Qtv Bangla কুয়ালালামপুর
মালয়েশিয়ার নেগেরি সেম্বিলান রাজ্যের নিলাই এলাকায় একটি ব্যাটারি কারখানায় অভিযান চালিয়ে বাংলাদেশিসহ ১৮৪ জন অবৈধ অভিবাসী শ্রমিককে আটক করেছে দেশটির ইমিগ্রেশন বিভাগ। বুধবার (৫ নভেম্বর) সকালে পরিচালিত এই অভিযানে বিভিন্ন দেশের শ্রমিকদের অভিবাসন আইন ভঙ্গের অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়।
রাজ্য ইমিগ্রেশন বিভাগের পরিচালক কেনিথ তান আই কিয়াং জানান, আটক ব্যক্তিদের মধ্যে ১৬৩ জন পুরুষ এবং ২১ জন নারী রয়েছেন। তারা বাংলাদেশ, মিয়ানমার, পাকিস্তান ও ইন্দোনেশিয়ার নাগরিক। আটককৃতদের বয়স ২০ থেকে ৪৯ বছরের মধ্যে।
প্রায় চার ঘণ্টাব্যাপী এই অভিযানে মোট ২১৯ জন বিদেশি শ্রমিকের বৈধতা যাচাই করা হয়, যার মধ্যে ১৮৪ জনকে আটক করা হয়েছে। ইমিগ্রেশন কর্মকর্তারা জানান, স্থানীয়দের অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযানের আয়োজন করা হয়। অভিযোগে বলা হয়, অনেক শ্রমিক কাজের অনুমতি ছাড়া এবং বৈধ পরিচয়পত্র ছাড়াই সেখানে অবস্থান করছিলেন।
পরিচালক কেনিথ তান বলেন, “অভিযানের সময় কিছু বিদেশি শ্রমিক বিদ্যুৎ সরবরাহ যন্ত্রের আড়ালে ও কারখানার পণ্যের স্তূপের মধ্যে লুকিয়ে পড়েছিল। তবে শেষ পর্যন্ত সবাইকে শনাক্ত ও আটক করা সম্ভব হয়েছে।”
বর্তমানে আটককৃতদের নেগেরি সেম্বিলানের লেংগেং অভিবাসন আটক কেন্দ্রে রাখা হয়েছে। ইমিগ্রেশন বিভাগের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে এবং বিদেশি অভিবাসন আইনের আওতায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মালয়েশিয়ায় সাম্প্রতিক মাসগুলোতে অবৈধ অভিবাসী শ্রমিকদের বিরুদ্ধে অভিযান জোরদার করেছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। এই অভিযানের লক্ষ্য হলো স্থানীয় শ্রমবাজারে অননুমোদিত বিদেশি শ্রমিকের সংখ্যা কমানো এবং শ্রমবাজারের স্থিতিশীলতা বজায় রাখা।
দেশটির ইমিগ্রেশন বিভাগ জানিয়েছে, শুধুমাত্র অক্টোবর মাসেই সারাদেশে সহস্রাধিক অবৈধ শ্রমিককে আটক করা হয়েছে। নিলাইয়ের এই অভিযানও সেই ধারাবাহিক তৎপরতার অংশ।
অন্যদিকে, মালয়েশিয়ায় থাকা বাংলাদেশি শ্রমিক সংগঠনগুলো উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছে, অনেক সময় দালালদের প্রতারণা ও অবৈধ এজেন্সির মাধ্যমে কর্মীদের পাঠানো হয়, যার কারণে তারা বৈধ কাগজপত্রের অভাবে অভিযানের শিকার হন। সংগঠনগুলো সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে—বাংলাদেশ থেকে প্রেরিত শ্রমিকদের নথি ও কর্মচুক্তির স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার জন্য কার্যকর ব্যবস্থা নিতে।
মালয়েশিয়ায় বর্তমানে প্রায় সাড়ে পাঁচ লাখেরও বেশি বাংলাদেশি শ্রমিক কাজ করছেন বলে ধারণা করা হয়। এর মধ্যে অনেকে বৈধ ভিসায় থাকলেও উল্লেখযোগ্যসংখ্যক শ্রমিক চুক্তির মেয়াদোত্তীর্ণ বা নথি নবায়ন না হওয়ায় অবৈধ অবস্থায় রয়েছেন।
ইমিগ্রেশন বিভাগ জানিয়েছে, ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান নিয়মিতভাবে চলবে এবং যে কোনো অবৈধ শ্রমিককে শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে।


