রবিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৬, ০৫:০৭ পূর্বাহ্ন
Headline
Wellcome to our website...
ধর্মীয় উস্কানির অভিযোগে শেকৃবি ছাত্রী ধনীশ্রী রায় বহিষ্কার
প্রকাশ কাল | বৃহস্পতিবার, ৬ নভেম্বর, ২০২৫, ৮:০৯ অপরাহ্ন
শেকৃবি, ধর্মীয় উস্কানি, ধনীশ্রী রায়, বহিষ্কার, শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, ছাত্র আন্দোলন, বিশ্ববিদ্যালয় শৃঙ্খলা বোর্ড
ছবি: সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক | Qtv Bangla | ঢাকা

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ধর্মীয় উস্কানিমূলক মন্তব্য করার অভিযোগে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শেকৃবি) শিক্ষার্থী ধনীশ্রী রায়কে এক সেমিস্টারের জন্য শিক্ষা কার্যক্রম থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তাকে আবাসিক হল থেকে আজীবনের জন্য বহিষ্কার করেছে।

বৃহস্পতিবার (৬ নভেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার শেখ রেজাউল করিম স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।

ধনীশ্রী রায় বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যানিম্যাল সায়েন্স অ্যান্ড ভেটেরিনারি মেডিসিন অনুষদের মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের মাস্টার্স ২য় সেমিস্টারের শিক্ষার্থী। তিনি গাইবান্ধা সদর উপজেলার মদনপুর গ্রামের স্বপন কুমার রায় ও পার্বতী রায়ের মেয়ে।


বহিষ্কার আদেশে যা বলা হয়েছে

আদেশে উল্লেখ করা হয়,

“শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যানিম্যাল সায়েন্স অ্যান্ড ভেটেরিনারি মেডিসিন অনুষদে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থী ধনীশ্রী রায় ২৪ অক্টোবর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কুরুচিপূর্ণ ও ধর্মীয় উস্কানিমূলক মন্তব্য করেন। তদন্ত কমিটির সুপারিশের আলোকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা বোর্ডের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তাকে আবাসিক হল থেকে আজীবনের জন্য এবং চলমান সেমিস্টার থেকে সাময়িকভাবে বহিষ্কার করা হলো।”

এ নির্দেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে বলে জানানো হয়।


ধর্মীয় উস্কানি অভিযোগের সূত্রপাত

ঘটনার সূত্রপাত ঘটে বুয়েট ছাত্র শ্রীশান্তের বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও ধর্মীয় উস্কানির অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পর। এ ঘটনায় ধনীশ্রী রায় তার ফেসবুক অ্যাকাউন্টে একটি পোস্ট দেন, যেখানে তিনি শ্রীশান্তকে “মানসিকভাবে অসুস্থ” বলে উল্লেখ করেন এবং লেখেন,

“যে ধর্মে কালী, দুর্গা আছে— সেই ধর্মের ছেলে এমনটা করতে পারে না। তাকে হিন্দু বলে এখানে ধর্ম টেনে লাভ নাই। মানুষের কাজের বিচার ধর্ম দিয়ে নয়, মানসিকতা দিয়ে হওয়া উচিত।”

এছাড়া তিনি একটি কমেন্টে ধর্ষণবিরোধী আন্দোলনকারীদের ‘বাস্টার্ড জেনারেশন’ বলেও মন্তব্য করেন।


ক্যাম্পাসে উত্তেজনা ও আন্দোলন

এই মন্তব্যের পর শেকৃবিতে ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। অনেকেই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে ধনীশ্রী রায়ের শাস্তির দাবি জানিয়ে বিক্ষোভ করেন।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ঘটনাটিকে গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে তদন্ত কমিটি গঠন করে। তদন্ত শেষে কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে শৃঙ্খলা বোর্ড বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেয়।


বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের অবস্থান

বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সিনিয়র কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন,

“ধর্মীয় উস্কানিমূলক বক্তব্য কোনো অবস্থাতেই সহনীয় নয়। আমরা বিশ্ববিদ্যালয়কে একটি সহনশীল ও বৈচিত্র্যময় পরিবেশে রাখতে চাই। কেউ সেই সীমানা লঙ্ঘন করলে শাস্তি অনিবার্য।”

বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সামাজিক মাধ্যম আচরণবিধি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। শিক্ষার্থীদের মধ্যে ডিজিটাল নাগরিক সচেতনতা ও সহনশীলতা বাড়ানো এখন সময়ের দাবি বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

এই পাতার আরো খবর
Our Like Page