শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬, ১১:৫৮ অপরাহ্ন
Headline
Wellcome to our website...
গ্যাং লিডার থেকে বিএনপির প্রচারণায়—কে এই সরোয়ার বাবলা?
প্রকাশ কাল | বৃহস্পতিবার, ৬ নভেম্বর, ২০২৫, ৪:৩৭ পূর্বাহ্ন
বাবলা হত্যা, চট্টগ্রাম খুন, বড় সাজ্জাদ, এরশাদ উল্লাহ, চট্টগ্রাম বিএনপি, র‍্যাব অভিযান, বায়েজিদ বোস্তামী, সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলী, চট্টগ্রাম-৮ নির্বাচন, বাংলাদেশ রাজনীতি
সরোয়ার-বাবলা । ছবি সংগৃহীত

চট্টগ্রাম-৮ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী এরশাদ উল্লাহর গণসংযোগে গুলিতে নিহত সরোয়ার হোসেন বাবলা একসময় ছিলেন পুলিশের তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী। দেড় দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি চট্টগ্রামের অপরাধ জগতে সক্রিয় ছিলেন।

একসময় কুখ্যাত ‘এইট মার্ডার’ মামলার আসামি ও আলোচিত সন্ত্রাসী সাজ্জাদ হোসেন খানের সহযোগী হিসেবে পরিচিত ছিলেন বাবলা। পরে গুরু সাজ্জাদের সঙ্গে দ্বন্দ্বে জড়িয়ে নিজস্ব গ্যাং গঠন করেন তিনি। দীর্ঘদিন ধরে সাজ্জাদ ও বাবলার মধ্যে রেষারেষি চলছিল। অবশেষে বুধবার (৫ নভেম্বর) পিঠে পিস্তল ঠেকিয়ে গুলি করে হত্যা করা হয় তাকে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সাজ্জাদ হোসেনের হাত ধরেই অপরাধ জগতে প্রবেশ করেন বাবলা ও তার সহযোগী নুরুন্নবী ম্যাক্সন। অত্যাধুনিক অস্ত্র হাতে তারা চট্টগ্রামে ত্রাস সৃষ্টি করতেন। ২০১১ সালের জুলাইয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সিঙ্গারবিল এলাকা থেকে গ্রেফতার হন ম্যাক্সন। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে চট্টগ্রামের বায়েজিদ এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয় বাবলাকে।

তখন তাদের কাছ থেকে একটি একে-৪৭ রাইফেল, দুটি পিস্তল, একটি এলজি ও বিপুল পরিমাণ গুলি উদ্ধার করে পুলিশ। ২০১৭ সালে জামিনে বেরিয়ে কাতারে চলে যান দুজনেই। কাতারে থেকেও চাঁদাবাজি পরিচালনা করতেন তারা বলে অভিযোগ ছিল পুলিশের। কাতারে মারামারির ঘটনায় গ্রেফতার হয়ে এক মাস জেলে থাকার পর ২০২০ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি বাবলাকে দেশে ফেরত পাঠায় কাতার পুলিশ।

ঢাকায় নেমেই বিমানবন্দরে গ্রেফতার হন বাবলা। এরপর চট্টগ্রামের বায়েজিদ খন্দকীয়া পাড়ায় অভিযান চালিয়ে তার বাসা থেকে ৩০ রাউন্ড গুলিসহ একটি একে-২২ রাইফেল ও একটি এলজি উদ্ধার করে পুলিশ। প্রায় চার বছর কারাভোগ শেষে মুক্তি পেয়ে আবারও আলোচনায় আসেন তিনি।

গত বছরের বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময়ও গ্রেফতার হয়েছিলেন বাবলা। জামিনে মুক্ত হয়ে বিএনপি নেতাদের ঘনিষ্ঠ হন। কারাগারে থাকার সময় চট্টগ্রাম-৪ আসনের বিএনপি নেতা আসলাম চৌধুরীর সঙ্গে তার সম্পর্ক গড়ে ওঠে, যা মুক্তির পর আরও ঘনিষ্ঠ হয়। পরে মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক এরশাদ উল্লাহ ও দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক আবু সুফিয়ানের সঙ্গেও যোগাযোগ স্থাপন করেন।

মাত্র এক মাস আগে বিয়ে করেন বাবলা। তার বিয়েতে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি নেতা এরশাদ উল্লাহ ও আবু সুফিয়ানসহ দলের আরও কয়েকজন নেতা। বিএনপির বিভিন্ন সমাবেশেও তাদের পাশে দেখা গেছে তাকে।

বুধবার বিকেলে চট্টগ্রামের বায়েজিদ বোস্তামী থানার চালিতাতলী এলাকায় এরশাদ উল্লাহর গণসংযোগে গুলিবিদ্ধ হন তিনি। পরে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ (সিএমপি) কমিশনার হাসিব আজিজ বলেন, “প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে, বিএনপি প্রার্থী এরশাদ উল্লাহ টার্গেট ছিলেন না। টার্গেট ছিলেন সরোয়ার বাবলা। তাকে নিশ্চিহ্ন করতেই এ হামলা চালানো হয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, “ঘটনার সঙ্গে কারা জড়িত, সে বিষয়ে আমাদের কাছে কিছু প্রাথমিক তথ্য রয়েছে। নির্বাচনের আগে এমন ঘটনা উদ্বেগজনক। আমরা সব রাজনৈতিক দলকে অনুরোধ করছি, প্রচারণা শুরু করার আগে নিরাপত্তা ব্যবস্থা সম্পর্কে পুলিশকে জানাতে হবে।”

এ বিষয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, “এটি বিএনপির বিষয় নয়। প্রার্থীর গণসংযোগে শত শত মানুষ অংশ নিয়েছিলেন। সরোয়ার বাবলা সেখানে উপস্থিত ছিলেন ঠিকই, তবে এটি দুই সন্ত্রাসী গ্রুপের পুরনো বিরোধের জের।”

এই পাতার আরো খবর
Our Like Page