শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬, ১১:৫৫ অপরাহ্ন
Headline
Wellcome to our website...
মামদানির বিজয়: প্রবাসী বাংলাদেশি ‘আঙ্কেল-আন্টিদের’ ঐক্যবদ্ধ শক্তির জয়
প্রকাশ কাল | বুধবার, ৫ নভেম্বর, ২০২৫, ৯:১৮ অপরাহ্ন
জোহরান মামদানি, নিউইয়র্ক নির্বাচন, বাংলাদেশি অভিবাসী, প্রবাসী বাংলাদেশি, ডেমোক্রেটিক পার্টি, জ্যাকসন হাইটস, বাংলাদেশ কমিউনিটি, যুক্তরাষ্ট্র নির্বাচন
ছবি: সংগৃহীত

মামদানির বিজয় বাংলাদেশি ‘আঙ্কেল আন্টিদের’

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
নিউইয়র্ক সিটির মেয়র নির্বাচনে ডেমোক্রেট প্রার্থী জোহরান মামদানির ঐতিহাসিক বিজয়ে প্রবাসী বাংলাদেশিদের ভূমিকা এখন যুক্তরাষ্ট্রের মূলধারার গণমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। নিউইয়র্ক টাইমসসহ একাধিক গণমাধ্যম লিখেছে, এই জয়ের পেছনে ছিল এক ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশি ভোটব্যাংক — যাদের রাজনৈতিক সচেতনতা, সাহস ও প্রচারণার তেজে মামদানি হয়ে উঠেছেন ‘জনগণের প্রার্থী’।

যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে প্রবাসী বাংলাদেশিদের অংশগ্রহণ এবার ছিল নজিরবিহীন। শতকরা প্রায় ৯৮ ভাগ বাংলাদেশি মুসলমান ভোট দেন; যার প্রায় সবকটিই মামদানির পক্ষে যায়। মুসলমান ও ইমিগ্রেন্টদের প্রতি বৈষম্যের সময়েও কমিউনিটির ঐক্য মামদানির জন্য একটি শক্তিশালী বার্তা দেয় মূলধারার রাজনীতিতে।

মামদানি তাঁর বিজয়-পরবর্তী ভাষণে আবেগাপ্লুত কণ্ঠে বলেন, “এই জয় শুধু আমার নয়, এটি বাংলাদেশি আঙ্কেল-আন্টিদের, যাঁরা প্রতিদিন কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে এই শহরকে বাঁচিয়ে রাখেন।”

প্রবাসী কমিউনিটির প্রচারণা

প্রচারণার প্রথম দিন থেকেই বাংলাদেশিরা ছিলেন মামদানি ক্যাম্পেইনের মূল ভরসা। নিউইয়র্কের জ্যাকসন হাইটস, জ্যামাইকা, ব্রংকস ও ব্রুকলিনে ডোর-টু-ডোর প্রচারণায় অংশ নেন হাজারো বাংলাদেশি নারী-পুরুষ। ভোরবেলা থেকে শুরু হয় প্রচারণা, ভোটের দিন সূর্য ওঠার আগেই তারা লাইন ধরে দাঁড়ান ভোট দিতে।

নিউইয়র্ক টাইমস তাদের প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে, “একটি ছোট বাংলাদেশি কমিউনিটি পুরো নির্বাচনের গতিপথ বদলে দিয়েছে। তারা শুধু ভোট দেয়নি, তারা নেতৃত্ব দিয়েছে।”

যুব সম্প্রদায়ের উচ্ছ্বাস ও অংশগ্রহণ এবার ছিল বিশেষভাবে চোখে পড়ার মতো। তরুণ প্রজন্ম সোশ্যাল মিডিয়া ক্যাম্পেইন, পোস্টার, সভা-সমাবেশে মামদানির পক্ষে ধারাবাহিকভাবে সক্রিয় ভূমিকা রাখে।

আনন্দে প্রবাসী নিউইয়র্ক

নির্বাচনে মামদানির বিজয় নিশ্চিত হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়তেই রাত ১০টার পর থেকে নিউইয়র্কের ব্যস্ততম বাংলাদেশি অধ্যুষিত এলাকাগুলো উৎসবে ভরে ওঠে। জ্যাকসন হাইটস, জ্যামাইকা, ব্রংকস ও ব্রুকলিনে আনন্দ সমাবেশে নেচে-গেয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন প্রবাসীরা। অনেকেই তাৎক্ষণিকভাবে ম্যানহাটনের প্রধান ক্যাম্পেইন অফিসে ছুটে যান মামদানিকে শুভেচ্ছা জানাতে।

বাংলাদেশ সোসাইটি, জ্যামাইকা বাংলাদেশ ফ্রেন্ডস সোসাইটি, জ্যাকসন হাইটস বিজনেস এসোসিয়েশনসহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ একে একে অভিনন্দন জানান বিজয়ী মামদানিকে। তাদের মধ্যে রয়েছেন বাংলাদেশ সোসাইটির সভাপতি আতাউর রহমান সেলিম, সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আলী, ট্রাস্টি বোর্ড চেয়ারম্যান শাহ নেওয়াজ, ফকরুল ইসলাম দেলোয়ার, হারুন ভূঁইয়া, এম এন মজুমদার, আব্দুস শহীদ, আহসান হাবিব, নুরুল আজিম ও কাজি ফৌজিয়া প্রমুখ।

ঐক্যবদ্ধতার প্রতীক এই বিজয়

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এই বিজয় শুধু জোহরান মামদানির নয়—এটি এক প্রবাসী বাংলাদেশি প্রজন্মের রাজনৈতিক পরিপক্বতার প্রতীক। তাদের ঐক্য, প্রচারণা এবং গণতান্ত্রিক অংশগ্রহণ নিউইয়র্ক রাজনীতিতে নতুন ইতিহাস তৈরি করেছে।

যেখানে একসময় অভিবাসীরা কেবল ভোটার ছিলেন, এখন তারা নীতিনির্ধারণের অংশ। এই বিজয়ে প্রতিফলিত হয়েছে সেই স্বপ্ন—যেখানে “বাংলাদেশি আঙ্কেল-আন্টিরা” কেবল ভোট দেন না, নেতৃত্বও তৈরি করেন।

এই পাতার আরো খবর
Our Like Page