শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬, ১১:৫৪ অপরাহ্ন
Headline
Wellcome to our website...
দুর্বল পাঁচ ব্যাংকের শেয়ারহোল্ডাররা ক্ষতিপূরণ পাবেন: বাংলাদেশ ব্যাংক
প্রকাশ কাল | বৃহস্পতিবার, ৬ নভেম্বর, ২০২৫, ৮:২২ অপরাহ্ন
বাংলাদেশ ব্যাংক, ব্যাংক রেজল্যুশন অধ্যাদেশ ২০২৫, শেয়ারহোল্ডার ক্ষতিপূরণ, দুর্বল ব্যাংক, ব্যাংক একীভূতকরণ, আইএমএফ, বিশ্বব্যাংক, বিসিএমসি
ছবি: সংগৃহীত

ক্ষতিপূরণ পাবেন দুর্বল ৫ ব্যাংকের শেয়ারহোল্ডাররা

নিজস্ব প্রতিবেদক | Qtv Bangla | ঢাকা 

দুর্বল আর্থিক অবস্থায় থাকা পাঁচটি তফশিলি ব্যাংকের একীভূতকরণ প্রক্রিয়ায় শেয়ারহোল্ডারদের ক্ষতিপূরণ প্রদান করা হবে, জানিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ব্যাংক রেজল্যুশন অধ্যাদেশ, ২০২৫ (বিআরও ২০২৫) অনুযায়ী, যদি কোনো ব্যাংকের লিকুইডেশনের তুলনায় শেয়ারহোল্ডাররা রেজল্যুশন প্রক্রিয়ায় বেশি ক্ষতির সম্মুখীন হন, তবে ক্ষতির তারতম্য অনুযায়ী ক্ষতিপূরণ পাবেন তারা।

বৃহস্পতিবার (৬ নভেম্বর) বাংলাদেশ ব্যাংকের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়।


বিআরও ২০২৫ অনুযায়ী ক্ষতিপূরণের নিয়ম

বাংলাদেশ ব্যাংক জানায়, বিআরও ২০২৫-এর ধারা ৪০ অনুযায়ী ক্ষতিপূরণের পরিমাণ নির্ধারণ করবেন একটি স্বতন্ত্র পেশাদার মূল্যায়নকারী প্রতিষ্ঠান, যাকে রেজল্যুশন প্রক্রিয়া শেষে নিয়োগ দেবে বাংলাদেশ ব্যাংক।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, সরকার ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারী বা শেয়ারহোল্ডারদের স্বার্থ রক্ষার্থে বিশেষ ক্ষতিপূরণ প্রদানের বিষয়টি বিবেচনা করতে পারে।

অধ্যাদেশটি আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ), বিশ্বব্যাংক এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও উন্নয়ন সংস্থা (ওইসিডি)-এর প্রযুক্তিগত সহায়তায় প্রণয়ন করা হয়েছে।


আর্থিক অবস্থার প্রেক্ষাপটে একীভূতকরণের সিদ্ধান্ত

আন্তর্জাতিক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ‘ইকুয়েটর’ পরিচালিত বিশেষ পরিদর্শনে দেখা গেছে, এই ব্যাংকগুলো বিপুল পরিমাণ ক্ষতির মুখে, এবং তাদের নিট সম্পদমূল্য (Net Asset Value – NAV) ঋণাত্মক।

এই অবস্থার প্রেক্ষিতে ব্যাংকিং সেক্টর ক্রাইসিস ম্যানেজমেন্ট কমিটি (বিসিএমসি) গত ২৪ সেপ্টেম্বরের সভায় সিদ্ধান্ত নেয়, পাঁচটি সমস্যাগ্রস্ত ব্যাংকের একীভূতকরণ প্রক্রিয়ায় শেয়ারহোল্ডারদেরও ক্ষতির অংশ বহন করতে হবে।


ক্ষতির ভার ও আইনি কাঠামো

বিআরও ২০২৫-এর ধারা ১৬(২)(ইউ), ২৮(৫), ৩৭(২)(এম) এবং ৩৮(২) অনুযায়ী বাংলাদেশ ব্যাংক বিভিন্ন শ্রেণির অংশীদারদের ওপর ক্ষতি আরোপের ক্ষমতা রাখে। এর আওতায় পড়বেন—

  • শেয়ারহোল্ডার,

  • দায়ী ব্যক্তি,

  • অতিরিক্ত টিয়ার-১ মূলধনধারী,

  • টিয়ার-২ মূলধনধারী, এবং

  • সাব-অর্ডিনেটেড ডেট হোল্ডাররা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, এই কাঠামো আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত রেজল্যুশন টুলস ফ্রেমওয়ার্কের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।


ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের জন্য সরকারি বিবেচনা

যদিও বড় শেয়ারহোল্ডারদের ক্ষতি বহনের বিষয়টি নিশ্চিত, ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ সংরক্ষণে সরকার বিশেষ উদ্যোগ নিতে পারে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়,

“বর্তমান পরিস্থিতিতে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ সংরক্ষণের কোনো সুযোগ নেই; তবে ক্ষুদ্র শেয়ারহোল্ডারদের ক্ষতিপূরণের বিষয়টি সরকার বিবেচনা করতে পারে।”


বিশ্লেষণ: ব্যাংক খাতের সংস্কারের নতুন অধ্যায়

অর্থনীতিবিদদের মতে, বিআরও ২০২৫ কার্যকর হওয়ায় বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতে একটি কাঠামোগত সংস্কারের সূচনা হলো। এই নীতিমালা ব্যাংক ধ্বস প্রতিরোধের পাশাপাশি অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে ভূমিকা রাখবে বলে মনে করা হচ্ছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের এই সিদ্ধান্তকে অনেকেই ‘ঝুঁকিপূর্ণ ব্যাংক সংস্কারের সাহসী পদক্ষেপ’ হিসেবে দেখছেন।

এই পাতার আরো খবর
Our Like Page