নিজস্ব প্রতিবেদক | Qtv Bangla| ঢাকা
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে ফোন করে আনুষ্ঠানিকভাবে আলোচনায় বসার আহ্বান জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের। তিনি জানান, রাজনৈতিক সংলাপের উদ্যোগে ইতোমধ্যে এনসিপি, এবি পার্টিসহ আরও নয়টি দল জামায়াতের সঙ্গে আলোচনায় বসার আগ্রহ প্রকাশ করেছে।
বৃহস্পতিবার (৬ নভেম্বর) রাতে ডা. তাহের সাংবাদিকদের জানান,
“কয়েকদিন আগে রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি আমরা আলোচনার আহ্বান জানিয়েছিলাম। উপদেষ্টা পরিষদ সেই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। আজ আমি বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে ফোন করে আনুষ্ঠানিকভাবে বসার কথা জানিয়েছি।”
ফোনালাপ ও প্রতিক্রিয়া
জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির আরও বলেন,
“মির্জা ফখরুল ভাই ইতিবাচক সাড়া দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীলদের সঙ্গে পরামর্শ করে আমাদের জানাবেন।”
ডা. তাহের আশা প্রকাশ করেন, বিএনপি ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া জানালে দুই দলের মধ্যে সরাসরি আলোচনা অনুষ্ঠিত হতে পারে।
নয় দলের আগ্রহ ও সমন্বয় প্রক্রিয়া
তিনি জানান, বর্তমানে বিভিন্ন দল সময় চেয়ে আলোচনায় বসতে আগ্রহ প্রকাশ করছে।
“এনসিপি, এবি পার্টিসহ নয়টি দল মাঝেমধ্যে বৈঠক করছে। তাদের একজন প্রতিনিধি আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। তারা আমাদের সঙ্গে বসতে আগ্রহী।”
এই প্রক্রিয়াকে রাজনৈতিক সমঝোতার একটি নতুন সম্ভাবনা হিসেবে দেখছেন পর্যবেক্ষকরা, বিশেষ করে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে রাজনৈতিক পরিস্থিতি স্থিতিশীল করার প্রয়োজনীয়তা এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।
রাজনৈতিক সংলাপের প্রেক্ষাপট
সম্প্রতি দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে সংলাপ ও ঐক্যের আহ্বান গুরুত্ব পাচ্ছে। ৫ আগস্টের পরবর্তী রাজনৈতিক পরিবর্তন, সরকার পরিবর্তন ও নির্বাচনমুখী কর্মকাণ্ডের মধ্যেই এই উদ্যোগ এসেছে।
ডা. তাহের বলেন,
“আমরা চেষ্টা করছি আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে বর্তমান পরিস্থিতি ঠিক করা যায় কিনা। পরিস্থিতি ঠিক হলে সকল দলই নির্বাচনের রাস্তায় ঝাঁপিয়ে পড়বে। তখন সিট বণ্টন থেকে শুরু করে আসন সমঝোতা নিয়ে আলোচনা হবে।”
বিশ্লেষণ: ঐক্য রাজনীতির নতুন ইঙ্গিত
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জামায়াতে ইসলামী ও বিএনপির মধ্যে সম্ভাব্য সংলাপ বিরোধী জোট রাজনীতিতে নতুন গতি আনতে পারে। বিশেষ করে একক প্রার্থী ও আসন সমঝোতা নিয়ে সমন্বয় হলে আসন্ন নির্বাচনে বিরোধী শক্তিগুলোর অবস্থান আরও সুসংহত হতে পারে।
এই সংলাপের উদ্যোগকে অনেকেই দেখছেন রাজনৈতিক আস্থা পুনর্গঠনের প্রক্রিয়া হিসেবে, যেখানে আলোচনার মাধ্যমে নির্বাচনের আগে একটি ন্যূনতম ঐক্যমতের কাঠামো তৈরি হতে পারে।


