বিএনপির নির্বাচনকেন্দ্রিক নানা সমীকরণ
নিজস্ব প্রতিবেদক | Qtv Bangla HD TV
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপির রাজনৈতিক সমীকরণে তৈরি হয়েছে জটিল চিত্র। দলটি এখনো ৬৩টি আসনে প্রার্থী চূড়ান্ত করতে পারেনি, ফলে ত্যাগী নেতাদের ভাগ্য ঝুলে আছে অনিশ্চয়তার মধ্যে। একই সঙ্গে যুগপৎ আন্দোলনের মিত্র দলগুলোর সঙ্গে আসন ভাগাভাগি নিয়েও চলছে কূটনৈতিক দরকষাকষি।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, বিএনপি সর্বোচ্চ ৪০টি আসন মিত্রদের জন্য ছাড় দেওয়ার চিন্তা করছে। এর মধ্যে যুগপৎ আন্দোলনের শরিক দলগুলোর পাশাপাশি তরুণ রাজনীতিকদের দল জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-কেও অগ্রাধিকার দেওয়া হতে পারে।
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, “যেসব দল যুগপৎ আন্দোলনে আমাদের সঙ্গে ছিল, তাদের প্রতি আমরা শ্রদ্ধাশীল। তারা যে আসনে আগ্রহী, সেখানে বিএনপি প্রার্থী দেয়নি। তাদের তালিকা পাওয়ার পর আমরা চূড়ান্ত প্রার্থী ঘোষণা করব।”
গত সোমবার বিএনপি ২৩৭ আসনে একক প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করেছে। বাকি ৬৩ আসনের মধ্যে কোনগুলো মিত্রদের জন্য, আর কোনগুলো ত্যাগী নেতাদের ভাগ্যে যাবে—এ নিয়ে রাজনৈতিক মহলে চলছে ব্যাপক আলোচনা।
ঢাকার ফাঁকা ৭ আসন নিয়ে জটিল সমীকরণ
ঢাকার ২০টি আসনের মধ্যে ১৩টিতে প্রার্থী ঘোষণা করেছে বিএনপি। বাকি ৭ আসনে মনোনয়নপ্রত্যাশীদের তৎপরতা তুঙ্গে। এর মধ্যে আলোচনায় রয়েছেন—
-
ঢাকা-৭: মীর নেওয়াজ আলী, ইসহাক সরকার, হামিদুর রহমান হামিদ
-
ঢাকা-৯: হাবিব-উন-নবী খান সোহেল, আফরোজা আব্বাস, হাবিবুর রশীদ হাবীব
-
ঢাকা-১০: ব্যারিস্টার নাসিরউদ্দিন আহমেদ অসীম, রবিউল আলম রবি
-
ঢাকা-১৩: আব্দুস সালাম
-
ঢাকা-১৮: এসএম জাহাঙ্গীর
-
ঢাকা-২০: তমিজ উদ্দিন, ইয়াসিন ফেরদৌস মুরাদ, নাজমুল হাসান অভি, সুলতানা আহমেদ
তাছাড়া বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী-কেও রাজধানীর একটি আসনে প্রার্থী করা হতে পারে।
এদিকে মিত্র দলের নেতারা ইতিমধ্যে মাঠে নেমে পড়েছেন। ঢাকা-১৩ আসনে এনডিএম চেয়ারম্যান ববি হাজ্জাজ প্রচারণা চালাচ্ছেন। গুলশান-বনানী এলাকায় বিজেপি চেয়ারম্যান আন্দালিব রহমান পার্থও সক্রিয়। ধারণা করা হচ্ছে, ঢাকায় বিএনপি তিনটি আসন ছাড়তে পারে।
ঢাকার বাইরে ত্যাগীদের অপেক্ষা
রাজধানীর বাইরে গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ, ঝিনাইদহ, বরিশাল ও সুনামগঞ্জসহ বিভিন্ন জেলায় ত্যাগী নেতারা মনোনয়ন প্রত্যাশী।
-
গাজীপুর-১: কাজী সাইয়েদুল আলম বাবুল
-
গাজীপুর-৬: বীর মুক্তিযোদ্ধা হাসান উদ্দিন সরকার
-
নারায়ণগঞ্জ-৪: মুহাম্মদ গিয়াসউদ্দিন ও মামুন মাহমুদ
-
ঝিনাইদহ-৪: সাইফুল ইসলাম ফিরোজ
-
বরিশাল-৩: সেলিমা রহমান ও জয়নাল আবেদিন
-
সুনামগঞ্জ-২: নাছির উদ্দিন চৌধুরী
এদের অনেকেই বিএনপির “দুর্দিনের সৈনিক” হিসেবে পরিচিত, যারা আন্দোলন-সংগ্রামে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন।
মিত্রদের জন্য ১৪ আসন খালি
বিএনপি মিত্র রাজনৈতিক দলের ১৪ জন শীর্ষ নেতার আসনে নিজ প্রার্থী দেয়নি। তাদের মধ্যে রয়েছেন:
-
মাহমুদুর রহমান মান্না (বগুড়া-২)
-
আন্দালিব রহমান পার্থ (ঢাকা-১৭)
-
ববি হাজ্জাজ (ঢাকা-১৩)
-
জোনায়েদ সাকি (ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬)
-
নুরুল হক নুর (পটুয়াখালী-৩)
-
রাশেদ খান (ঝিনাইদহ-২)
-
কর্নেল (অব.) অলি আহমদের ছেলে ওমর ফারুক (চট্টগ্রাম-১৪)
-
শাহাদাত হোসেন সেলিম (লক্ষ্মীপুর-১)
-
ড. ফরিদুজ্জামান ফরহাদ (নড়াইল-২)
-
মোস্তফিজুর রহমান ইরান (ঝালকাঠি-১)
এই তালিকা ইঙ্গিত করছে, বিএনপি তার বৃহত্তর রাজনৈতিক জোটকে একত্র রাখতেই এই আসনগুলো ছাড় দিতে প্রস্তুত।
নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসছে, বিএনপির জন্য আসন সমঝোতার সমীকরণ ততই জটিল হয়ে উঠছে। ত্যাগী নেতারা যেমন মনোনয়নের অপেক্ষায়, তেমনি যুগপৎ আন্দোলনের মিত্ররা চাইছেন নিজেদের প্রভাব খাটাতে। সবকিছু মিলিয়ে বিএনপির চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা হতে যাচ্ছে নির্বাচনী রাজনীতির অন্যতম বড় চমক।


