শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬, ১১:৫৫ অপরাহ্ন
Headline
Wellcome to our website...
চট্টগ্রামে বিএনপি প্রার্থীর গণসংযোগে গুলিবর্ষণ, নিহত ১, গুলিবিদ্ধ এরশাদ উল্লাহ
প্রকাশ কাল | বুধবার, ৫ নভেম্বর, ২০২৫, ৪:১০ অপরাহ্ন
চট্টগ্রাম নির্বাচন, বিএনপি প্রার্থী গুলিবিদ্ধ, এরশাদ উল্লাহ, রাজনৈতিক সহিংসতা, চট্টগ্রাম-৮, গুলিবর্ষণ, নির্বাচনী সহিংসতা, বাংলাদেশ নির্বাচন ২০২৫
ছবি: সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক | Qtv Bangla | চট্টগ্রাম, ৫ নভেম্বর ২০২৫:
চট্টগ্রাম-৮ (চান্দগাঁও-বোয়ালখালী) আসনে গণসংযোগ চলাকালে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও নগর বিএনপির আহ্বায়ক এরশাদ উল্লাহ গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হয়েছেন। বুধবার সন্ধ্যায় এই হামলার ঘটনায় একজন নিহত ও দুজন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। নিহত ব্যক্তির নাম সারোয়ার হোসেন বাবলা, যিনি শিবির নামধারী একটি সন্ত্রাসী গ্রুপের নেতা বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।

ঘটনাটি ঘটেছে নগরীর বায়েজিদ বোস্তামী থানাধীন হামজারবাগ চালিতাতলী এলাকায়, যখন এরশাদ উল্লাহ নির্বাচনী গণসংযোগে ছিলেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মোটরসাইকেল আরোহী চার দুর্বৃত্ত পরপর কয়েক রাউন্ড গুলি চালিয়ে পালিয়ে যায়।

রক্তাক্ত অবস্থায় এরশাদ উল্লাহ ও স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা এরফানুল হক শান্তকে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সারোয়ার হোসেন বাবলা হাসপাতালে নেওয়ার পর মারা যান। রাত ৯টা পর্যন্ত প্রার্থী এরশাদ উল্লাহ চিকিৎসাধীন ছিলেন বলে জানা গেছে।

বায়েজিদ বোস্তামী থানার ওসি জসিম উদ্দিন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান,

“আমাদের টিম ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রাথমিক তদন্ত শুরু করেছে। কারা এ হামলা চালিয়েছে তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।”

এদিকে, নগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নাজিমুর রহমান বলেন,

“এ হামলাটি জামায়াত-শিবির পরিকল্পিতভাবে ঘটিয়েছে। আমরা এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি এবং জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতারের দাবি করছি।”

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন,

“নির্বাচন বানচালের উদ্দেশ্যেই এই হামলা হতে পারে। আমরা প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি, যারাই জড়িত থাকুক—তাদের দ্রুত চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে হবে।”

পুলিশের একটি সূত্র জানায়, শিবিরের আন্ডারওয়ার্ল্ডের দুটি গ্রুপের অন্তর্দ্বন্দ্বের জেরে এ হামলা হয়ে থাকতে পারে। নিহত বাবলা ও সাজ্জাদ নামের দুই শিবির ক্যাডারের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে দ্বন্দ্ব চলছিল।

🔍 কে এই সারোয়ার হোসেন বাবলা:

নিহত সারোয়ার ছিলেন একসময় চট্টগ্রামে আলোচিত শিবির ক্যাডার সাজ্জাদ আলী খানের ঘনিষ্ঠ সহযোগী। পরবর্তীতে তাদের মধ্যে দ্বন্দ্ব দেখা দিলে তিনি নিজস্ব গ্রুপ গড়ে তোলেন।
তার বিরুদ্ধে হত্যা, অস্ত্র, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের ১৯টি মামলা রয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।

২০১১ সালে পুলিশ তার কাছ থেকে একটি একে-৪৭ রাইফেল, দুটি পিস্তল, একটি এলজি ও গুলি উদ্ধার করে।
কারাগার থেকে জামিনে বের হয়ে তিনি কাতারে পালিয়ে যান এবং ২০২০ সালে দেশে ফেরার পর আবারও সক্রিয় হন।

নিহত সারোয়ারের পিতা আবদুল কাদের অভিযোগ করেছেন,

“এই হামলার নেতৃত্ব দিয়েছে শিবির ক্যাডার সাজ্জাদের লোকজন। সাজ্জাদ ১৩টি হত্যাকাণ্ডে জড়িত। আমি আমার ছেলের হত্যার বিচার চাই।”

হামলার ঘটনায় এলাকাজুড়ে উত্তেজনা বিরাজ করছে। বিএনপি প্রার্থীর ওপর প্রকাশ্যে এমন গুলিবর্ষণের ঘটনায় নির্বাচনী নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে অন্য প্রার্থীদের মধ্যেও

হাসপাতালে রাতভর ভিড় করেন বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের শত শত নেতাকর্মী। আহতদের চিকিৎসায় নিয়োজিত রয়েছেন হাসপাতালের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দল।

পুলিশ বলছে, হামলাকারীদের শনাক্তে আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে, এবং ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

এই পাতার আরো খবর
Our Like Page