নিজস্ব প্রতিবেদক | Qtv Bangla | ঢাকা, ৫ নভেম্বর ২০২৫:
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। দাবি-আপত্তি নিষ্পত্তির পর ১৮ নভেম্বর প্রকাশ করা হবে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা। তবে নতুন করে নাম অন্তর্ভুক্তির সুযোগ না থাকলেও ভোটার এলাকা পরিবর্তনের সুযোগ রাখা হয়েছে।
ইসি জানিয়েছে, ভোটার এলাকা বা ঠিকানা পরিবর্তনের আবেদন করতে হলে আগামী ১০ নভেম্বরের মধ্যে নির্ধারিত ফরম-১৩ পূরণ করে সংশ্লিষ্ট উপজেলা বা থানা নির্বাচন অফিসে জমা দিতে হবে। রেজিস্ট্রেশন কর্মকর্তাদের এসব আবেদন ১৭ নভেম্বরের মধ্যে অনুমোদন বা বাতিল করার নির্দেশ দিয়েছে কমিশন।
গতকাল মঙ্গলবার ইসির সিনিয়র সহকারী সচিব মো. নাসির উদ্দিন চৌধুরী স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এই নির্দেশনা মাঠপর্যায়ের সব উপজেলা ও থানা নির্বাচন কর্মকর্তার কাছে পাঠানো হয়। একইসঙ্গে ইসি সচিবালয়সহ মাঠপর্যায়ের সব দপ্তরে চিঠির অনুলিপি পাঠানো হয়েছে।
চিঠিতে বলা হয়েছে, “আবাসস্থল পরিবর্তনের কারণে ভোটার স্থানান্তরের আবেদন দাখিল ও নিষ্পত্তি করার সময়সূচি অনুমোদন দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। এই প্রক্রিয়া শেষে ১৮ নভেম্বর প্রকাশিত হবে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা।”
ইসি কর্মকর্তারা জানান, ভোটার স্থানান্তর প্রক্রিয়া পুরোপুরি অনলাইন ও ম্যানুয়াল দুইভাবে সম্পন্ন করা যাবে। আবেদনকারীদের জাতীয় পরিচয়পত্র, নতুন ঠিকানার প্রমাণপত্র ও পূর্ণাঙ্গ ফরম-১৩ জমা দিতে হবে।
এদিকে প্রবাসীদের ভোটার নিবন্ধন সম্পর্কেও নির্দেশনা জারি করেছে ইসি। জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের পরিচালক (নিবন্ধন ও প্রবাসী) খান আবি শাহানুর খান স্বাক্ষরিত আরেকটি চিঠিতে বলা হয়, প্রবাসে বসবাসরত বাংলাদেশিদের ভোটার নিবন্ধনের আবেদনগুলো ৬ নভেম্বরের মধ্যে নিষ্পত্তি করতে হবে।
চিঠিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত জমা হওয়া আবেদনগুলোর বায়োমেট্রিক ও দলিল যাচাই সম্পন্ন করে মাঠপর্যায়ে তদন্ত প্রতিবেদন পাঠাতে হবে। যেসব আবেদন অসম্পূর্ণ থাকবে, সেগুলো “ডকুমেন্ট সংযুক্ত নেই” হিসেবে উল্লেখ করে স্থগিত রাখতে হবে।
ইসি সূত্রে জানা গেছে, ডিসেম্বরের শুরুর দিকে নির্বাচনী তফসিল ঘোষণা এবং আগামী বছরের ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি চলছে।
কমিশন আশা করছে, এবার ভোটার তালিকা ও নিবন্ধন প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে হবে, যাতে কোনো অনিয়ম বা দ্বৈত ভোটার সমস্যা না থাকে।
নির্বাচন কমিশনের এক কর্মকর্তা বলেন,
“আমরা চাই, ভোটারদের জন্য প্রক্রিয়াটি সহজ হোক। অনেকে কর্মস্থল বা বিদেশে অবস্থান করছেন—তাদের সুযোগ রেখে প্রক্রিয়াটি সময়সীমার মধ্যে সম্পন্ন করা হবে।”


