রক্রিয়ার গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও আয়োজক কর্তৃপক্ষের সতর্কতা ও স্বচ্ছতা বজায় রাখা না হলে পরিস্থিতি আরও অবনতির আশঙ্কা রয়েছে। আহত ও ক্ষতিগ্রস্তদের সুরক্ষা, ঘটনার নিরপেক্ষ অনুসন্ধান ও সনদ সংশোধন নিয়ে প্রতিশ্রুতিকারকদের স্পষ্ট পদক্ষেপ দাবি করা হচ্ছে।


