শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬, ০৮:৩০ অপরাহ্ন
Headline
Wellcome to our website...
কাশ্মীরে ইসরাইলি মডেলে দমননীতির সময়কালে শাহরুখ খান বিলিয়নিয়ার
প্রকাশ কাল | বুধবার, ৫ নভেম্বর, ২০২৫, ৩:২৬ অপরাহ্ন
শাহরুখ খান বিলিয়নিয়ার, শাহরুখ খান জন্মদিন, বলিউড বাদশা, হুরুন ইন্ডিয়া রিচ লিস্ট ২০২৫, ভারতীয় সমাজ, বলিউড ও রাজনীতি
ছবি: সংগৃহীত

৬০ বছরে শাহরুখ খান বিলিয়নিয়ার: ভারতের অর্থনীতি, নীরবতা ও বৈপরীত্যের প্রতীক

রোববার যখন বলিউডের কিংবদন্তি শাহরুখ খান ৬০ বছরে পা রাখলেন, দিনটি কেবল জন্মদিনই নয়—ভারতের বিনোদন ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা। কারণ, হুরুন ইন্ডিয়া রিচ লিস্ট ২০২৫ অনুসারে শাহরুখ খান এখন ভারতের সবচেয়ে ধনী অভিনেতা, এবং দেশের ৩৫৮ বিলিয়নিয়ারের একজন।

বিশ্বের জনসংখ্যার মাত্র ০.০০০০৪ শতাংশ মানুষ যে গোষ্ঠীতে, শাহরুখ এখন সেই বিলিয়নিয়ার ক্লাবের সদস্য। মিডল ইস্ট আইয়ের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, এটি শুধু ব্যক্তিগত সাফল্য নয়—বরং ভারতের বর্তমান অর্থনীতি ও রাজনীতির প্রতিফলনও বটে।


সাফল্যের পথ ও ভারতের গল্প

শাহরুখের উত্থান বোঝার জন্য ফিরে যেতে হয় শীতল যুদ্ধ–পরবর্তী ভারতের অর্থনৈতিক রূপান্তরের যুগে।
১৯৯০ দশকে দেশ যখন মুক্তবাজার অর্থনীতিতে প্রবেশ করল, তখনই হিন্দু জাতীয়তাবাদও নতুন রূপে উত্থান ঘটায়।

এই সময়ে বলিউড হয়ে ওঠে “নতুন ভারতের স্বপ্নের” প্রতীক—বহুজাতিক ব্র্যান্ড, বিলাসবহুল জীবনযাপন ও পশ্চিমা ধাঁচের গ্ল্যামারের বাহন।
আর এই প্রেক্ষাপটে শাহরুখ খান হয়ে উঠলেন এক সেতুবন্ধন—রক্ষণশীল অতীত ও মুক্তবাজারের ভবিষ্যতের মধ্যে

‘রাজ’, ‘রাহুল’ কিংবা ‘বীর’-এর মতো চরিত্রে তিনি উপস্থাপন করেন এমন এক জাতি–ধর্ম নির্বিশেষ ঐক্যের স্বপ্ন, যা ভারতীয় দর্শককে একতাবদ্ধ করে।


মুসলিম নায়ক ও সাংস্কৃতিক প্রতীক

একজন বিনয়ী মুসলিম নায়ক হিসেবে শাহরুখ খান ছিলেন সংখ্যাগুরু হিন্দু সমাজের কাছে ‘নিরাপদ প্রতীক’।
তিনি প্রমাণ করেছেন, মুসলমানও ‘ভালো ভারতীয়’ হতে পারে—যদি সে দেশপ্রেমিক, অনুগত ও অরাজনৈতিক হয়।

এই অবস্থান তাকে যেমন উদারপন্থীদের কাছে ‘সহনশীলতার প্রতীক’ করেছে, তেমনি ডানপন্থীদের কাছেও সন্দেহের পাত্র বানিয়েছে।
দুই পক্ষই তাকে নিজেদের প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যবহার করেছে—শান্তির প্রতীক বা রাষ্ট্রনিষ্ঠ বিনোদন আইকন হিসেবে।


নীরবতা, আপস ও ব্যবসার বিস্তার

২০১৫ সালে নরেন্দ্র মোদি ক্ষমতায় আসার পর শাহরুখ খান একবার ‘অসহিষ্ণুতা’ প্রসঙ্গে মন্তব্য করেছিলেন।
তার পরেই শুরু হয় ট্রল ও বয়কট প্রচারণা। সেই ঘটনার পর থেকে তিনি রাজনীতি ও সামাজিক ইস্যুতে নীরব।

এই নীরবতা, অনেকের মতে, তার ব্যবসায়িক উত্থানের সঙ্গে সম্পর্কিত।
তার প্রযোজনা সংস্থা রেড চিলিজ এন্টারটেইনমেন্ট, ক্রিকেট দল কলকাতা নাইট রাইডার্স এবং কিডজানিয়া, মিররএআর, মিরক্যাট–এর মতো প্রতিষ্ঠান তাকে বিলিয়ন ডলারের ব্যবসায় পৌঁছে দিয়েছে।

স্ত্রী গৌরী খানও বিনিয়োগ করেছেন ওয়াইও, সাবকো কফি, চুপস ফুটওয়্যারসহ নানা ব্র্যান্ডে।
একইসঙ্গে শাহরুখ হচ্ছেন ভারতের সবচেয়ে চাহিদাসম্পন্ন ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর—টাটা, রিলায়েন্স, হুন্দাই, কাস্ট্রলসহ বহু কোম্পানির প্রচারক।
তবে এসব ব্র্যান্ডের অনেকেই ইসরাইলের সঙ্গে বাণিজ্যিকভাবে যুক্ত, যা সামাজিক প্রশ্ন তুলেছে।


গণহত্যার সময়ে বিলিয়নিয়ার

বর্তমানে ভারতের মুসলমানরা নাগরিকত্ব সংকট, লিঞ্চিং, প্রশাসনিক বৈষম্য ও ভয়াবহ দমননীতির মুখে।
কাশ্মীরে চলছে ইসরাইলি মডেলের দমননীতি ও জনসংখ্যা পরিবর্তনের প্রচেষ্টা

এই বাস্তবতায় শাহরুখ খানের নীরবতা আরও তীব্র প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে।
যখন গাজায় গণহত্যা চলছে, তখন ভারতের অনেক সমাজকর্মী প্রতিবাদের কারণে গ্রেফতার হচ্ছেন—কিন্তু শাহরুখ নীরব।

বরং মে মাসে তিনি উপস্থিত হন নিউ ইয়র্কের ‘মেট গালা’তে, আর অক্টোবরে সৌদি আরবের ‘জয় ফেস্টিভ্যালে’—সোনালি পোশাকে, রাজপরিবারের সামনে প্রশংসায় মগ্ন।

এ যেন এক গভীর প্রতীক—বিশ্ব যখন ভেঙে পড়ছে, তারকারা নিজেদের সাম্রাজ্য আরও ঝলমলে করে তুলছেন।

এই পাতার আরো খবর
Our Like Page