শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬, ১১:৫৮ অপরাহ্ন
Headline
Wellcome to our website...
বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণে একীভূত পাঁচ ইসলামী ব্যাংক: শেয়ারধারীরা শূন্য
প্রকাশ কাল | বুধবার, ৫ নভেম্বর, ২০২৫, ৩:৩৯ অপরাহ্ন
বাংলাদেশ ব্যাংক, ইসলামী ব্যাংক একীভূতকরণ, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, এক্সিম ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, প্রশাসক নিয়োগ, আহসান এইচ মনসুর
ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণে একীভূত পাঁচ ইসলামী ব্যাংক: প্রশাসক নিয়োগ, শেয়ারধারীরা শূন্য

বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতে বড় ধরনের পুনর্গঠন ঘটেছে। একীভূত হতে যাওয়া ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক, এক্সিম ব্যাংক ও সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক—এই পাঁচটি বেসরকারি ইসলামী ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক

বুধবার (৫ নভেম্বর) কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে পাঁচ ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে জানানো হয়—প্রতিটি ব্যাংকের বিদ্যমান পরিচালনা পর্ষদ বিলুপ্ত করা হয়েছে এবং সেখানে বাংলাদেশ ব্যাংকের পাঁচজন করে কর্মকর্তাকে প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।


একীভূত ব্যাংক হবে দেশের সবচেয়ে বড় আর্থিক প্রতিষ্ঠান

বিকেলে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর বলেন,

“একীভূত ব্যাংকটি হবে দেশের সবচেয়ে বড় ব্যাংক। এই ব্যাংকের আমানতকারীদের জমা রাখা অর্থ সম্পূর্ণ নিরাপদ। এটি সরকারি মালিকানাধীন হলেও পরিচালিত হবে বেসরকারি নীতিতে।”

তিনি আরও জানান, একীভূত ব্যাংক গঠনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে দুই বছরের বেশি সময় লাগতে পারে। এ সময় পর্যন্ত প্রশাসক দল ব্যাংকগুলোর সব কার্যক্রম তদারকি করবে।


আমানতকারীদের আশ্বস্ত করল বাংলাদেশ ব্যাংক

গভর্নর বলেন,

“অমানতকারীদের দুশ্চিন্তার কিছু নেই। সবাই চাইলে চলতি মাস থেকেই ২ লাখ টাকা পর্যন্ত তুলতে পারবেন।”

বাংলাদেশ ব্যাংক নিশ্চিত করেছে, ব্যাংকগুলোতে কোনো কর্মীর চাকরি যাবে না এবং সেবা কার্যক্রম আগের মতোই চলবে
তবে বড় অঙ্কের আমানতকারীরা কবে টাকা তুলতে পারবেন, তা পরবর্তীতে গেজেটের মাধ্যমে জানানো হবে।


৭৫০টি শাখা, অক্ষত কর্মসংস্থান

পাঁচ ব্যাংকের মোট ৭৫০টি শাখা দেশের বিভিন্ন স্থানে রয়েছে। গভর্নর আহসান এইচ মনসুর বলেন,

“সব কর্মীই থাকবেন। প্রয়োজনে শাখাগুলো পুনর্বিন্যাস করা হবে, তবে কর্মসংস্থান অক্ষত থাকবে।”

বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, শাখাগুলোর অবস্থান, আর্থিক কার্যকারিতা ও আমানত–ঋণ ভারসাম্য পর্যালোচনা করে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নেওয়া হবে।


শেয়ারধারীরা কিছুই পাবেন না

শেয়ারধারীদের ভবিষ্যৎ প্রসঙ্গে গভর্নর বলেন,

“পাঁচ ব্যাংকের ক্ষতির পরিমাণ এত বেশি যে ১০ টাকার প্রতিটি শেয়ারের মূল্য ঋণাত্মক ৩৫০ থেকে ৪২০ টাকায় নেমে গেছে। আন্তর্জাতিক নিয়ম অনুযায়ী, এমন পরিস্থিতিতে শেয়ারধারীরা কিছুই পান না। তাদের শেয়ার এখন কার্যত শূন্য।”

তিনি যোগ করেন,

“আমরা শেয়ারহোল্ডারদের কাছে অর্থ দাবি করছি না—এটাই তাদের ভাগ্য। তবে যারা বন্ডে বিনিয়োগ করেছেন, তারা টাকা বা শেয়ার পাবেন।”


একীভূত ব্যাংকিং কাঠামোর নতুন অধ্যায়

অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এটি বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতে সবচেয়ে বড় একীভূতকরণ কার্যক্রম, যা ব্যর্থ বেসরকারি ব্যাংকগুলোর আর্থিক অস্থিরতা সামলাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
তবে তারা সতর্ক করেছেন—নতুন ব্যাংকটি যদি কার্যকরভাবে পরিচালিত না হয়, তবে পুরো খাতেই আস্থা সংকট তৈরি হতে পারে।

এই পাতার আরো খবর
Our Like Page